প্রকাশিত: ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:২৪
শান্তিগঞ্জ উপজেলা সাব—রেজিস্ট্রার অফিসে ভয়ংকর জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে মূল বালামে জমির চৌহদ্দি বদলে দেওয়ায় জবরদখলের শিকার হচ্ছেন নিরীহ ক্রেতা। ঘটনাটি গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত, তবে মামলা করেও মিলছে না প্রতিকার।
অনুসন্ধানে জানা যায়, নোয়াখালীর বাসিন্দা মো. ফয়েজ উল্লা ও তার স্ত্রী মোছা. করিমা আক্তার মিলি দীর্ঘদিন ধরে শান্তিগঞ্জে বসবাস করছেন। ২০২০ সালের ২৫ মার্চ করিমা আক্তার মিলি পঞ্চাশ হাল মৌজার জে.এল. নং—সি, এস/এস.এ—২০৫, আর, এস/বি.এস—৫৭, খতিয়ান নং— সি,এস/এস.এ—২৪৫, নামজারী খতিয়ান নং—১৬১০, আর.এস/বি.এস—৬৬২, দাগ নং—সি.এস/এস.এ—১২২১, আর.এস/বি.এস—২১৬৯ নম্বর দাগের ২ শতাংশ জমি ক্রয় করেন (দলিল নং—৬৬৫)। পরবর্তীতে একই বছর ১০ জুন তার স্বামী ফয়েজ উল্লা একই দাগের জমি ক্রয় করেন (দলিল নং—৭৫৭)। তবে পরবর্তীতে ক্রয়কৃত জমিতে তারা দখলে গেলে স্থানীয় সুজন চন্দ্র দাস ও তার লোকজনের বাধার মুখে পড়েন। এরপরই সাব—রেজিস্ট্রার অফিসে খোঁজ নিয়ে বেরিয়ে আসে এক ভয়ংকর তথ্য—জমির মূল দলিলের সাথে মূল বালাম বইয়ের চৌহদ্দির কোনো মিল নেই। বালামে জালিয়াতি করে মূল দলিলের চৌহদ্দি সম্পূর্ণ বদলে দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সাব—রেজিস্ট্রার অফিসের অসৎ কর্মচারীদের ম্যানেজ করে ভূমিখেকো চক্র বালাম বইয়ে চৌহদ্দি পরিবর্তন করে জমি দখলের পাঁয়তারা চালাচ্ছে।
জমি উদ্ধারে ভুক্তভোগী ফয়েজ উল্লা সুনামগঞ্জ সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে স্বত্ব মোকদ্দমা (নং—৫৩৩/২০২১) দায়ের করলে বালাম ও দলিলের তথ্যে গরমিল থাকায় আদালত প্রাথমিক মামলাটি খারিজ করেন। পরবর্তীতে তিনি জেলা জজ আদালতে স্বত্ব আপীল (মোকদ্দমা নং—৬৭/২০২৪) দায়ের করেন। আদালত বিষয়টি তদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ জেলা রেজিস্টার ও ঢাকার নিবন্ধন মহাপরিদর্শককে নির্দেশ দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী ফয়েজ উল্লা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শান্তিগঞ্জ সাব—রেজিস্টার অফিসের এমন জালিয়াতির কারণে ন্যায্য টাকা দিয়ে জায়গা কিনে ভোগ দখল করতে পারছি না। সাব—রেজিস্ট্রার অফিসের অসাধু চক্র বালামে তথ্য বদলে দেওয়ায় আমি চরম ক্ষতির মুখে পড়েছি। আমি আমার কেনা জমির সুষ্ঠু দখল ও বালাম সংশোধনের দাবি জানাচ্ছি।
অভিযুক্ত সুজন চন্দ্র তালুকদার বালাম পরিবর্তনের বিষয়ে তার অজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, ঐ দাগে আমার কাকা—জেঠাদের অংশ ছিল। ফয়েজ উল্লার মামলা খারিজ হওয়ার পর কাকারা তা অন্য ক্রেতার কাছে বিক্রি করেছেন।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা সাব—রেজিস্ট্রার জামাল হোসেন জানান, আমি এখানে নতুন এসেছি, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে আদালত যদি বালাম সংশোধনের নির্দেশ দেন, আমরা তা সংশোধন করে দেব।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা রেজিস্টার মোস্তাফিজ আহমেদ জানান, বালাম ও দলিলের চৌহদ্দি পরিবর্তনের বিষয়টি আমার জানা নেই এবং আদালতের কোনো আদেশ এখনো অফিসিয়ালি পাইনি। আদেশের কপি হাতে পেলে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন