প্রকাশিত: ২৫ মার্চ, ২০২৫ ০৮:০০
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের সড়কগুলোর বেহাল অবস্থায় চলাচল দুর্ভোগে পড়েছেন নাগরিকরা। দীর্ঘদিন ধরে সড়ক সংস্কারের কাজ না হওয়ায় স্থানে স্থানে ছোট—বড় অসংখ্য গর্ত তৈরি হয়েছে, খানাখন্দে ভরা সড়কে অল্প বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা ও কাদা জমে থাকে। এসব সড়কে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহনে চলাচলের সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। বৃষ্টি হলে সড়কে চলাচলকারী লোকজনের দুর্ভোগ বেড়ে যায় কয়েকগুণ। শহরের লাখো মানুষকে এই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। দুভোর্গ নিরসনে পৌর নাগরিকরা জরুরী ভিত্তিতে সড়ক সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের জামাইপাড়া থেকে নতুনপাড়া সড়ক, ওয়েজখালির নদীর পাড়ের সড়ক, পাসপোর্ট ও সমাজসেবা অফিসের সামনের সড়ক, পশ্চিম হাজীপাড়া থেকে দক্ষিণ বড়পাড়ার সড়ক, বিসিকের সড়ক এবং ষোলঘর পয়েন্টে চলাচলের জন্য বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে। সড়কগুলোর মধ্যে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে, এতে যাত্রীবাহী গাড়ি, রিক্সা এবং মোটরসাইকেল চালকদের চলাচল বেশ কষ্টকর হয়ে উঠেছে। তবে হালুয়াঘাট ও শিশু পরিবারের সামনের সড়ক সংস্কারের কাজ করতে দেখা গেছে।
এদিকে পাড়া—মহল্লায় নির্দিষ্ট জায়গায় বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা না থাকায় উত্তর আরপিনগর নদীর পাড়, পশ্চিম হাজীপাড়া থেকে দক্ষিণ বড় পাড়া সড়কের পাশে, জামাইপাড়া রোডের কালিবাড়ির মোড়ে, ষোলঘর মাছ বাজারের পাশে এবং হোসেন বখ্ত চত্বর থেকে সরকারি কলেজের হোস্টেল হয়ে ময়নার পয়েন্ট পর্যন্ত সড়কের পাশে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। দুর্গন্ধে এসব সড়কে চলাচল কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
জামাইপাড়ার বাসিন্দা সমাজকর্মী ও জনউদ্যোগের আহ্বায়ক রমেন্দ্র কুমার মিন্টু বললেন, সুনামগঞ্জ পৌরসভার সড়কগুলোর বেহাল অবস্থা হয়েছে। বিশেষ করে জামাইপাড়া, পুরাতন বাসস্টেশন, নতুনপাড়ার সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। ইজিবাইক ও রিক্সায় সড়কে চলাচলকালে ঝাঁকুনিতে সুস্থ্য মানুষের অবস্থাও খারাপ হয়ে যায়। হেঁটেও কষ্ট করে মানুষ চলাফেরা করে, আর রোগীদের কষ্ট বলার মতো নয়। শুধু জামাইপাড়া, নতুনপাড়া নয়, শহরের প্রধান সড়ক আলফাত স্কয়ার থেকে ষোলঘর, সতীশ চন্দ্র বালিকা বিদ্যালয়ের সামনেও সড়ক ভাঙাচোরা।
তিনি বলেন, সড়ক মেরামত করা হলে মানুষের কষ্ট কিছুটা লাঘব হবে। তবে পৌরসভার কোন তৎপরতা আমরা দেখছি না।
আরপিনরগরের বাসিন্দা ও বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম ছদরুল বললেন, বর্জ্য ফেলার ডাস্টবিন না থাকায় পাশে অনেকেই আবর্জনা ফেলে দিচ্ছে। পৌর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগের অভাবের সাথে সাথে নাগরিক সচেতনতারাও ঘাটতি রয়েছে। আমি মনে করি, পৌর কর্তৃপক্ষ সক্রিয় হলে এবং নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি করলে, এই সমস্যাগুলো সমাধান করা যেতে পারে।
দক্ষিণ বড়পাড়ার বাসিন্দা ও যুবরাজনীতিবিদ হাফেজ ত্বাহা হোসাইন বললেন, দক্ষিণ বড়পাড়া ও পশ্চিম হাজী পাড়ার মধ্যখানে প্রায় ১০০ মিটারের মত সড়ক এখনও ইটসলিং রয়ে গেছে। সড়কের দুই মাথাই আরসিসি ঢালাই করা। প্রয়াত মেয়র আয়ুব বখত জগলুল’র আমলে এখানে ইট সলিং হয়েছিল, পরের মেয়র (নাদের বখত) আরসিসি ঢালাই করেছেন। কিন্তু মধ্যখানের ১০০ মিটার অংশ ঢালাই হয় নি। এখন ইটসেলিংগুলোও নষ্ট হয়ে গেছে। এই অংশ দিয়ে চলাচল করা খুবই কষ্টকর হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, এই অংশ কিছু নিচু হওয়াতে বৃষ্টি হলে মানুষের চলাচল এবং যাতায়াত প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এখানে দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হয় আমাদের। প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যেন এই দুর্ভোগ থেকে আমাদেরকে মুক্তি দেওয়া হয় এবং বর্ষার আগে যেন এর সংস্কার করা হয়।
প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র সুনামগঞ্জের কনসালটেন্ট (ফিজিওথেরাপি) ডা. মো. তানজিল হক বলেন, জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রে ৫০ থেকে ৬০ জন বিভিন্ন ক্যাটাগরির প্রতিবন্ধী ও স্ট্রোকজনিত প্যারালাইসিস রোগীরা সেবা নিতে আসেন। সড়কের অবস্থা খুবই বেহাল। বিশেষ করে বৃষ্টিতে সড়কে খানাখন্দ যখন পানিতে ভরে যায়, তখন চলাচলকারী লোকজনের দুর্ভোগ বেড়ে যায় কয়েকগুণ।
তিনি বলেন, বৃষ্টিতে ই—সেবা কেন্দ্র ও জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সামনে পানি জমে যায়। একই সড়কের আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস সহ সরকারি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ভবন রয়েছে। সড়কটি দ্রুত মেরামত ও খানাখন্দ ভরাট করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।
মৎস্য ও অবতরণ কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক মো. আল আমিন বললেন, সড়কের বেহাল অবস্থায় মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে গাড়ি নিয়ে আসতে পারি না। প্রতিনিয়তই এখানে দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়কের কারণে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবসায়ীরা অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। তিনি বলেন, মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের বর্তমান দায়িত্বে যিনি রয়েছেন, তাকে বারবার বলার পরেও কোন কাজ হচ্ছে না। উনারা আমাদের কাছ থেকে একটু সময় নিয়েছিলেন, কিন্তু করে দিচ্ছি বলে আজ প্রায় এক বছর যাবত সড়ক সংস্কার করা হয় নি।
সুনামগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী কালী কৃষ্ণ পাল বললেন, সমাজসেবা ও পাসপোর্ট অফিসের সড়ক আমাদের নয়, তবুও এখানে আমরা কংক্রিট দিয়ে সংস্কার করবো। এলজিডিকেও বলেছি এসড়কটি সংস্কার করে দেওয়ার জন্য। সড়ক ও জনপথ ফোর লেনের সড়ক করবে, তখন এটাও করবে। এছাড়া শহরের অন্যান্য সড়কগুলোর খানাখন্দসহ অবস্থা সম্পর্কে আমরা অবগত আছি, এগুলো দ্রুত সংস্কার করা হবে।
তিনি বলেন, পৌর প্রশাসক আসার পর পরিষ্কার—পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে জোর দেওয়া হয়েছে, কঠোরভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে। রাতারাতি বদলানো কঠিন। আস্তে আস্তে সব কিছুরই ক্রমশ: উন্নতি হচ্ছে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন