প্রকাশিত: ২৯ আগস্ট, ২০২৫ ২২:৫৪
সাইকেল চেপে প্রতিদিন কলেজে যান সুধীর চন্দ্র দাস। বয়স পঞ্চাশ পেরোলেও থেমে নেই জীবনের সংগ্রাম। সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগে মাস্টার রোলে অফিস সহায়ক হিসেবে চাকরি করেন তিনি। তবে তার জীবনের সবচেয়ে বড় কষ্টের জায়গা নিজের মাথা গোঁজার ঠাঁই।
শহরের মল্লিকপুর এলাকায় আব্দুর জোহর সেতুর উঁচু সংযোগ সড়কের উত্তর পাশ ঘেঁষে পৈত্রিক মাত্র এক শতাংশ জায়গায় কোনোরকমে টিনের ঘর তুলে বসবাস করছেন তিনি। কিন্তু সড়কটি তার জমির চেয়ে প্রায় ২০ ফুট উঁচুতে হওয়ায় বৃষ্টির মৌসুমে সড়কের পানি ঢল তার ঘরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে যায়। ফলে ঘরের মেঝে কাদায় ভরে থাকে, মনে হয় যেন বোরো ফসলি জমি।
মাটির চুলায় রান্নার উপায় নেই বললেই চলে। ভেজা ঘরে তার (সুধীর চন্দ্র দাস) স্ত্রীকে উপরী চুলায় রান্না করতে হতো। গেল তিন মাস ধরে স্ত্রী অসুস্থ হয়ে আছেন বাবার বাড়িতে। একা হয়ে পড়েছেন সুধীরচন্দ্র। মাসে মাত্র ৬ হাজার ৬০০ টাকা বেতন দিয়ে সংসার চালানোই দায়, ভাড়া বাসায় থাকার সুযোগও নেই।
.jpg)
সুধীর চন্দ্র দাস জানালেন, ঘর পেতে একাধিকবার আবেদন করেছেন। প্রথমে সাবেক সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান মিসবাহের কাছে, পরে সংসদ সদস্য ড. মোহাম্মদ সাদিকের কাছেও আবেদন দিয়েছেন। জেলা প্রশাসকের দপ্তরেও আবেদন করেছেন। কিন্তু কোথাও সাড়া মেলেনি। সর্বশেষ গত মাসে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে ঢেউটিন ও আর্থিক অনুদান চেয়ে আবেদন করেছেন সুধীর চন্দ্র দাস।
‘অনুদান পেলে নতুন করে ঘর বানাবো, বৃষ্টির কাদা আর দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবো’—আশায় বুক বাঁধছেন সুধীর চন্দ্র দাস।
প্রতিবেশী প্রানেশ দাস বলেন, ঘরের ভেতরে সবসময় পানি জমে থাকে। পেক—কাদায় ভরা ঘরে কি মানুষ বসবাস করতে পারে? কিন্তু তার তো আর কোনো উপায় নেই, কষ্ট করেই এখানে থাকতে হচ্ছে তাকে।
প্রতিবেশী রিতা রানী দাস বলেন, ঘরের ভেতর দিয়ে পানি গেলে মানুষ কেমন করে সুখে থাকতে পারে? রান্নারও কোনো উপায় থাকে না। গর্ত করে চুলা বানানো সম্ভব হয় না বলে তার স্ত্রী উপরে একটি চুলা বানিয়ে রান্না করতেন। আসলে যে অবস্থায় তিনি থাকছেন, তাতে সাধারণ মানুষ থাকা সম্ভব নয়। আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় অন্য কোথাও ভাড়া বাড়ি নেয়াও তার পক্ষে সম্ভব নয়।
সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মোহাম্মদ আরশাদ—উল—আলম বলেন, সুধীরচন্দ্র দাস আমাদের বিভাগে কাজ করেন, তিনি কলেজে মাস্টার রোলে কর্মরত আছেন। প্রতিদিন হাসিমুখে দায়িত্ব পালন করলেও তাঁর জীবনের ভেতরের কষ্টগুলো আমরা জানতাম না। একদিন হঠাৎ কথা প্রসঙ্গে জানতে পারি—তিনি চরম দুরবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। আব্দুজ জহুর সেতুর উঁচু সংযোগ সড়কের গা ঘেঁষে তাঁর ছোট্ট ঘর। বৃষ্টির দিনে সেই সড়ক থেকে নেমে আসা পানির ঢল সরাসরি ঢুকে পড়ে ঘরের ভেতর। ঘর যেন তার নিত্যদিনের দুর্ভোগের কারণ। সওজ বা সেতু বিভাগ চাইলে এ সমস্যায় সহযোগিতা করতে পারে, কিন্তু হয়তো তিনি কখনোই তাঁদের কাছে নিজের অসহায়তার কথা পৌঁছাতে পারেননি।
সওজ (সড়ক বিভাগ) সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ আহাদ উল্লাহ বলেন, আমরা একজন প্রতিনিধি পাঠাবো। সেখানে গিয়ে দেখা হবে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় কিনা। যদি কিছু করা সম্ভব হয়— যা পড়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সুবিধা বয়ে আনে তবে আমরা সেটি বিবেচনায় নেব।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন