৯ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

প্রকাশিত: ১৬ জুলাই, ২০২৫ ২৩:০৪

আনোয়ারা-মুজাহিদ নার্সিং কলেজ কর্তৃপক্ষের প্রতারণা

সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত ১০টি নার্সিং কলেজের বিএসসি ১ম বর্ষের পরীক্ষা বুধবার থেকে শুরু হলেও সুনামগঞ্জ শহরের আনোয়ারা—মুজাহিদ নার্সিং কলেজের ৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। কলেজ কর্তৃপক্ষের প্রতারণার শিকার হয়ে রেজিস্ট্রেশন ও ফরম ফিলাপ না হওয়ায় তাদের পরীক্ষায় বসা হয়নি বলে অভিযোগ করছেন শিক্ষার্থীরা ও তাদের অভিভাবকরা।

 


শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে রেজিস্ট্রেশন, সেশন ফি এবং ফরম ফিলাপের জন্য মোটা অঙ্কের টাকা নিলেও তাদের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়নি। অথচ পরীক্ষার দিন সকালে প্রবেশপত্র দেওয়া হবে বলে শিক্ষার্থীদের সিলেট পাঠানো হয়েছিল। শিক্ষার্থীরা সেখানে গিয়ে জানতে পারেন তাদের ফরম ফিলাপ বা রেজিস্ট্রেশন কোনোটাই হয়নি।


কলেজের বিএসসি প্রথম ব্যাচের একজন শিক্ষার্থী জানান, তারা জানতেন না যে তাদের রেজিস্ট্রেশন হয়নি। গতকালেই একজন ভাইয়ের মাধ্যমে তারা এই খবর জানতে পারেন। কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের এই বিষয়ে কিছুই জানায়নি। 

 


তিনি আরও বলেন, আমাদের ফরম ফিলাপ হয়েছে কিনা, সেটাও আমরা জানি না, কিন্তু আমাদের কাছ থেকে সব টাকা নেওয়া হয়েছে। আমাদের এডমিট কার্ড আসবে না এটা কলেজ কর্তৃপক্ষ জানত, তাও আমাদেরকে সিলেট পাঠিয়েছে। হালিম স্যার আমাদেরকে বলছেন, তোমরা চলে যাও আমি তোমাদেরকে নিয়ে গিয়ে এডমিট কার্ড দিব। কিন্তু আমরা মঙ্গলবার এডমিট কার্ড পাইনি, আজকেও বুধবারও পাইনি আর পাবো কিনা এটাও জানি না। আজকের পরীক্ষায় আমরা অংশগ্রহণ নিতে পারিনি।

 

 

 


আরেক শিক্ষার্থী জানান, বারবার এমডি স্যারকে ফোন দিলেও তিনি বিষয়টি তাদের কাছ থেকে লুকিয়ে রেখেছিলেন। আমাদের রেজিস্ট্রেশনই যেখানে হয়নি, সেখানে ফরম ফিলাপ হবে কী কেও, আমরা পরীক্ষা কিভাবে দিব, আমাদের তো এডমিট কার্ডই আসেনি।


তিনি আরও বলেন, অন্যান্য কলেজের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারলেও আমরা আনোয়ারা—মুজাহিদ নার্সিং কলেজের ৯ জন শিক্ষার্থী অংশ নিতে পারেননি।


শিক্ষার্থী অভিভাবক আব্দুল্লাহ আল নোমান জানান, গত বছর তার বোনকে আনোয়ারা—মুজাহিদ কলেজে বিএসসি নার্সিংয়ে ভর্তি করিয়েছিলেন। ১৬ই জুলাই তাদের নার্সিংয়ের প্রথম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, একদিন আগে তারা জানতে পারেন যে প্রথম বর্ষে তাদের রেজিস্ট্রেশন বা ফরম ফিলাপ হয়নি। কলেজ কর্তৃপক্ষ মে মাসে রেজিস্ট্রেশন বাবদ ৮ হাজার টাকা এবং ফরম ফিলাপ বাবদ সাড়ে ৮ হাজার টাকা নিয়েছিলেন। এছাড়াও এক বছরের কোর্স ফি ৬২ হাজার টাকা এবং ভর্তি ফি ৩০ হাজার টাকা সহ সম্পূর্ণ কোর্স ফি ও অনেকের কাছ থেকে অগ্রিম ফিও নেওয়া হয়েছে।  

 


তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রথম বর্ষেরই যাদের এখনো রেজিস্ট্রেশন হয়নি, সেখানে তারা নতুন সেমিস্টারের জন্য আরও ১০ জন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করেছে, এটা পুরোপুরি প্রতারণা।
আরেকজন অভিভাবক জানান, আজ তারা কলেজ কর্তৃপক্ষের সাথে বসেছিলেন। এমডি সাহেব আগামী শনিবার সুনামগঞ্জে আসবেন, তখন তারা প্রতিষ্ঠানে বসে করণীয় নির্ধারণ করবেন এবং কীভাবে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে পারবে ও নতুন ভর্তিকৃতদের ভবিষ্যৎ কী হবে, সে বিষয়ে আলোচনা করবেন। 

 


আরেকজন অভিভাবকের দাবি, যে কোনো মূল্যে আমাদের মেয়েদেরকে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হোক।


এ বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০২৪ সালে সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তারা বিএসসি নার্সিং কোর্সের অনুমোদন পেয়েছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে। বিএসসি ১ম বর্ষের ফরম ফিলাপের টাকাও জমা হয়েছে, কিন্তু রেজিস্ট্রেশন হয়নি। এ নিয়ে হাইকোর্টে মামলা হয়েছে এবং হাইকোর্ট গতকাল (১৫ জুলাই) সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন বিএসসি নার্সিংয়ের সমুদয় পরীক্ষা স্থগিত করেছেন। কলেজ কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করে বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে আজ পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।

 


বুধবার দুপুরে শিক্ষার্থীদের সাথে এমন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কলেজ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ম্যানেজিং ডিরেক্টর সালাহ উদ্দিন ভার্চুয়ালি বক্তব্যে জানান, তিনি এই সমস্যা সমাধানে ঢাকায় আছেন। তিনি আগামী শনিবার সুনামগঞ্জে এসে সবাইকে নিয়ে বসে এর সমাধান বের করবেন। তিনি ওই সময় পর্যন্ত সবাইকে ধৈর্য ধরে থাকার অনুরোধ জানান।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার