প্রকাশিত: ১১ আগস্ট, ২০২৫ ২৩:০৪
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল
প্রস্রাবজনিত সমস্যা নিয়ে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে আসা চার বছর বয়সী এক শিশুর খতনা করাতে গিয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন তার (শিশুর) পরিবার। তিন দিন হাসপাতাল ঘুরেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে অবশেষে শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে এই কাজ করাতে হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতিকেই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।
শহরের ওয়েজখালি এলাকার বাসিন্দা বিশ্বজিৎ দেব জানান, গত বৃহস্পতিবার তার নাতিকে নিয়ে তিনি সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে আসেন, চিকিৎসক কিছু পরীক্ষা দেন এবং শনিবার রিপোর্ট নিয়ে পুনরায় দেখা করতে বলেন। একই সাথে শিশুটির খতনা করানোর কথাও বলেন।
শনিবার বিশ্বজিৎ দেব রিপোর্ট নিয়ে হাসপাতালের ডা. জহিরের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, খতনা করার জন্য প্রয়োজনীয় ক্লড (ডায়া—টার্মিনেট) হাসপাতালে নেই, ক্লড এলে পরে তারিখ দেওয়া হবে।
এই অবহেলায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বিশ্বজিৎ দেব বলেন, সরকারি হাসপাতালে যদি একটি সামান্য চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়? আমার নাতির সমস্যা দ্রুত সমাধান করা জরুরি ছিল, কিন্তু হাসপাতালের এমন দায়িত্বহীনতার কারণে আমাদের বাধ্য হয়ে বেশি খরচ করে বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হয়েছে।
এ বিষয়ে সদর হাসপাতালের সার্জারি কনসালটেন্ট ডা. জহির বলেন, আমি হাসপাতালে চার মাস হয় যোগদান করেছি, আমি আসার পর থেকে ‘ডায়া—টার্মিনেট’ যন্ত্রটি অচল অবস্থায় পেয়েছি এবং ম্যানেজমেন্টকেও জানিয়েছি। এই ক্লড (ডায়া—টার্মিনেট) পেয়ে গেলে খতনার কাজ শুরু করা যাবে।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের আরএমও রফিকুল ইসলাম বলেন, কাটার পর যেন ব্লিডিং না হয় সেজন্য ডায়া—টার্মিনেট যন্ত্র ব্যবহার করা হয়। আমাদের ডায়া—টার্মিনেট নষ্ট হয়ে গেছে, যার কারণে এখন খতনা করানো যাচ্ছে না। সার্জারির কনসালটেন্ট তত্ত্বাবধায়ক স্যারের কাছে বলেছেন, স্যার বলেছেন এটি এনে দিবেন। তবে কবে আসতে পারে এটি সঠিক বলতে পারছি না।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন