প্রকাশিত: ৩০ মার্চ, ২০২৫ ০০:১৮
আগে কুরবানীর ঈদকে কেন্দ্র করে জাল টাকার তৎপরতা লক্ষ্য করা গেলেও এবার রোজার ঈদের বাজারে দেখা যাচ্ছে জাল টাকার ছড়াছড়ি। ঈদ উপলক্ষে কেনাকাটার ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সুনামগঞ্জে কিছু অসাধু চক্র বাজারে ছড়িয়ে দিচ্ছে জাল টাকার নোট। ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট দিয়ে প্রকাশ্যে বিক্রয় হচ্ছে জাল নোট! এতে উদ্বিগ্ন স্থানীয় ক্রেতা—বিক্রেতারা।
সুনামগঞ্জ শহরের বিভিন্ন বাজার, বিশেষ করে শপিং মল, কুরিয়ার সার্ভিস সহ হাট—বাজারে ক্রেতা—বিক্রেতারা শিকার হচ্ছেন জাল টাকার। ঈদের আগে থেকেই চোরাকারবারিরা এই নোটগুলো ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ শুরু করেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বেশ কিছু দোকানে কৌশলে ইতিমধ্যে জালনোট দিয়েছে এইচক্র, যা সাধারণ চোখে সহজেই ধরা পড়ছে না। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন দোকানীরা।
শুক্রবার ভোর রাতে “সুনামগঞ্জের বেচা—কেনা [ক্রয়—বিক্রয় গ্রুপ শুধু মাত্র সুনামগঞ্জ শহর]” নামের ১০ হাজার সদস্যের একটি ফেসবুক গ্রুপে দেখা যায়, মাস্টার মাইন্ড নামের একটি আইডি থেকে কিছু জাল টাকার বান্ডেলের ছবি দিয়ে পোস্ট করা হয়েছে। পোস্টে লিখা রয়েছে, “কারো এ গ্রেড মাল লাগলে, ইনবক্সে মেসেজ দিবেন, হাই কোয়ালিটির মাল হবে, ব্যাংক ছাড়া সব জায়গায় চালাবেন, অফসেট মেশিন এর মাল, অরিজিনাল কটন ফাইভার পেপার ইউজ করা হয়, পানিতে ভিজালেও কালার নষ্ট হবে না, সাথে থাকবেন, লাভবান হবেন।”
নেজা প্লাজার আদর ফ্যাশনের এক কর্মচারী বলেন, ‘বৃহস্পতিবারে এক ক্রেতা পাঞ্জাবী ক্রয় করে ১ হাজার টাকা দিলে আমাদের কাছে সন্দেহজনক মনে হয়, তাই চেঞ্জ করে দেওয়ার জন্য বলি। তখন তিনি কারণ জানতে চাইলে, আমরা বলি এটি জাল টাকা। পরে আমরা ওনাকে টাকাটি নষ্ট বা ছিঁড়ে ফেলার কথা বললেও তিনি সেটি করেন নি।’
শহরের এক কুরিয়ার সার্ভিসের স্টাফ বললেন, ঈদ উপলক্ষে আমাদের কন্ডিশনের মালামাল বেশি আসে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে জাল চক্রের সদস্যরা আমাদের ঠকার অপচেষ্টা করছে। অনেক সচেতন থাকার পরেও গত মঙ্গলবার নতুন চকচকে একটি টাকা দেখে আমাদের সন্দেহ্ হয়, পরে ব্যাংকে টাকা জমা দিতে গিয়ে এক কর্মকর্তা বললেন, এটি জাল নোট। এসময় তিনি এটি নষ্ট করে দেন।
সুরমা মার্কেটের আরেক ব্যবসায়ী বললেন, এই ধরনের ঘটনা খুবই অস্বস্তিকর এবং ঈদের সময় এটি অনেক বেশি ঘটে। সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, যাতে এই চক্র এমন কাজ করতে সাহস না পায়।
ডাচ বাংলা ব্যাংকের সুনামগঞ্জ শাখার ম্যানেজার মোহাম্মদ গোলাম আজাদ বললেন, কুরবানীর ঈদের সময়ে হাটে আমরা সবগুলো ব্যাংক মিলে জাল নোট চেক করার মেশিনসহ নিজেরা উপস্থিত থাকি। কিন্তু এই ঈদে তেমন কোন সুযোগ না থাকায় আমাদের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নিতে পারছি না। তবে প্রতিটি ব্যাংকে জাল নোট ধরার মেশিন রয়েছে, বিধায় আমরা আমাদের জায়গা থেকে সতর্ক থাকতে পারি। সাধারণত ঈদের সময় এই চক্রটা সক্রিয় হয়ে ওঠে, তাই বলবো আমাদের নিজেদেরকে সতর্ক থাকতে হবে।
পুলিশ সুপার তোফায়েল আহাম্মেদ বলেন, জাল টাকার ব্যাপারে আমাদের কাছে কোন অভিযোগ আসে নি। অভিযোগ বা তথ্য পেলে, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবো।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন