প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ২৩:৩০
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্র জামতলা। প্রতিদিন শত শত মানুষ এই পথ দিয়ে যাতায়াত করেন। কিন্তু এলাকাবাসীর কাছে এই ব্যস্ত সড়ক এখন দুর্ভোগের কারণ। সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়, সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা।
এনা কাউন্টারের সামনে থেকে শুরু করে অ্যাডভোকেট আলী আহমদ’এঁর বাসা পর্যন্ত এবং মসজিদ সংলগ্ন ফিশারী রোডেও হাঁটা যেন প্রতিদিনই এক যন্ত্রণা। শিশু থেকে বৃদ্ধ—সবার জন্যই এই রাস্তা হয়ে উঠেছে ভোগান্তির আরেক নাম। স্থানীয়দের অভিযোগ, বহুবার পৌরসভায় আবেদন করলেও আশ্বাস ছাড়া কিছুই মেলে নি।
জামতলার বাসিন্দা এনামুল বারী বলেন, বৃষ্টি হলেই এই রাস্তা পানিতে ভরে যায়, এতে যাতায়াত করতে খুব কষ্ট হয়।
মহল্লার বাসিন্দা অন্তর বলেন, বৃষ্টি হলে পায়ের ঘন্টা সমান পানি জমে থাকে। পানি যাওয়ার কোনো রাস্তা না থাকায়, সব সময় ঘরের মেজে ভেজা ও স্যাঁতস্যাতে হয়ে থাকে।
সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মুস্তাফিজুর রহমান তালুকদার সজল বলেন, রাস্তায় পানি থাকায় স্কুলের জুতা ভিজে যায়। অনেক সময় গাড়ি যাওয়ার সময় পানি ছিটকে গায়ে এসে পানি পড়ে, এতে স্কুলের পোশাক নোংরা হয়ে যায়।
এলাকার বাসিন্দা মো. আলমগীর বলেন, অল্প বৃষ্টি হলেই জামতলার এই রাস্তায় পানি জমে থাকে। পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা নেই। আমরা কয়েকজন নিজেদের উদ্যোগে যে জায়গায় বেশি পানি থাকে, সেখানে কিছুটা উঁচু করে মানুষ চলাচলের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। এছাড়াও বিভিন্ন রেস্টুরেন্টের ব্যবহৃত পানিও এই রাস্তায় এসে পড়ে। ড্রেন না থাকায় পানি নিষ্কাশনের কোনো রাস্তা নেই।
জামতলার বাসিন্দা জেলা সিএনজি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রুনু মিয়া বলেন, এই মহল্লায় অনেক শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ—প্রতিদিন কষ্ট করে যাতায়াত করতে হয়। সবারই যাতায়াতে অসুবিধা হয়।
তিনি আরও বলেন, রাস্তার যে অংশটুকুতে বেশি পানি জমে থাকে, সেখানে নিজেদের টাকায় উঁচু করে ঢালাই করে দিয়েছি, যাতে মানুষ পায়ে হেঁটে পার হতে পারে। পৌর মেয়রগণ আশ্বাস দিলে, কিন্তু কোনো ফলপ্রসূ কাজ হয়নি।
জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পি.পি. মহল্লার বাসিন্দা অ্যাডভোকেট মল্লিক মইনুদ্দিন আহমদ সোহেল বলেন, আমরা খুবই করুণ অবস্থার মধ্যে আছি। মসজিদে নামাজ পড়তে যেতেও অনেক কষ্ট হয়, রাস্তার মধ্যে পানি জমে থাকে। এই পাড়ার সব মানুষই পানি নিষ্কাশনের জন্য দুর্ভোগ পোহাচ্ছে, এ অবস্থা থেকে মুক্তি চায় সবাই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পৌর প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে, যাতে দুর্দশা কমানো যায়।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন