প্রকাশিত: ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৪ ২১:৩৪
ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা
জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে বদলে যায় সুনামগঞ্জ পৌর শহরের দেয়ালগুলোর রূপ। আন্দোলনকারীরা প্রতিবাদের চিত্রগুলো এই গ্রাফিতির মাধ্যমে দেয়ালে ফুটিয়ে তুলেন। দেয়ালে দেয়ালে গ্রাফিতির মাধ্যমে দেয়া হয় প্রতিবাদ, দেশপ্রেম, সাম্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধের বার্তা।
কিন্তু গত শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) রাতে কে বা কারা সুনামগঞ্জ পৌর শহরের রিভারভিউয়ের দেয়ালের গ্রাফিতি নষ্ট করে দিয়েছে। গ্রাফিতির উপর লেখা হয়েছে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী এহসানুল হক মাহি বলেন, আগে তারা (আওয়ামী লীগ ও দোসররা) রাতের আঁধারে ভোট চুরি করতো। জনগণের অধিকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দুর্নীতি করতো। এখন সংস্কারে বাধা দিয়ে এরা আবারো জনগণের অধিকার ক্ষুন্ন করছে। আমাদের গ্রাফিতি মুছে দিয়ে তারা প্রমাণ করেছে দেশের সংস্কারে সবচেয়ে বড় বাধা আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসরারা।
সংস্কৃতিকর্মী মো. মাহবুব খান বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর আমরা রাত-দিন কষ্ট করে দেয়ালে দেয়ালে গ্রাফিতিগুলো করছিলাম। কিন্তু কে বা কারা এই গ্রাফিতির উপর বিভিন্ন শব্দ লিখে আমাদের গ্রাফিতিগুলো নষ্ট করে দিয়েছে। এজন্য আমরা যারা গ্রাফিতির কাজ করছি বা যারা গ্রাফিতিপ্রেমি সবার খুব খারাপ লেগেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।
মো. আম্মার হুসেন বলেন, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান পরবর্তীতে পুরো বাংলাদেশে স্বাধীনভাবে পথ চলার পাশাপাশি, যুব ও ছাত্র সমাজ দেয়ালে দেয়ালে গ্রাফিতি করেছিলো। ভাতৃত্ব, সম্প্রীতির বাণী গ্রাফিতির মাধ্যমে আমরা দেয়ালে অঙ্কন করেছিলাম। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি, রাতের আঁধারে কে বা কারা আমাদের এই গ্রাফিতিগুলোর উপরে বিভিন্ন স্লোগান লিখে ও কালো কালি দিয়ে সেগুলো মুছে দিয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই, যারা এই কাজটি করেছে তাদেরকে দ্রুত শাস্তির আওতায় আনতে প্রশাসনের কাছে আবেদন জানাই।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির আহ্বায়ক ইমন দ্দোজা আহমদ বলেন, রিভারভিউয়ের দেয়ালে জুলাই বিপ্লবের গ্রাফিতি একটি দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু রাতের আঁধারে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসররা গ্রাফিতিগুলো নষ্ট করে দিয়েছে। গ্রাফিতির উপর ‘জয় বাংলা’ স্লোগান লেখা হয়েছে। জয় বাংলা স্লোগান হাইকোর্ট নিষিদ্ধ বা স্থগিত করেছেন, এটা তো আমাদের বিষয় নয়। তারা কেন আমাদে গ্রাফিতি নষ্ট করলো।
জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, আমরাও হয়তো একটি মামলা করতে পারি। তবে আমরা চাইবো সরকারিভাবেই যেনো একটা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তিনি বলেন, তারা গ্রাফিতির উপর ‘জয় বাংলা’ না লিখে অন্য কোথাও লিখতে পারতো। তারা কেন আমাদের চেতনার উপর আঘাত করলো। যারা এই কাজ করেছে তারা জুলাই বিপ্লবের চেতনা ধারণ করে না, এটা তারই প্রমাণ।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন