প্রকাশিত: ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:২০
জামালগঞ্জ সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক—কর্মচারীদের বেতন—ভাতা নিয়ে জটিলতা যেন কাটছেই না। ২০২৪ সালে টানা সাত মাস বেতন—ভাতা না পাওয়ার ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বেতন ভাতা চালু হলেও ফের দুই বছর পর আবারও বেতন বন্ধ রয়েছে বিদ্যালয়টির শিক্ষক—কর্মচারীদের। আগস্ট মাসের বেতন—ভাতা এখনো পাননি তারা। এরই মধ্যে সেপ্টেম্বর মাস শুরু হলেও বেতন—ভাতা পাওয়ার বিষয়ে কোনো সমাধান হয় নি।
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মো. লুৎফুর রহমানের নিয়োগসংক্রান্ত জটিলতা এবং প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব ও আর্থিক ক্ষমতা নিয়ে সৃষ্ট আইনি জটিলতার কারণে নতুন করে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
এদিকে বিষয়টি নিরসনে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সিলেট অঞ্চলের আঞ্চলিক উপপরিচালকের কার্যালয় থেকে মহাপরিচালকের কাছে সিদ্ধান্ত চাওয়া হয়েছে। গত ১৮ আগস্ট আঞ্চলিক উপপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আবু সাঈদ মো. আব্দুল ওয়াদুদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জামালগঞ্জ সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক—কর্মচারীদের বেতন—ভাতা উত্তোলন এবং প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব প্রদানে আইনি জটিলতা নিরসনে মহাপরিচালকের সদয় সিদ্ধান্ত কামনা করা হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের ১৪ জুন জামালগঞ্জ মডেল উচ্চ বিদ্যালয়কে সরকারিকরণ করা হয়। ২০২০ সালের ১৬ জুলাই বিদ্যালয়ে কর্মরত ১৮ জন শিক্ষককে এডহক ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। তখন প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ সৃজন এবং এডহক নিয়োগ না হওয়ায় বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠতম সহকারী শিক্ষক জ্যোতিষ রঞ্জন তালুকদার প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। পরে তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের ২৫ অক্টোবর ২০২০ তারিখের একটি স্মারকের আলোকে তাঁকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও আয়ন—ব্যয়নকারী কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
পরে জ্যোতিষ রঞ্জন তালুকদার ২৬ নভেম্বর ২০২০ কর্মরত অবস্থায় মারা গেলে জ্যেষ্ঠতম সহকারী শিক্ষক সীতোষ কুমার তালুকদার প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের ১৭ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখের একটি স্মারকের আলোকে তাঁকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও আয়ন—ব্যয়নকারী কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এরপর ২০২৩ সালের ২২ নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মো. লুৎফুর রহমানকে প্রতিষ্ঠান সরকারিকরণের তারিখ থেকে এডহক ভিত্তিতে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি ওই দিন পূর্বাহ্নে প্রধান শিক্ষক পদে যোগদান করেন। তবে একই বছরের ২১ ডিসেম্বর আরেকটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁর এডহক নিয়োগসংক্রান্ত আগের প্রজ্ঞাপনটি বাতিল করা হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, জাল সনদ দাখিলের বিষয়টি নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকায় ওই নিয়োগসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হয়েছে।
ওই প্রজ্ঞাপনের বিরুদ্ধে মো. লুৎফুর রহমান ২০২৪ সালের ১৮ জানুয়ারি হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। রিট পিটিশনটির নম্বর ২৫৯/২০২৪। পরে ২০২৬ সালের ৬ আগস্ট মহামান্য হাইকোর্ট রিট পিটিশনটি Discharged করেন।
চিঠিতে আরও বলা হয়, রিট পিটিশনটি Discharged হওয়ার পর বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠতম সহকারী শিক্ষক মোছা. তাইয়েবুন নেছা আফিন্দী বিদ্যালয়ের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং শিক্ষক—কর্মচারীদের বেতন—ভাতা উত্তোলনের জন্য ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বসহ আর্থিক ক্ষমতা দেওয়ার আবেদন করেন। তিনি গতমাসের ১১ আগস্ট এ আবেদন করেন।
অন্যদিকে প্রধান শিক্ষক মো. লুৎফুর রহমান গত ১৬ আগস্ট আঞ্চলিক উপপরিচালকের কার্যালয়ে স্বপদে বহাল থাকার আবেদন করেন। ওই আবেদনে তিনি জানান, রিট পিটিশন নম্বর ২৫৯/২০২৪ Discharged হওয়ার পর তিনি বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে Civil Miscellaneous Petition No-777 of 2026 (Arising out of Writ Petition No-259 of 2024) দায়ের করেছেন, যা শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।
বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠতম সহকারী শিক্ষক মোছা. তাইয়েবুন নেছা আফিন্দী জানান, গত মাসের শিক্ষক—কর্মচারীদের বেতন, মাসিক টিফিন বিল ও দৈনন্দিন আনুষাঙ্গিক ব্যায়ের বিল পরিশোধ করতে না পারায় খুব সমস্যা হচ্ছে।
বর্তমান প্রধান শিক্ষক মো: লুৎফুর রহমানকে একাধিক নম্বর থেকে কয়েকবার ফোন দিলেও রিসিভ না করায় তার বক্তব্য যুক্ত করা যায় নি।
সিলেট অঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক উপপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আবু সাঈদ মো. আব্দুল ওয়াদুুদ জানান, প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব প্রদান ও শিক্ষক—কর্মচারীদের বেতন—ভাতা উত্তোলন নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ায় বিষয়টি লিখিতভাবে মহাপরিচালকের দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন