৯২ কোটি টাকায় হবে তাহিরপুর—বাদাঘাট সড়ক 

প্রকাশিত: ০৯ অক্টোবর, ২০২৩ ০৮:২৬

এলাকায় বইছে আনন্দের জোয়ার 

তাহিরপুর—বাদাঘাট সড়কের দরপত্র আহবান করা হয়েছে। সড়ক নির্মিত হলে কমবে উপজেলার সাত ইউনিয়নের চার লাখ মানুষের যাতায়াত ভোগান্তি।


তাহিরপুর উপজেলার সবচেয়ে বড় হাট বাদাঘাট বাজার। এই বাজারে মালামাল কেনাবেচা করতে পাশ্বর্বর্তী জামালগঞ্জ, বিশ্বম্ভরপুর, মধ্যনগর উপজেলার লোকজন আসে। কিন্তু স্থানে স্থানে ভাঙা থাকায় বর্ষাকালে এই সড়ক পানির নীচে থাকে।

      
হাওর এলাকায় উড়াল সড়ক ও ভৌত কাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় তাহিরপুর উপজেলা হেডকোয়ার্টার থেকে বাদাঘাট—সড়ক ৯২ কোটি ৫৭ লক্ষ টাকায় দরপত্র আহবানের অনুমতিসহ প্রাক্কলন অনুমোদন হওয়ায় তাহিরপুরবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। 
তিন বছর মেয়াদী এই কাজ সম্পন্ন হলে ১৫ মিনিটের ব্যবধানে মোটরসাইকেল কিংবা গাড়িতে করে তাহিরপুর উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে পারবে লোকজন। এতে বাদাঘাট বাজারের ব্যবসায়ীরা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গাড়ি নিয়ে তাদের বাড়িতে আসা যাওয়া করতে আর কোন প্রকার বাধা থাকবে না।


হাওর এলাকায় উড়াল সড়ক ও ভৌত কাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প পরিচালক মো. গোলাম মওলা স্বাক্ষরিত এই সংক্রান্ত চিঠি চার অক্টোবর সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত পত্রটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হলে অনেকেই আবেগে আপ্লুত হয়ে প্রধানমন্ত্রী ও সুনামগঞ্জ—১ আসনের সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন কে অভিনন্দন জানিয়েছেন এলাকাবাসী।


বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদ সাবেক চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন বললেন, সুনামগঞ্জ—১ আসনের সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বাদাঘাট বাজারে এক সমাবেশে বলেছিলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায়ই তাহিরপুর—বাদাঘাট সড়কের দরপত্র আহবান করা হবে। তিনি কথা রেখেছেন।’ তিনি আরও বলেন, এ রাস্তার কাজ সম্পন্ন হলে, হাওরপাড়ের মানুষের অনেক দুর্ভোগ কমবে।
তাহিরপুর বাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ী সুহেল আহমদ বললেন, তাহিরপুর বাজারে শাকসবব্জি বাদাঘাট বাজার থেকে কিনে এনে বিক্রি করা হয়। রাস্তাঘাট খারাপ থাকায় ঠেলাগাড়ি নিয়ে টানাহেঁছড়া করে মালামাল পরিবহন করতে হয়। রাস্তার কাজটি শেষ হলে আমাদের আর দুর্ভোগে পড়তে হবে না।


বাদাঘাট বাজারের কাঠ ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম বললেন, তাহিরপুর—বাদাঘাট সড়ক খারাপ থাকার কারণে তিনি চট্টগ্রাম থেকে ট্রাকে করে কাঠ এনে তাহিরপুর শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের পাশে রাখেন। সেখান থেকে ক্রেতাদের চাহিদামত মালামাল এনে তিনি তার বাদাঘাট বাজারে এনে বিক্রি করেন।


বাদাঘাট বাজার বণিক সমিতির সভাপতি সেলিম হায়দার বলেন, উপজেলা সদরে যোগাযোগটি ছিল ‘না নৌকায়, না তরে’। উপজেলা সাবরেজিষ্টি অফিস তথা অফিসিয়াল যে কোন কাজে তাহিরপুরে যাওয়ার পর আবহাওয়া খারাপ হলে অনেক নারী পুরুষকে নানা দুর্ভোগে পড়তে হতো। এ সড়কটি চূড়ান্তভাবে অনুমোদন পাওয়ায় তিনি প্রধানমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতনকে অভিনন্দন জানান।


তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অমল কান্তি কর ‘হাওর এলাকায় উড়াল সড়ক ও ভৌত কাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প’ এর সঙ্গে তাহিরপুরকে সংযুক্ত করায় সাংসদ মোয়াজ্জেম হোসেন রতনকে ধন্যবাদ জানান।


সুনামগঞ্জ—১ নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বললেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃষ্টি থাকায় তিনি হাওর এলাকায় উড়াল সড়ক ও ভৌত কাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পল্পের মাধ্যমে এ এলাকার রাস্তাঘাটসহ সকল প্রকার ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়ন করতে পেরেছেন।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার