রান্নার উপযোগী করে সবজি বিক্রি

প্রকাশিত: ১৬ আগস্ট, ২০২৫ ২১:৫৮

কোর্টের সামনের ব্যতিক্রমী দৃশ্য

সুনামগঞ্জ পৌর শহরের কোর্ট এলাকার সামনে প্রতিদিনই বিভিন্ন ধরনের হকার ও বিক্রেতার ভিড় জমে। এই ভিড়ের মাঝেই চোখে পড়ে এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য। ৬০ উর্ধ্ব আনোয়ারা বেগম সবজি কেটে, বেছে, প্রায় রান্নার উপযোগী করে বিক্রি করছেন। 


প্রায় ৩০ বছর ধরে তিনি এখানেই বসে সবজি বিক্রি করছেন জানিয়ে আনোয়ারা বেগম বললেন, জীবনের শুরুটা ছিল কষ্টের। বিয়ের কিছুদিন পরেই তার স্বামী মানসিক ভারসাম্য হারান। স্বামীর দেখাশোনা ও চার মেয়ে, দুই ছেলের ভরণপোষণের দায়িত্ব আমার কাঁধেই এসে পড়ে। সন্তানদের বিয়ে দিয়ে আলাদা করে দিলেও, নিজের জীবনের সংগ্রাম থেমে থাকেনি। 

 


তিনি বলেন, আগে শহরে ভাড়া বাসায় থাকতাম, তিন হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে পোষাতো না। পরে সরকারের সহযোগিতায় গৌরারংয়ের লালপুর গ্রামে একটি ঘর পেয়েছি। তবে প্রতিদিন আসা—যাওয়ার ভাড়াই আমার জন্য বড় চাপ। যাওয়া—আসায় প্রায় ৬০ টাকা খরচ হয়। যে সবজিগুলো বিনা পুঁজিতে পাওয়া যায়, সেগুলোই এখানে বসে বিক্রি করি, টাকার অভাবে কিনে বিক্রি করার সামর্থ্য নেই। 
নিজ গ্রামের কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, তার বাপ—দাদার বাড়ি কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার ছাদখালি গ্রামে। পরে ছোট বেলা বাপ—চাচাদের সাথে পাড়ি জমান বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের মুতোরখান্দি গ্রামে। গ্রামেই আব্দুল কুদ্দুস মিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় তার। স্বামী দীর্ঘদিন মানসিক অসুস্থতায় ভুগে তিন বছর আগে মারা গেছেন।

 


সবজি কেটে বিক্রির এই ধারণা কিভাবে এলো জানতে চাইলে আনোয়ারা বেগম বলেন, ঢাকায় থাকাকালীন শুটকি বিক্রি করতাম। পাশে যারা সবজি বিক্রি করতো, তারা মাঝে মধ্যে আমাকে কিছু ডুগা—আগা দিতো। আমি সেগুলো কেটে সাজিয়ে রাখতাম, অনেকেই সেটি কিনে নিতেন। গার্মেন্টসের মেয়েরাও মাঝে মধ্যে সবজি কিনে নিয়ে কাটা—বাছা করতে দিতো, পরে খুশি হয়ে ২০—৫০ টাকা দিতো। এখানেও দেখেছি—অনেকেই লতা কচু খেতে চান, কিন্তু কাটা—বাছার ঝামেলায় কিনেন না, তাই আমি নিজেই এগুলো প্রস্তুত করে দেই।

 


তিনি জানান, প্রতিদিন সবজি ও কলা বিক্রি করে আনোয়ারা বেগম ২০০—৩০০ টাকা আয় করেন। কোর্ট এলাকার মানুষ তাকে অনেক মায়া করে, মাঝে মাঝে সহযোগিতাও করেন।
বড়পারা এলাকার বাসিন্দা আজাদ মিয়া বলেন, এদিকে যাতায়াত করার সময় আমরা প্রতিদিনই এই মহিলাকে বিভিন্ন ধরনের সবজি বিক্রি করতে দেখি। দরকারি কোন সবজি চোখে পড়লে ওনার কাছ থেকে কিনে নিয়ে যাই, উনি আর সকলের মত সবজি বিক্রি করেন না উনি সবজিগুলো কেটে—বেছে প্রস্তুত করে বিক্রি করেন।

 


সুনামগঞ্জ জর্জ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহবুবুল হাছান শাহীন বলেন, আমরা বহু বছর ধরে এই মহিলাকে এখানে সবজি বিক্রি করতে দেখছি। তিনি সবজিগুলো কেটে ও বেছে বিক্রি করেন। তবে লতা, কচুর মতো সবজি নিজে তুলে এনে বিক্রি করলেও পুঁজি খাটিয়ে ব্যবসা করার সামর্থ্য তার নেই। উপরন্তু বৃষ্টি বা খারাপ আবহাওয়ার দিনে ঠিকমতো বসতেও পারেন না। যদি তিনি সরকারি কোনো সহায়তা পেতেন, তবে পুঁজি খাটিয়ে ব্যবসা করে তার আয়—রোজগারে নিশ্চয়ই উন্নতি হতো।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার