প্রকাশিত: ০৭ আগস্ট, ২০২৪ ০৬:৪০
সুনামগঞ্জে সংখ্যালঘুদের প্রতিষ্ঠান রক্ষা করতে পাহারা দিচ্ছেন বিভিন্ন কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। মঙ্গলবার ফজরের নামাজের পরে তারা শহরের সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সামনে জড়ো হন। এরপর সারাদিনই পালাক্রমে মন্দিরের সামনে বসেছিলেন তারা।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির শহর সুনামগঞ্জে দুষ্কৃতকারীরা যাতে কোনো নাশকতা করতে না পারে সেজন্য তাদের এই অবস্থান। কওমী মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এমন অবস্থানে স্বস্তিতে রয়েছেন সংখ্যালঘুরাও।
সরেজমিনে শহরের কালীবাড়ি মন্দিরে গিয়ে দেখা গেছে, যোহরের নামাজের সময় মাদ্রাসার ছাত্র শিক্ষকরা ওখানেই আছেন। তারা ভাগাভাগি করে একাংশ নামাজে গেছেন, ওই অংশ ফিরলে অন্যরা নামাজে যাবেন বলে জানালেন।
শহরের কালীবাড়ি মন্দিরের সামনে দেখা হয় উকিলপাড়ায় বাসিন্দা সিদ্ধার্থ এষ এর সঙ্গে। তিনি বললেন, সরকার পরিবর্তনের এই সময়ে নানা পক্ষ বিভিন্ন ধরণের ফন্দিফিকির করে। কোন কোন পক্ষ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি করারও পাঁয়তারা করে। সংখ্যালঘুরা এই নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে আছেন। সুনামগঞ্জ সম্প্রীতির শহর। আমরা বিভিন্ন মন্দিরের সামনে দেখেছি, মাদ্রাসা ও কলেজের শিক্ষার্থীরা মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পাহারায় আছে। তাদের এমন অবস্থানে সকলের মধ্যে স্বস্তি এসছে। এখানে অপ্রীতিকর কোন ঘটনা ঘটবে না বলেই আশা করছি আমরা।
ষোলঘরের শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ মিশনের সামনে বসে থাকা মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ত্বাহা হুসাইন বললেন, এই সম্প্রীতির শহরে কোনদিন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি এবং ঘটবেও না। এরপরও আমরা ওনাদেরকে আশ্বস্ত করতে সামনে বসে আছি। আমরা যেভাবে মসজিদকে পাহারা দেই, এভাবে মন্দিরকেও পাহারা দেব। কেউ উপাসনালয়ে হামলা করতে পারবে না। হিন্দু মুসলিম দাঙ্গা লাগানোর অপচেষ্ঠা যাতে কেউ না করতে পারে সেজন্য আমাদের এই চেষ্টা।
পৌর শহরের শ্রী শ্রী কালীবাড়ি মন্দিরের সামনে বসে থাকা কওমি মাদ্রাসার আলেম আম্মার আহমদ বলেন, পুরো দেশে উৎসমুখর পরিবেশ, শত শত ছাত্রের রক্তের বিনিময়ে আজকের এই নতুন বাংলদেশ। এ অবস্থার মধ্যে অনেক সুযোগ সন্ধানী আছে, যারা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। তারা সুনামগঞ্জে এই কাজ করতে পারবে না। নৈতিক দায়িত্ব থেকে আলেম ওলামাদের পক্ষ থেকে আমরা মন্দিরের সামনে অবস্থান নিয়েছি। প্রতিটি মন্দিরে মাদ্রাসার আলেমরা ছাত্ররা পাহারা দিচ্ছেন। আশাকরি পুরো বাংলাদেশের মানুষ যারা আছেন, সবাই সবার আশপাশে দাঁড়াবেন। যারা ভিন্ন ধর্মের লোকজন তাদেরকে আশ^স্ত করবেন। মন্দির বা ধর্মীয় উপাসনালয়সহ ঘরবাড়ি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দেখে রাখবেন।
ষোলঘরের রামকৃষ্ণ মিশনের স্বামী হৃদয়ানন্দ মহারাজ বললেন, সুনামগঞ্জ হলো সম্প্রীতির শহর। আমার জানা মতে, সুনামগঞ্জের আশেপাশে কোন মন্দিরে এরকম কোন কিছুই হয় নি। সরকার পরিবর্তনের এই মাঝামাঝি সময়ে কোন মন্দিরে হামলা করে আমাদের সকলের ভাবমূর্তি যাতে কেউ নষ্ট না করতে পারে, সেজন্য মাদ্রাসার ছাত্ররা হুজুরেরা, শিক্ষার্থীরা কিছুক্ষণ পরপর এসে মন্দিরগুলো দেখাশোনা করছেন।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন