প্রকাশিত: ১৯ জুলাই, ২০২৫ ২২:২৫
অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সাথে আনোয়ারা-মুজাহিদ নার্সিং কলেজের কর্তৃপক্ষের বৈঠক
আনোয়ারা-মুজাহিদ নার্সিং কলেজের ৯ জন শিক্ষার্থী ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে। তবে আশার আলো দেখাচ্ছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত বিএসসি প্রথম বর্ষের পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিয়ে বৈঠক করেছেন ম্যানেজিং ডিরেক্টর সালাহ উদ্দিন। বৈঠকে প্রথম ও দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থীদের দাবি—দাওয়া এবং কর্তৃপক্ষের প্রস্তাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
শনিবার দুপুর ১টায় কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মন্ত্রণালয় থেকে শিক্ষার্থীদের অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তরের নির্দেশ আসতে পারে। সিলেট বিভাগের আওতাধীন অন্য ১০টি প্রতিষ্ঠানের যে কোনো একটিতে প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে বাংলাদেশের অন্য বিভাগের নার্সিং কলেজগুলোর অধীনে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। অন্য কলেজে যাতায়াতসহ অন্যান্য খরচ কলেজ কর্তৃপক্ষ বহন করবে।
বৈঠকে প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা তিনটি দাবি উত্থাপন করেন। এগুলো হলো— অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান, সেটি বিভাগের ভেতরে বা বাইরে যেখানেই হোক সেখান থেকে যেন পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। তবে এই পরিস্থিতিতে আসা—যাওয়া, থাকা—খাওয়া সহ যাবতীয় খরচ কলেজ কর্তৃপক্ষকে বহন করতে হবে। যদি তারা পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পান, তবে সে অনুযায়ী তাদের জন্য অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করতে হবে।
দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থীরা প্রথম ব্যাচের পরিস্থিতি দেখে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে যদি এই সমস্যার সমাধান না হয়, তবে কর্তৃপক্ষকে তাদের দায়িত্বে সিলেটের অন্য যেকোনো একটি প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ব্যবস্থা করে দিতে হবে।
অভিভাবকরা জানান, আমরা যারা প্রথম ব্যাচের ও দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকএবং সকল শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ে এমডি স্যারের সাথে কথা বলেছি। আমরা উনার কাছে জানতে চেয়েছি—আপনাদের যখন রেজিস্ট্রেশন হয় নি— তাহলে কেন আপনারা আমাদের কাছ থেকে রেজিস্ট্রেশন ফি নিয়েছেন, আপনাদের চলমান যে শিক্ষার্থীরা আছে তাদেরকে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা না করে কেন আপনারা নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি করলেন। এর প্রেক্ষিতে উনি আমাদের বলেছেন, আমাদেরকে নিয়ে সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও সচিবালয়ে যাবেন। উনার কলেজে যদি না হয়, তাহলে সিলেট বিভাগের আওতাধীন অন্য আরও দশটা প্রতিষ্ঠানের যেকোন একটাতে প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ব্যবস্থা করে দেবেন। তাও যদি না হয় তাহলে বাংলাদেশের অন্য বিভাগের যে নার্সিং কলেজগুলো আছে সেগুলোতেপরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করেদেওয়ার আশ্বাস দেন।
ম্যানেজিং ডিরেক্টর সালাহ উদ্দিন বলেন, তিনি এই সমস্যা সমাধানে সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এবং সচিবালয়ে যাবেন। আমার কলেজ থেকে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা না হলে সিলেট বিভাগের আওতাধীন অন্য ১০টি প্রতিষ্ঠানের যেকোনো একটিতে প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ব্যবস্থা করবো। যদি তাও সম্ভব না হয়, তবে বাংলাদেশের অন্য বিভাগের নার্সিং কলেজগুলোর অধীনে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। আমার অনুপস্থিতিতে কলেজের প্রিন্সিপাল ফারজানা জান্নাত হীরা এই দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি আরও জানান, তাদের সেশন ২০২৩—২৪ এ শুরু হয়েছে এবং সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশক্রমে ছাত্র—ছাত্রী ভর্তি করা হয়েছে। ফরম ফিলাপের টাকাও জমা হয়েছে, কিন্তু রেজিস্ট্রেশন হয়নি। এ নিয়ে তারা হাইকোর্টে স্মরণাপন্ন হয়েছেন এবং হাইকোর্ট শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই নির্দেশনা অমান্য করে পরীক্ষা গ্রহণ করায় তারা আবারও হাইকোর্টে গেছেন। এটি এখন ফুল বেঞ্চে শুনানি হবে।
গত (শুক্রবার) মন্ত্রণালয় থেকে চারজন প্রতিনিধি এসেছিলেন এবং কাগজপত্র দেখেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য সময় চেয়েছেন এবং আশ্বাস দিয়েছেন যে ছাত্রীদের বছর নষ্ট হতে দেবেন না। একটি সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে, যেহেতু বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন এখনো অনেক বিভাগের প্রথম বর্ষের পরীক্ষা হয়নি, সেজন্য মন্ত্রণালয় থেকে শিক্ষার্থীদের অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তরের নির্দেশ আসতে পারে। যদি এমন হয়, তবে সুনামগঞ্জ থেকে নতুন কলেজে যাতায়াত এবং অন্যান্য খরচ কলেজ কর্তৃপক্ষ বহন করবে।
দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বিষয়ে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সমাধান এলে তারা বর্তমান কলেজ থেকেই পরীক্ষা দিতে পারবেন। ব্যতিক্রম হলে প্রথম ব্যাচের মতো তাদের জন্যও অন্য জায়গা থেকে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সাথে মনোমালিন্যের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ভর্তির বিষয়ে একদিন কথা হয়েছিল, এর বাইরে তার সাথে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। যারা এই কথাগুলো বলছেন তাদের কথাসঠিক নয়।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন