স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ব্যাচেলররা

প্রকাশিত: ২৪ জুলাই, ২০২৫ ২২:৩০

খাবারের ‘স্বাদ’ বাড়াতে নীরব ঘাতক ‘টেস্টিং সল্ট’ ব্যবহার

সুনামগঞ্জ শহরের বিভিন্ন মেসে খাবারের স্বাদ বাড়াতে গোপনে দীর্ঘদিন ধরে মাত্রাতিরিক্ত ‘টেস্টিং সল্ট’ (মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট) ব্যবহার করছেন রাঁধুনিরা, যা ব্যাচেলর থাকা শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। নিয়মিত এই রাসায়নিকের ব্যবহারে হৃদরোগ, স্নায়ুবিক সমস্যা এমনকি ক্যান্সারের মতো প্রাণঘাতী রোগের ঝুঁকি বাড়ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

 


মেডিকেল পয়েন্ট এলাকার ব্যাচেলর ম্যাচে বসবাসকারী কলেজ শিক্ষার্থী ইমরান হুসেন বললেন, গত এক বছর ধরে আমাদের ম্যাচের ৮ জনসহ আশপাশের অন্যান্য মেসের ২৫—৩০ জন লোকের জন্য এক নারী রাঁধুনি রান্না করে আসছেন। সম্প্রতি আমাদের খাবার গ্রহণে অস্থিরতা এবং অন্যান্য শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে শুরু করে। ডাক্তার দেখানোর পর তিনি আমাকে অতিরিক্ত লবণ বা লবণজাতীয় কিছু খাওয়া কমিয়ে দিতে বলেন। আমি এমন কিছু না খেলেও হঠাৎ করে আমাদের রাঁধুনির প্রতি সন্দেহ হয়। 

 


ইমরান বলেন, সন্দেহের বশে পরীক্ষা করে বুধবার রাতে রাঁধুনির কাছ থেকে টেস্টিং সল্টের প্যাকেটসহ তাকে হাতেনাতে ধরা হয়। এই ঘটনার পর বুঝতে পারি আমাদের ডায়াবেটিস বৃদ্ধি এবং এক বছর ধরে একটি আঘাত না শুকানোর পেছনে টেস্টিং সল্টের ব্যবহারই দায়ী। 

 


তিনি আরও বলেন, আমাদের মেসের প্রায় সবাই অসুস্থ অনুভব করছেন। এই রাঁধুনি আরও চারটি বাসায় ২৫—৩০ জন শিক্ষার্থীর জন্য রান্না করেন এবং তারাও একইরকম অসুস্থ্যতার শিকার বলে অভিযোগ উঠেছে। 
বৃহস্পতিবার সকালে হাসননগর এসপি বাংলা সংলগ্ন অন্য একটি মেসে ওই রাঁধুনি রান্না করতে এলে শিক্ষার্থীরা তাকে টেস্টিং সল্টের প্যাকেট দেখিয়ে এর ব্যবহার সম্পর্কে জানতে চান। জবাবে তিনি বলেন, এটি একটি লবণ, তরকারির স্বাদ বাড়ানোর জন্য দেই।

 


অনুমতি ছাড়া এটি কেন ব্যবহার করেন বা এটি সম্পর্কে আর কিছু জানেন কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, ‘এটা আমাকে অন্য একজন বুয়া শিখিয়ে দিয়েছে, এটা দিলে নাকি তরকারি বেশি মজা হয়। এর থেকে বেশি আমি কিছুই জানি না, দোকান থেকে এগুলো কিনে এনেছি।’

 


সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী নাসির আহমেদ হাসননগর এসপি বাংলা সংলগ্ন ব্যাচেলর বাসায় থাকেন। তিনি জানান, মেডিকেল পয়েন্টে থাকা তার পরিচিত বড় ভাইদের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পারেন, একই বুয়া দুই জায়গায় রান্না করেন। বড় ভাইদের মাধ্যমে টেস্টিং সল্টের ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি সকালে নিজেদের বাসার বুয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি সবকিছু স্বীকার করেন। নাসির আরও বলেন, দীর্ঘদিন হয় আমার খাবার অরুচি দেখা দিচ্ছে, বাসার তরকারি ছাড়া অন্য কোনো বাসার তরকারি খেলে আমার কাছে তেমন স্বাদ লাগে না, শরীর দুর্বল লাগে, প্রেসারও কিছুটা বেড়েছে অনুভব হয়। আমার ধারণা বুয়া প্রতিদিন মাত্রাতিরিক্ত টেস্টি লবণ ব্যবহারের কারণেই এমনটি হয়েছে।

 


আরেক কলেজ শিক্ষার্থী ওয়েস আহমদ বলেন, বন্ধুদের কাছে বলতাম যে, সেরা একটা বুয়া পাইছি। অনেক মজা করে রান্না করে। কিন্তু এখন দেখি লবণের পরিবর্তে বুয়া নিম্নমানের টেস্টি সল্ট দিয়ে তরকারি রান্না করে। এই বুয়াকে আর রাখব না।
তিনি আরও বলেন, বড় ভাইরা বাসার মালিকদের সাথে কথা বলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা ভাবছেন।

 


সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. বিষ্ণুপ্রসাদ চন্দ টেস্টিং সল্ট ব্যবহারের ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করে বললেন, টেস্টিং সল্ট খাবারের টেস্ট বাড়ানোর জন্য সীমিত পরিমাণে ব্যবহার করা যায়। কিন্তু এটি আসলে একটি কেমিক্যাল। এটা অতিরিক্ত প্রতিদিন ব্যবহার করলে হার্টের ঝুঁকি থাকে, হৃদরোগের ঝুঁকি থাকে, নার্ভের সমস্যার ঝুঁকি থাকে ও মাথা ব্যাথা হয়। এমনকি খাদ্যনালির ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকিও থাকে। এটা নিয়মিত ব্যবহারের খাদ্য পণ্য নয়।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার