প্রকাশিত: ১৩ জুলাই, ২০২৫ ২২:০২
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল
সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসকরা সাপের কামড়ে মুমূষুর্ এক রোগীর জীবন বাঁচিয়েছেন। চিকিৎসকদের নিরলস প্রচেষ্টায় রোগী এখন শঙ্কামুক্ত।
জানা যায়, গত শনিবার সকাল সাড়ে ৭টায় দিরাই উপজেলার জগদল গ্রামের মর্জিনা বেগম (৩৫) নামের ওই মহিলা রোগীকে সাপের কামড়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এরপর মেডিসিন ওয়ার্ডের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডাক্তার বিষ্ণু প্রসাদ চন্দ্র, আরএমও রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে মেডিসিন ওয়ার্ড, শিশু ওয়ার্ড, অ্যানেসথেসিয়া ওয়ার্ডের চিকিৎসকবৃন্দ ও নার্সিং মেট্রোন বোরহান উদ্দিন, ওয়ার্ড ইনচার্জ মাহমুদা বেগমসহ সকলের নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং প্রতিষেধক প্রয়োগের মাধ্যমে রোগীর শারীরিক অবস্থার উন্নতি ঘটান।
ডা. বিষ্ণু প্রসাদ চন্দ বলেন, আমাদের এই অঞ্চলে বিষাক্ত সাপের উপদ্রব তুলনামূলক কম হলেও, এই রোগীকে যে সাপে কামড় দিয়েছিল সেটি ছিল বিষাক্ত। হাসপাতালে আনার পর আমরা দেখি রোগী কথা বলতে পারছিলেন না এবং তাঁর চোখের পাপড়ি পড়ে গিয়েছিল। এই অবস্থায় আমরা ঝুঁকি নিয়েই অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেই, কারণ অ্যান্টিভেনম ছাড়া তাঁকে বাঁচানো সম্ভব ছিল না। মেডিসিনের জুনিয়র কনসালটেন্ট, কার্ডিওলজিস্ট, অ্যানেসথেসিয়া ডিপার্টমেন্টের ডাক্তার এবং আরএমও রফিক সহ সকলের উপস্থিতিতে অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়। এরপর রোগীর অবস্থা ধীরে ধীরে উন্নতি হয় এবং আজ তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ্য।
তিনি আরও বলেন, সাপে কামড়ালে দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসা জরুরি। যে অংশে কামড় দিয়েছে, সেই অংশটি বেশি নাড়াচাড়া করা যাবে না এবং হালকা করে বেঁধে রাখতে হবে। খুব বেশি শক্ত করে বাঁধা যাবে না, এতে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে অঙ্গহানির আশঙ্কা থাকে। হাসপাতালে আসার পর বাকি চিকিৎসার দায়িত্ব চিকিৎসকদের।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের আরএমও রফিকুল ইসলাম বলেন, আশঙ্কাজনক অবস্থায় রোগী যখন আমাদের কাছে আসেন, তখন আমরা তাঁর বর্ণনা শুনি এবং কামড়ের স্থান নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করি। বিষাক্ত সাপের কামড়ের সব লক্ষণই ধীরে ধীরে প্রকাশ পাচ্ছিল। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে বিষাক্ত সাপের কামড়ের জন্য প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসা পদ্ধতি শুরু করি। সৌভাগ্যবশত, সে সময় হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম পর্যাপ্ত পরিমাণে ছিল, যা অনেক সময় অপ্রতুল থাকে। এর আগে এমন অনেক রোগীকে আমরা রেফার করতে বাধ্য হয়েছি। কিন্তু শনিবার আমাদের কাছে অ্যান্টিভেনম থাকায় এবং সকল চিকিৎসকের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা রোগীকে বিষমুক্ত করতে সফল হয়েছি। রোগী এখন শঙ্কামুক্ত এবং পুরোপুরি সুস্থ্য আছেন।
তিনি আরও বলেন, এখনো অনেক মানুষ গ্রামেগঞ্জে ওঝা বা ঝাড়ফুঁক দিয়ে সাপের বিষ নামানোর চেষ্টা করেন, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। সাপে কামড়ানো রোগীদের জীবন বাঁচাতে দ্রুত এবং সঠিক আধুনিক চিকিৎসা অপরিহার্য।
মর্জিনা বেগম বলেন, আমার স্বামী আব্দুল মুকিত শান্তিগঞ্জে ওয়ার্কশপের কাজ করেন। আমরা শান্তিগঞ্জ থানার পাশে একটি ভাড়া বাড়ীতে থাকি। শনিবার ভোর সাড়ে সাতটায় পানি ফেলার জন্য দরজা খুলে বের হওয়া মাত্রই আমার পায়ে একটি সাপে কামড় দেয়, তবে সেটি কোন ধরণের সাপ ছিল, তা আমি চিনতে পারি নি। আমার পরিবারের লোকজন আমাকে দ্রুত শান্তিগঞ্জ মেডিকেল কলেজে নিয়ে যায়, সেখান থেকে তারা সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে রেফার করে। এখানে আসার পর আমি আর কোনো কিছু বলতে পারি নি, আমার জ্ঞান ছিল না। তবে আজকে আমি মোটামুটি সুস্থ্য আছি এবং কথাও বলতে পারছি।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন