প্রকাশিত: ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:২৯
কম খরচে ইউরোপে যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বাড়ি ছাড়েন ২৪ বছর বয়সী কোরআনে হাফেজ জায়েদ আলী শাহ। দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে গ্রিস পৌঁছালেও স্বপ্ন পূরণ হয়নি ওই যুবকের। নির্যাতন আর অনাহারে থাকার পর গ্রিসে পৌঁছার ৪ দিন মাথায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান জায়েদ আলী।
দেড় মাস পর রবিবার ওই যুবকের প্রাণহীন নিথর দেহ আসে গ্রামের বাড়িতে। পরে দুপুরে জানাযার নামাজ শেষে তাকে নিজ গ্রামে দাফন করা হয়। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কোরআনে হাফেজ জায়েদ আলী জগন্নাথপুর পৌরসভার শেরপুর গ্রামের মৃত শাহ রহিম আলীর ছেলে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ৩ ভাই ও এক বোনের মধ্যে জায়েদ ছিল সবার ছোট ও আদরের। তবুও সংসার হাল ধরতে গত ৭ মাস আগে সার্বিয়া যাওয়ার জন্য বাড়ি ছাড়েন জায়েদ। কিন্তু দালাল চক্রের প্রতারণায় শিকার হয়ে সার্বিয়া বদলে লিবিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে দেড় মাস আগে গ্রিসে পৌঁছায় সে। তবে লিবিয়ায় থাকাকালীন অমানবিক শারীরিক নির্যাতন ও অনহারে গুরতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে গ্রিসের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪০ দিন আগে তার মৃত্যু হয়। পরে বাংলাদেশ দুতাবাসের সহযোগিতায় শনিবার জায়েদের মরদেহ দেশে আসে।
জায়েদের বড় ভাই রাহেদ শাহ বলেন, গত ৭ মাস আগে দালালের সঙ্গে ১৩ লাখ টাকায় আমার ভাইকে সার্বিয়া পাঠানোর চুক্তি হয়। কিন্তু দালাল প্রতারণা করে তাকে লিবিয়া পাঠায়। সেখানে থাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। নির্যাতন থেকে আমার ভাইকে বাঁচাতে আমার দালাল চক্রকে আরো ৯ লাখ টাকা দেই। তবুও আমার ভাইকে বাঁচাতে পারিনি। আমরা এর বিচার চাই।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন