প্রকাশিত: ১১ আগস্ট, ২০২৫ ২২:৫৭
আবিদুর ও শামছুজ্জামাল এলাকার তরুণদের অনুপ্রেরণার নাম
ইচ্ছা শক্তি থাকলে স্বাবলম্বি হওয়া কঠিন নয়। সদর উপজেলার আলমপুর গ্রামের আবিদুর রহমান। ইমামতি করার পাশাপাশি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ গড়ে তুলে তিনি এখন আর্থিকভাবে স্বাবলম্বি। তার প্রতিষ্ঠানে এখন চারজন শিক্ষক এবং ৮০ জন শিক্ষার্থী। একইভাবে মোবাইল সার্ভিসিং ও কম্পিউটার ট্রেনিংয়ের পাশাপাশি কোয়েল ও মাছ চাষ করে সফলতা পেয়েছেন উজান রামনগর গ্রামের মো. শামছুজ্জামাল। জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন. এরা দুইজনই এখন এলাকায় সফল উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত।
বেতগঞ্জ বাজারের পাশের আলমপুর গ্রামের হাফিজুর রহমানের ছেলে আবিদুর রহমান। ২০১৭ সালে সুনামগঞ্জ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের জুন—ডিসেম্বর মেয়াদি ৬ মাসের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নেন। পরের বছর ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে নিজ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা করেন ফুয়াদ কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ৪ জন শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন এবং প্রতিদিন প্রায় ৮০ জন শিক্ষার্থীকে ৮ ঘণ্টা ধরে প্রশিক্ষণ দেন। নবীনগরের হাজী লাল মিয়া জামে মসজিদে ১০ বছর ধরে ইমামতি করার পাশাপাশি এই কম্পিউটার সেন্টার পরিচালনা করে তিনি মাসে ৫০ হাজার টাকা আয় করছেন। বছরে প্রায় ৩শ শিক্ষার্থী এখান থেকে ৩ মাস ও ৬ মাসের কোর্স সম্পন্ন করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছে।
অন্যদিকে, সদর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের উজান রামনগর গ্রামের মো. রমিজ উল্লাহর ছেলে মো. শামছুজ্জামাল। দরিদ্র পরিবারে বেঁচে থাকার সংগ্রাম থেকেই বেড়ে ওঠা তার। তিনি ২০১৫ সালে ৬ মাসের ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসের প্রশিক্ষণ নিয়ে মোবাইল সার্ভিসিংয়ের দোকান ‘মা বাবার দোয়া টেলিকম অ্যান্ড স্টুডিও’ চালু করেন নিজের এলাকায়। ২০২০ সালে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন ‘উদ্যোক্তা কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার’। এর আগে ২০১৭ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে করেছিলেন ‘মা বাবার দোয়া কোয়েল ফার্ম’ এবং ২০১৮ ও ২০ সালে মৎস্য চাষের প্রশিক্ষণ নিয়ে গড়ে তোলেন ‘মা বাবার দোয়া মৎস্য ফার্ম’ মিশ্র চাষ । এখন মাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকা আয় করছেন তিনি। পারিবারিক সহায়তায় ফার্ম, ট্রেনিং সেন্টার ও মোবাইল সার্ভিসিংসহ মোট ৪টি প্রতিষ্ঠানে ৮ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছেন। ইচ্ছাশক্তি, সঠিক প্রশিক্ষণ ও পরিশ্রম থাকলে অল্পপুঁজি নিয়েও বড় সাফল্য অর্জন সম্ভব।
সুনামগঞ্জ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কম্পিউটার প্রশিক্ষক মো. আলমগীর কবীর বললেন, আমরা চাই প্রশিক্ষণ নিয়ে আরও বেশি যুবক উদ্যোক্তা হোক। আবিদুর ও শামছুজ্জামালের সাফল্য প্রমাণ করে, সঠিক দক্ষতা ও পরিশ্রম থাকলে গ্রামীণ পর্যায়ে থেকেও জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখা সম্ভব।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন