প্রকাশিত: ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:১৫
পরিবেশ সুরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা ও সড়কের সৌন্দর্যবর্ধনের লক্ষ্যে গ্রামীণ সড়কে সরকারি খরচে বৃক্ষরোপণ করা হলেও মাঠে এর সুফল দেখা যাচ্ছে না। রোপণের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই উধাও হয়ে গেছে অধিকাংশ চারাগাছ। কোনোটি গবাদিপশুর পেটে গেছে, আবার কোনোটি পানির অভাবে শুকিয়ে মারা গেছে। রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তার অভাবে লাখ লাখ টাকার এ সরকারি উদ্যোগ এখন ভেস্তে যেতে বসেছে।
সম্প্রতি শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাগলা—বীরগাঁও সড়কে সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় এক মাস আগে সড়কের দুই পাশে রোপণ করা প্রায় ৪০০ চারার অধিকাংশই নিখোঁজ। টিকে থাকা কয়েকটি চারার অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। চারার সুরক্ষায় কোনো শক্ত বেড়া নেই, কোথাও কেবল একটি—দুইটি বাঁশের খুঁটির সঙ্গে প্লাস্টিক পেঁচিয়ে দায়িত্ব শেষ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চারা রোপণের পর নিয়মিত পানি দেওয়া, আগাছা পরিষ্কার কিংবা পরিচর্যার কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আকারে ছোট চারা রোপণ করায় এবং সুরক্ষাব্যবস্থা না থাকায় রোপণের পরপরই সেগুলো গরু—ছাগলের খাদ্যে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) রারিপ প্রকল্পের আওতায় প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামীণ সড়কে ১০ লাখ টাকা বরাদ্দে ৫ হাজার চারা রোপণ করা হয়।
বীরগাঁও পূর্বপাড়ার বাসিন্দা রুশন আলী বলেন, ছোট ছোট চারা গর্ত করে শুধু একটি বাঁশের খুঁটি দিয়ে পুঁতে রাখা হয়েছে। একেকটি চারা রোপণে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা খরচ হতে পারে, অথচ প্রতিটি চারার বিপরীতে ৫০০ টাকা বরাদ্দ ছিল বলে শুনছি। রোপণের পর কেউ আর খবর নেয়নি। গরু—ছাগলে খেয়ে প্রায় সব নষ্ট করে দিয়েছে।
জুবায়েল বক্স নামে এক স্থানীয় তরুণ বলেন, সড়কে গাছ রোপণে চরম অনিয়ম হয়েছে। পরিচর্যা ও সুরক্ষার ব্যবস্থা না থাকলে এমন রোপণের কোনো অর্থ হয় না। এতে কেবল সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে।
পরিবেশবিদ ও সচেতন মহলের মতে, শুধু চারা রোপণ করলেই কর্মসূচির সফলতা আসে না। গাছ টিকিয়ে রাখতে হলে নিয়মিত পানি দেওয়া, বেড়া দেওয়া এবং কয়েক বছর নজরদারি করা প্রয়োজন। তারা রোপণ করা চারার সংখ্যা, অবস্থান ও টিকে থাকার হার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা, সরকারি অর্থ অপচয়ের কারণ চিহ্নিত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা ও প্রতিটি প্রকল্পে রোপণের পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত বাজেট রাখার দাবি জানান।
অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ প্রসঙ্গে শান্তিগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী সাজেদুল ইসলাম বলেন, রোপণ করা কিছু গাছ চুরি হয়ে গেছে। পুনরায় বাজেট পাওয়া গেলে খালি জায়গায় নতুন চারা রোপণ করা হবে।
সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, গাছ রোপণের পর শক্ত বেড়া দেওয়া ও লোক রেখে পরিচর্যা করা প্রয়োজন। কিন্তু রারিপ প্রকল্পে রক্ষণাবেক্ষণ খাতে আলাদা কোনো বরাদ্দ ছিল না। তবে চুক্তি অনুযায়ী যেসব গাছ মারা গেছে, ঠিকাদারকে সেগুলো পুনরায় রোপণ করতে বলা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রারিপ প্রকল্প ছাড়াও আম্পান প্রকল্পের আওতায় সুনামগঞ্জে আরও ৫ হাজার গাছ রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। ওই প্রকল্পে চারা সুরক্ষায় শ্রমিক ও পরিচর্যার বাজেট রাখা হয়েছে, ফলে সেখানে অনিয়মের কোনো সুযোগ থাকবে না।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন