প্রাকৃতিক দুর্যোগের উপর দায় চাপিয়ে দায়িত্ব এড়াচ্ছে সরকার

প্রকাশিত: ২৫ জুলাই, ২০২৬ ২০:২৮

সু.খবর ছবি

হাওরাঞ্চলের স্থায়ী বন্যা ও জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান, কৃষক—জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং অভিন্ন নদ—নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানিয়েছে হাওরাঞ্চলের বন্যা সমস্যা সমাধান আন্দোলন পরিচালনা আঞ্চলিক কমিটি।


সুনামগঞ্জ পৌর রায়পাড়াস্থ জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ)—এর অস্থায়ী কার্যালয়ে শুক্রবার অনুষ্ঠিত সভায় এই আহ্বান জানানো হয়। আঞ্চলিক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক রত্নাকুর দাস জহরের সভাপতিত্বে এবং এনডিএফ সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম ছদরুলের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান কবির। এছাড়াও বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রতিনিধি তোফাজ্জল হোসেন, সিলেট অঞ্চলের প্রতিনিধি সাদেক মিয়া, সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির আহ্বায়ক সৌরভ ভূষণ দেব, সদস্য সুখেন্দু তালুকদার মিন্টু ও আইয়ুবুর রহমান।


সভায় বক্তারা বলেন, ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যার ক্ষত এখনো হাওরবাসী কাটিয়ে উঠতে পারেনি। এরই মধ্যে চলতি বোরো মৌসুমে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় আবারও ব্যাপক ফসলহানির শিকার হয়েছেন কৃষকরা। বক্তারা অভিযোগ করেন, বন্যা ও জলাবদ্ধতার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান এবং বিজ্ঞানভিত্তিক সমাধানের পরিবর্তে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রাকৃতিক দুর্যোগের উপর দায় চাপিয়ে নিজেদের দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছে। 


বক্তারা আরও বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় হাওরের বোরো ধান ও মৎস্যসম্পদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকলেও অপরিকল্পিত নদী ব্যবস্থাপনা, বেড়িবাঁধ, স্লুইস গেট ও পোল্ডার নির্মাণের কারণে হাওরের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। বক্তারা ১৯৬০—এর দশকে ক্রুগ মিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে গড়ে উঠা পানি ব্যবস্থাপনা এবং পরবর্তীকালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন প্রকল্পের সমালোচনা করেন। পাশাপাশি উজানে অভিন্ন নদ—নদীতে বাঁধ নির্মাণ এবং বর্ষাকালে একতরফাভাবে পানি ছেড়ে দেওয়ার ফলে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান।


সভা থেকে হাওরাঞ্চলের স্থায়ী সমস্যা সমাধানে সাত দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবির মধ্যে রয়েছে— সুরমা, কুশিয়ারা, মনু, ধলাই, খোয়াই, যাদুকাটা, রক্তি, বৌলাই, চলতি, পাটলাই ও সুমেশ্বরী নদীসহ খাল—বিল খনন, নদীর বড় বাঁক সোজাকরণ এবং অপরিকল্পিত বেড়িবাঁধ অপসারণ, পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করা রাস্তা ও স্থাপনা উচ্ছেদ এবং নদ—নদী দখলমুক্ত করা, কৃষিতে সর্বোচ্চ ভর্তুকি, বিনামূল্যে সার, বীজ, ডিজেল, কীটনাশক ও বিদ্যুৎ সরবরাহ, সরকারি অটোমিল স্থাপন এবং কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা।


এছাড়া নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানো, স্বল্পমূল্যে রেশনিং ব্যবস্থা চালু, ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে খাসজমি বণ্টন, বিনাসূদে কৃষিঋণ প্রদান, সার্টিফিকেট মামলা বাতিল, ঝুঁকিপূর্ণ গ্রামে টেকসই গ্রামরক্ষা বাঁধ নির্মাণ, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্পে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি, বন্যাকালে ভাসমান হাসপাতালের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা এবং হাওরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ শিক্ষা সহায়তা নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়।


সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবন—জীবিকা, কৃষি উৎপাদন ও দেশের খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি ও বিজ্ঞানসম্মত পানি ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই। এজন্য কৃষক, শ্রমিক, জেলে, ছাত্রসহ সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান বক্তারা।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার