শঙ্কিত জেলার ফ্রিল্যান্সাররা

প্রকাশিত: ২২ এপ্রিল, ২০২৫ ০৮:২৪

সুনামগঞ্জের তরুণ প্রজন্মের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ফ্রিল্যান্সিং পেশার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অনলাইন মার্কেটপ্লেসে কাজ করে নিজেদের কর্মজীবন গড়ে তুলেছেন। ঘরে বসেই বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী এসব তরুণ-তরুণী দীর্ঘদিন ধরেই ফাইভার, আপওয়ার্ক, ফ্রিল্যান্সার.কম, এ্যামাজনের কেডিপিসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ভালো সুনাম গড়ে তুলছিলেন। সম্প্রতি সুনামগঞ্জে ঘটে যাওয়া কয়েকটি নেতিবাচক ঘটনার কারণে অনলাইন মার্কেটিংয়ের বিশ্ববাজারে ফ্রিল্যান্সারদের ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে পড়েছে বলে দাবি করছেন ফ্রিল্যান্সাররা।
অ্যামাজনের একটি মার্কেটপ্লেস কেডিপিতে কিছু প্রতারণামূলক ঘটনা ঘটেছে যা নিয়ে দুইপক্ষ পরস্পরকে দোষলেও ক্ষতি হচ্ছে এই খাতে জড়িত ফ্রিল্যান্সারদের। 
সুনামগঞ্জ আইটি’র পরিচালক হোসাইন আহমেদর বিরুদ্ধে এড রান করিয়ে কেডিপি’র বুক সেল এনে দেওয়ার কথা বলে প্রতারণা বা স্ক্যাম করে কাজ দিচ্ছেন ক্লায়েন্টদের এমন অভিযোগ ভারতীয় এক নাগরিক করলেও, তিনি  (হোসাইন আহমদ) উল্টো ভারতীয় ওই ফ্রিল্যান্সারের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ করছেন। 
হোসাইন আহমেদের ক্লায়েন্ট ভারতীয় নাগরিক দিপ কুমার নাগ গত বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) রাতে তার ফেসবুক পোস্টে লিখেন, আমি দিপ কুমার নাগ। আমি একজন ইন্ডিয়ান। আমি হুসাইন সাহেবের Amazon KDP এর একজন ছাত্র। উনার থেকে কোর্স করার পর জানতে পারি উনি এমাজন কেডিপি এর সার্ভিস ও প্রোভাইড করে থাকেন এবং উনি যেহেতু এই সার্ভিসের উপর কোর্স করান তাই উনাকে বিশ্বাস করাটা সহজ।
সেজন্য উনার সাথে আমি একটা কন্ট্রাক্ট করি। কন্ট্রাক্টটা এমন ছিলো যে, আমি যত ইনভেস্ট করবো তার ২ গুণ প্রফিট করে দিবেন এ্যামাজনে মার্কেটিং করে। আর উনাকে সার্ভিস চার্জ হিসাবে দিতে হবে ১ হাজার ডলারের জন্য ১০০ ডলার করে। সেই ভাবে ধাপে ধাপে আমি উনাকে টোটাল ৭ হাজার ৮০০ শত ডলার দিয়ে দেই উনার পায়োনিয়ার একাউন্ট এর মধ্যে। উনার সাথে চুক্তি করার ৪/৫ দিনে মধ্যে আমার এমাজন একাউন্টে ১৮ হাজার ডলারের একটা সেল দেখতে পাই। আমি তো দেখে মহাখুশি। খুশি হওয়ারই কথা ৮ হাজার ডলার ইনভেস্ট করেছি। 
কিন্তু প্রবলেম শুরু হয় কয়েকদিন পর থেকেই। হঠাৎ দেখি আমার এ্যাকাউন্ট ডিজেবল এবং এ্যামাজন থেকে একটা মেইল আসলো যেখানে লিখা যে, আমার এ্যাকাউন্ট থেকে স্ক্যাম ভাবে প্রোডাক্ট বিক্রয় হয়েছে, তাই ডিজেবল করে দিয়েছে।
আমি এটা দেকে হুসাইন সাহেবকে জানালে, উনি বলেন যে, এটা প্রবলেম নয়। হঠাৎ এত বেশি বিক্রি হলে মাঝেমধ্যে এমন হয়। এ্যাকাউন্ট ব্যাক দিবে। তো উনি আমাকে একটা মেইল করতে বলেন, আমি মেইল করি। মেইল করার কিছুদিন পর এ্যাকাউন্ট ব্ল্যাক দিয়ে দেয়। কিন্তু সাথে এমাজন থেকে আরেকটা মেইল করে বলে দেয় যে, আপনার একাউন্টটি ব্ল্যাক দিচ্ছি কিন্তু আপনার একাউন্ট থেকে বিক্রি হওয়া প্রোডাক্টগুলোর এখনো কোনো সঠিক ইনফরমেশন আমরা পাই নাই। তাই আপনার এ্যাকাউন্ট এর টাকাগুলো আমরা হোল্ডিং করে রাখছি।
এটা যখন আমি হুসাইন সাহেব কে জানালাম, উনি বললেন যে, একাউন্ট যেহেতু দিয়েছে, টাকাও দিবে অপেক্ষা করেন। অপেক্ষা করতে থাকলাম। অন্যদিকে, এ্যামাজনের রয়েলিটি তুলতে ২ মাস সময় নেয় তারা। আমারো যখন ২ মাস হবে হবে তার ঠিক এক সপ্তাহ আগে আমাকে এ্যামাজন থেকে আরেকটি মেইল করে এবং জানায় যে, আপনার এ্যাকাউন্ট এর টাকাগুলো আমরা হোল্ডিং থেকে রিমুভ করে দিচ্ছি। এই টাকা আপনি পাবেন না, কারণ আপনার একাউন্ট থেকে কোনো ধরনের বৈধ বিক্রি ডকুমেন্টস আমরা পাইনি। যা হয়েছে পুরোটাই স্ক্যাম করেছেন। এটা দেখেতো আমি আকাশ থেকে পড়লাম। সাথে সাথে আমি হুসাইন সাহেবকে জানালে উনি আর রেসপন্স করছেন না, কল ধরতেছে না, এসএমএস এর রিপ্লে দিচ্ছেন না। 
বেশ কিছুদিন পর রেসপন্স করে বলতেছেন যে, উনি দুবাই চলে গিয়েছিলেন বিজনেস এর একটা কাজে। পরে আমি জানতে পারি যে, উনার নাকি পাসপোর্টটাও নাই। ২ মাস যখন হয়ে গেলো তখন আমি আমার টাকা পাচ্ছি না এবং উনার থেকেও কার্যকরি কোনো পদক্ষেপ না পেয়ে সুনামগঞ্জের আরেকজন কেডেপি এক্সপার্ট উনিও আমার ট্রেইনার উনাকে জানাই বিষয়টি। উনার নাম হচ্ছে শাহজাহান। শাহজাহান ভাই আমার থেকে বিস্তারিত জানার পর বলতেছেন যে, সে তো আপনার সাথে স্ক্যাম করেছে। এভাবে কখনো সেল জেনারেট করা যায় না। তখন শাহজাহান ভাই আমাকে বললেন যে, আমরা তার সাথে কথা বলে এটার একটা সমাধান করার চেষ্টা করছি।
উনারা কথা বলে, হুসাইন সাহেবের আরো কয়েকজন বন্ধুদেরকে সাথে নিয়ে একটা গুগল মিট’এ আমরা বসি। বসার পর সবাই যখন জিজ্ঞেস করলেন যে, হুসাইন আপনি কী করেছেন একটু বলেন, তখন তিনি বললেন যে, আমাকে বলছে এড চালানোর জন্য, আমি এড চালিয়েছি। তখন তারা বললো যে, আপনি যে এড চালালেন এড এর ডেস বোর্ড দেখান এবং আপনি যে এড চালাইছেন আপনি কি আপনার ক্লায়েন্টের একাউন্টের এক্সেস নিয়েছেন?
হুসাইন সাহেব বললেন যে, একাউন্টের এক্সেস নেওয়া হয় নি, আমি এড চালাই এমাজন এজেন্সি ডেস বোর্ড থেকে। ত তারা সেই এমাজন এজেন্সি ডেস বোর্ড দেখতে চাইলে বললেন, এটি আমার London এর এজেন্সি থেকে মেইনটেইন হয়, তাই এখন দেখাতে পারবো না।
(একটা কথা বলে রাখি, এজেন্সি ডেস বোর্ড বলতে এ্যামাজনের এমন কোনো সার্ভিস বা প্রোডাক্ট নাই এবং যে, একাউন্ট এর জন্য মার্কেটিং করবে, সেই এ্যাকাউন্ট এর এক্সেস ছাড়া এড মার্কেটে করতে পারবে না। এটা এমাজন এ্যালাও করে না) পরে উনারা বললেন, আপনি যেহেতু মার্কেটিং করেছেন, আর আপনাকে আপনার কাজের জন্য ও একটা চার্জ দেওয়া হয়েছে, তাই আপনি ডেস বোর্ড থেকে আমাদেরকে আপনার কাজের রিপোর্ট দেখাবেন এবং ডেসবোর্ডে কত ডলার খরচ করেছেন এটা দেখাবেন। আমরা যদি ডেসবোর্ড থেকে হিসাব পেয়ে যাই তাহলে আপনার কোনো প্রবলেম নাই। তখন এ্যামাজনের সাথে আমরা বুঝবো বিষয়টি। উনি বললেন সম্মত হলেন। ঐ মিটিংয়ের টোটাল রেকর্ড আমার কাছে আছে পুরো ২ ঘন্টা। এই কথা বলে যাওয়ার ২দিন পর বলতেছেন যে, উনি ডেসবোর্ড দেখাবে না। ডেসবোর্ড দেখালে নাকি উনার কাজের সিক্রেট প্রকাশ হবে। শেষে আমি বাংলাদেশে গিয়ে শাহজাহান ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করি এবং আরেকজন কোর্টে একটা দায়িত্বে আছেন উনার সাথে যোগাযোগ করি। এরপর এই বিষয়টি চলে যায় সিআইডি অফিসে। সবার সাথে কথা বলে আমরা সুনামগঞ্জ আইটির অফিসে বসি সন্ধ্যার পর। ওখানে একজন আইনজীবী, ২ জন সিআইডি অফিসার, সুনামগঞ্জ শহরের কয়েকজন ব্যবসায়ী এবং আরেকজন আইটি এক্সপার্ট হোসাইন সাহেবের বন্ধু হন তিনিসহ সবাই বসি আমরা। 
১২/১৪ জন একসঙ্গে বসার পর ওখানে সবকিছু নিয়ে আলোচনা হলো, তিনি বলেন উনি কোনো মার্কেটিং করেননি, উনি আমার এ্যাকাউন্ট থেকে নিজেই প্রোডাক্ট কিনেছে। নিজে নিজে কিনে আমাকে বলছে যে, দেখেন আপনার সেলস এত। এখন কিভাবে কি করেছে সেটা আমি জানি না।
তারপর ঐদিন সিদ্ধান্ত হলো যে, উনি যা করেছেন সমস্যা নেই, উনি এমাজনের সাথে কথা বলে আমার টাকাগুলো ফেরত এনে দিবে। এজন্য এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হলো। তিনদিন পর উনার আর কোনে পাত্তা নাই, উনি বসতে রাজি নয়। প্রশাসনও এই বিষয়ে কোন সহায়তা করলো না। দ্বিতীয় বার ওখানে গিয়ে চেষ্টা করেও কোন লাভ হয় নি। এই ঘটনায় তার প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ফেসবুক স্ট্যটাসে উল্লেখ করেন তিনি। 
ঢাকা উত্তরার আলিশা নূর নামের আরেক ক্লায়েন্ট তার ফেসবুকে লিখেন, আমি Amazon KDP তে মার্কেটিং এর জন্য হোসাইন সাহেবের সাথে চুক্তি করি। সেই সুবাদে উনাকে আমি ৩০ হাজার টাকা পাঠাই। যার প্রমাণ নিচে এড করা আছে। কিন্তু উনি আমার মার্কেটিং এর কাজ কিভাবে করেছে আমি জানি না। উনার মার্কেটিং এর কাজের জন্য আমার এ্যাকাউন্ট ডিজেবল করে দিয়েছে, এমাজন থেকে এবং উনি যে আমার জন্য মার্কেটিং করেছেন কোথায় কিভাবে খরচ করেছেন তার কোনো ধরনের রিপোর্ট উনি শেয়ার করেন নাই এবং করছেও না। ফ্রিলান্সার ভাই বোনেরা সহজে বুঝবেন আমার সাথে কি ধরনের স্ক্যাম করেছে এই শিক্ষক নামের ‘বাটপার’ হুসাইন। 
উনি আমাকে কিছু ফেইক বিক্রি দেখিয়েছে। আমি কেনো ফেইক বলছি? যেহেতু উনি মার্কেটিং এর মাধ্যমে বিক্রিটা এনেছে, কখন কত ডলার খরচ করেছে তার প্রমাণ থাকে সব এমাজন এর ডেসবোর্ড। কিন্তু উনি এর কিছুই দেখাতে পারছেন না।
এখন বলতে পারেন যে, তাহলে আমার এ্যাকাউন্টে বিক্রি শো করলো কিভাবে?  এর উত্তর হলো। এ্যামাজন না শুধু অনলাইনে এমন ফেইক বিক্রি দেখানো যায়, কিন্তু যখন যেই কোম্পানির সাথে এমন বাটপারি করা হয়, তারা যখন বুঝতে পারে, তখন তারা সেলারের একাউন্ট ডিজেবল করে দেয়, যেমনি ভাবে আমারটা করে দিয়েছে।
এ্যামাজন যে, আমার এ্যাকাউন্ট ডিজেবল করেছে, উনারে টাকা পাঠিয়েছি এবং উনার সাথে যে, চুক্তি করেছি। এই সবকিছুর প্রমাণ আমি এড করে দিয়েছি আপনারা দেখে নিতে পারেন। এখন উনি আর আমার সাথে কোনো ধরনের যোগাযোগ রাখছে না, উনি আমার ফোন ও রিসিভ করছে না। এজন্য আমি বাধ্য হয়ে সুনামগঞ্জ হেল্প লাইনে পোস্ট করেছি। আমার সময় এবং একাউন্ট টাতো আর ফিরে পাবো না। কিন্তু আপনাদের সাহায্যে যেনো আমি আমার টাকা গুলো ফেরত পাই।
সুনামগঞ্জের ফ্রিল্যান্সার জালাল উদ্দিন বলেন, যখন আমরা গুগল মিটে মিটিং করি, তখন আমরা শতভাগ নিশ্চিত হই যে সে (হোসাইন) গ্রাহকের সাথে প্রতারণা করেছে। পরে আমরা সমাধান করার চেষ্টা করেছি, আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি, একজন ক্লায়েন্টকে মামলা-মোকদ্দমার ভয় দেখিয়েছে। প্রশাসন হোসাইনকে সাপোর্ট করার কারণে ভুক্তভোগীরা পোস্ট করেছে সোশ্যাল মিডিয়াতে। এই ধরনের ঘটনা আমাদের সুনামগঞ্জ ফ্রিল্যান্সার কমিউনিটিতে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং পড়ছে। কমিউনিটিতে এসব নিয়ে ইতোমধ্যে কথাবার্তা চলতেছে। আমাদের যে ক্ষতিটা হতে পারে- সেটা হচ্ছে, বাইরের দেশে ক্লায়েন্টদের কাছে একটা ভুল মেসেজ যেতে পারে, যে এদেরকে দিয়ে কাজ করালে, তারা এই ধরনের স্ক্যাম করে। এই ধরনের একটা মেসেজ অটোমেটিক জেনারেট হয়ে যায় যা বলতে হয় না। তাতে আইন-শৃঙ্খলার ভাবমূর্তি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তখন আমাদের ফ্রিল্যান্সার ইন্ডাস্ট্রিতে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বাংলাদেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স যোগানদাতা হচ্ছে এই ফ্রিল্যান্সার ইন্ডাস্ট্রি।
অ্যামাজনের কেডিপি তে কাজ করা শাহজাহান বলেন, আমি হোসাইনের বিজনেস পার্টনার ছিলাম, তিন বছরের চুক্তি ছিল তার সাথে। আমি বুঝতে পারি সে বিভিন্ন ক্লায়েন্টদের সাথে প্রতারণা করে। একারণে এক বছরও হয় নাই তার আগেই আমি তার সাথে চুক্তি ভেঙে দেই। সে কেডিপিতে কাজ করে ঠিক আছে কিন্তু তার কাজটা পুরোপুরি হচ্ছে স্ক্যাম ওয়েতে। লাস্ট যে কয়েকটা ক্লায়েন্ট এর কাজ করছে যেগুলো আলোচনা এসেছে, সবগুলোই সে একইভাবে স্ক্যাম ওয়েতে কাজ করেছে। রিসেন্ট যে ইন্ডিয়ান ক্লায়েন্ট উনাকে পেমেন্ট করেছে যে, তুমি আমার বুকগুলো এড রান করিয়ে  দিবে। কিন্তু সে এড রান না করে পুরোপুরি ফেইক ওয়েতে পার্সেস করে থাকে বুঝিয়ে দিয়েছে, যে তোমার এগুলো মার্কেটিং করে সেল দিয়েছি। যার ফলে ক্লায়েন্টের উল্টো ক্ষতি হয়েছে। তার এ ধরনের কাজে এই ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক প্রভাব পড়বে, কারণ এটা হচ্ছে পুরোপুরি একটা প্রতারণা। ক্লায়েন্টের কাছ থেকে টাকা নিয়ে যদি প্রোপারলি কাজ না করে দিয়ে উল্টো আরো স্ক্যাম ওয়েতে কাজ করে দিলাম সেটা হচ্ছে প্রতারণা। আমাদের এ কমিউনিটিতে যদি প্রতারণা ঢুকে যায়, তখন একটা কলঙ্ক তৈরি হয়ে যাবে। বাইরের ক্লায়েন্টদের কাছে আমাদের আস্থা কমে যাবে। 
সুনামগঞ্জ আইটি’র পরিচালক হোসাইন আহমেদ বলেন, আমরা এই বিষয়টি নিয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় গত ৫ ফেব্রæয়ারি বসে সমাধানে যাই। সদর থানার এএসআই আবু বকর সিদ্দিক ছিলেন। সম্পূর্ণ এটা সমাধান করার মধ্যে। তিনি সুন্দর করে সমাধান করে দিয়েছেন। তিনি আমাদের এবং তাদের উভয়পক্ষ থেকে মুচলেকা নিয়েছেন। যে এই বিষয়টা নিয়ে আর কোন আলোচনা হবে না এটা এখানেই শেষ। 
কি ধরনের সমাধান হয়েছিল এই প্রতিবেদক জানতে চাইলে তিনি বলেন, উপযুক্ত প্রমাণ আমি দায়ের করেছি এবং তারাও দায়ের করেছে। এবং ওইখানে আমার প্রমাণ গ্রান্টেড হয়েছে। আমার প্রমাণ গ্রান্টেড হওয়ার পরে বলা হয়েছে যে, এটার সাথে আইটি জড়িত নয়, আইটিকে নিয়ে কোন ধরনের অপপ্রচার চালানো যাবে না। এ বিষয়ে উভয়পক্ষের মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সে আবারও অপপ্রচার চালাচ্ছে, আমরা এবিষয়ে প্রশাসনের আশ্রয় নিচ্ছি এবং আশাকরছি প্রশাসন এই বিষয়টি দেখবে।
তিনি আরও বলেন, উত্তরার আলিশা নূর যেটি বলছেন, সে এক সাথে ৩০ হাজার টাকা পাঠায় নি। উনি প্রতিবার কাজের জন্য আলাদা আলাদা করে পেমেন্ট করেছে এবং উনার সর্বশেষ কাজ করে দেওয়ার পরে খুশি হয়ে ঢাকা থেকে গিফটও পাঠিয়েছেন। তাই উনার এমন অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। 
এ এস আই আবু বকর সিদ্দিক বলেন, এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ হলে, উভয় পক্ষকে থানায় ডাকি। উভয়পক্ষ হোসাইন ও রতন মিয়া (ভারতের নাগরিক দিপ কুমার নাগ রতন মিয়া আরিফ নামের একজন কে  অ্যাটর্নি পাওয়ার দিয়েছিলেন) আসেন। এছাড়াও তাদের সাথে আরও কয়েকজন আসেন। সকলেই একে অন্যের পরিচিত। এসময় উভয়পক্ষ নিজেরাই আপোষ করে নেন। বিষয়টা নিয়ে যেন আর না বাড়াবাড়ি না হয় সেজন্য আমি উভয়পক্ষের কাছ থেকে মুচলেকা গ্রহণ করি।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার