নদীর পাড়ে ময়লার স্তূপ

প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর, ২০২৫ ২২:৪৯

সুনামগঞ্জ পৌর শহরের বিভিন্ন নদীর পাড় এখন যেন ময়লার স্তূপে পরিণত হয়েছে। শহরের মানুষের ফেলা বর্জ্য, প্লাস্টিক, পলিথিন ও নানা প্রকার আবর্জনায় ভরে গেছে নদীর তীর। এতে নদীর সৌন্দর্য যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবেশ ও জলজ প্রাণের বাস্তুসংস্থান।


সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, শহরের বৈঠাখালির নৌকাঘাট এলাকা থেকে শুরু করে দক্ষিণ বড়পাড়া, তেঘরিয়া, পুরানপাড়া, মড়লহাটি, সাহেববাড়ি ঘাট, উত্তর আরপিননগর, পশ্চিম বাজার, চাঁদনিঘাট, জগন্নাথবাড়ি, কাঁচাবাজার থেকে নবীনগর পর্যন্ত নদীর তীরে প্রায় সর্বত্র ময়লার স্তূপ। এর মধ্যে সাহেববাড়ি ঘাট ও চাঁদনিঘাট এলাকার পরিস্থিতি সবচেয়ে নাজুক।

 


তেঘরিয়া-মড়লহাটি এলাকার বাসিন্দা মো. তাজউদ্দিন বলেন, নদীর পাড় এলাকায় কোথাও ময়লা ডাম্পিং করার নির্দিষ্ট জায়গা নেই। পুরানপাড়া ও মড়লহাটিসহ সবাই নদীর পাড়েই ময়লা ফেলে। পৌরসভা থেকে যেসব এলাকায় ড্রাম দেওয়া আছে সেগুলোও ঠিকভাবে পরিষ্কার করা হয় না। দুর্গন্ধে আশপাশ দিয়ে চলাচলই কষ্টকর।

 

 

 


চাঁদনিঘাটের রাহাত স্টোরের মালিক রাহাত আহমদ বলেন, মানুষ নির্বিঘ্নে এখানে ময়লা ফেলে দেয়, কেউ কিছু বলে না। আমরা যারা এখানে দোকানদারি করি, তারা দুর্গন্ধে বসতে পারি না। মোক্তারপাড়া ও আশপাশের লোকজন সব আবর্জনা এখানে এনে ফেলে।


দক্ষিণ বড়পাড়া এলাকার বাসিন্দা হাফিজ ত্বাহা হুসাইন বলেন, আমরা পৌরসভার বাসিন্দা হিসেবে ট্যাক্সসহ সবকিছু পরিশোধ করি, কিন্তু সুবিধা কিছুই পাই না। নির্দিষ্ট ময়লা ফেলার জায়গা নেই, ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই, কোন স্ট্রিট লাইট নেই। তিনি বলেন, আমরা যারা নদীর পাড়ের বাসিন্দা আছি, নদীর পাড় ছাড়া আর কোথাও ময়লা ফেলার জায়গা নেই।


হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ওবায়দুল হক মিলন বলেন, মানুষকে সচেতন করার মতো কেউ নেই। নদীতে ময়লা ফেলায় পানি ও পরিবেশ দূষিত হয়- এই কথাগুলো মানুষকে বলার কেউ নেই। সচেতনতা তৈরি এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয়। এ বিষয়ে পৌরসভার কার্যক্রম চোখে পড়ে না। যেসব জায়গায় ড্রাম দেওয়া আছে, সেগুলো ময়লায় উপচে পড়ে রাস্তায় ও নদীতে চলে যাচ্ছে। শহরটা এখন যেন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দায়িত্বশীলরা দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছেন। বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটিও নিষ্ক্রিয়। কেউই কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।


এ বিষয়ে পৌর প্রশাসক মো. মতিউর রহমান খান বলেন, আমাদের লোকবল ও আর্থিক সক্ষমতা অনুযায়ী আমরা চেষ্টা করব নদীর পাড়ের ময়লা অপসারণের। পাশাপাশি জনগণকে সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে যেন তারা নদীর তীরে ময়লা না ফেলে নির্ধারিত ডাস্টবিনে ফেলে। যেখানে ডাস্টবিনের অভাব আছে সেখানে দ্রুত ডাস্টবিন স্থাপনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার