প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর, ২০২৫ ২৩:৩১
মার্টিনেজের ছায়া, স্বপ্ন বাংলাদেশের জার্সি পাশে দাঁড়ালেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান
ফুটবলের প্রতি বাঙালির আবেগ বরাবরই গভীর। আর সেই আবেগকে সঙ্গী করে এবার স্বপ্ন দেখছে সুনামগঞ্জের প্রত্যন্ত গ্রামের এক খুদে গোলরক্ষক, যার অনুপ্রেরণা সুদূর আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার জয়নগরের মোজাম্মেল হোসেনের এমন স্বপ্ন ও বিস্ময়কর প্রতিভা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে গেছে। তার গোলরক্ষার দক্ষতা এবং গোল বাঁচানোর পরের সেলিব্রেশন এখন ভাইরাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। মোজাম্মেলের চোখে কেবলই বাংলাদেশের জাতীয় দলের গোলরক্ষক হওয়ার স্বপ্ন। সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের এই শিশুর স্বপ্নপূরণে পাশে দাঁড়িয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
মোজাম্মেল হোসেনের বাড়ি জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামে।
শিশু মোজাম্মেল হোসেনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ছোট একটি টিনের ঘরে তাঁর পরিবার থাকে। মোজাম্মেলের বাবা আলী হোসেন কৃষক। আলী হোসেন জানালেন, মোজাম্মেল প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। দুই মেয়ে ও দুই ছেলের মধ্যে মোজাম্মেল সবার ছোট।
ক্ষুদে ফুটবলার মোজাম্মেল হোসেন বললো, আমাদের টিমের নাম ভাইরাল টিম। আমাদের টিমে রয়েছে মুবিন, আমার ভাই বিপ্লব, সোহেব, ইমাদ, রিয়াদ, নাদিম, সাহান, মাহবুব, ফারহান ও শহীদ। আমার মাটিনেজের খেলা পছন্দ, আমি মাটিনেজের মত গোলরক্ষক হতে চাই।
মোজাম্মেল আরও বললো, আমাদের কোচ আমাদেরকে এ পর্যন্ত নিয়ে এসেছেন। আমাদের কোচের নাম সোহাগ উদ্দিন, আমাদেরকে প্রতিদিন প্র্যাকটিস করান। তিনি এখন লন্ডন চলে গেছেন। আমরা সবাই তাকে অনেক মিস করি।
দেশবাসীর কাছে কোচ সোহাগ ও নিজের জন্য দোয়া চেয়ে মোজাম্মেল বললো, আমি জাতীয় দলের গোলকিপার হতে চাই ।
৬ মাস আগে গ্রামের তরুণ ফুটবলার সোহাগ উদ্দীন উদ্যোগ নিয়ে মোজাম্মেলসহ অন্যান্য খুদে ফুটবলারদের নিয়ে একটি দল গঠন করেন। এরপর থেকেই মোজাম্মেলের প্রতিভা উন্মোচন হতে থাকে। সোহাগ উদ্দীন নিজেই তাদের প্রশিক্ষণ দেন, বিভিন্ন জায়গায় খেলতে নিয়ে যান। আর তার শেয়ার করা মোজাম্মেলের খেলার ভিডিওগুলো নিয়মিতভাবে পার করেছে মিলিয়ন ভিউয়ের মাইলফলক। মোজাম্মেলের প্রতিটি গোলরক্ষা আর মার্টিনেজ-সুলভ উদযাপনে মুগ্ধ হয়েছেন অসংখ্য মানুষ। সোহাগ এখন পারি জমিয়েছেন সুদূর লন্ডনে। তবে ভাইরাল টিমের দায়িত্ব দিয়ে গেছেন তার ভাই ইমন আলী ও ফাহিম কে।
ইমন আলী বলেন, মোজাম্মেল দীর্ঘদিন ধরে বল নিয়ে পড়ে আছে। আমরা প্রায় সময় লক্ষ্য করে দেখেছি মোজাম্মেল খাইতে গেলে, বসতে গেলে যে কোন সময় তার বাড়িতে গেলে বা রাস্তাঘাটে বল নিয়ে এসে তার প্রতিভাটা দেখাতে চায়। একদিন আমার ভাই সোহাগের নজরে আসে মোজাম্মিলের এই খেলার বিষয়। তখন সে চিন্তা করল গ্রামের বন্ধুবান্ধব ও ভাই ভাতিজাদের কে নিয়ে একটি টিম গঠন করার। এরপর থেকে তাদেরকে নিয়ে মাঠে, বাড়ির পাশের জায়গায় সে প্র্যাকটিস করাতো, তাদের পেছনে শ্রম দিয়েছে। আজকে তারা এই পর্যন্ত আসার পেছনে আমার ভাই সোহাগ উদ্দিনের শ্রম আছে , সোহাগ এখন লন্ডনে আছে। সে সব সময় তাদের খোঁজ নেবার চেষ্টা করে।
মোজাম্মেলের চাচা মো. আমীর হুসেন বলেন, দেশবাসী যদি মোজাম্মেলের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে ইনশাল্লাহ তার স্বপ্ন পূরণ হবে। আপনাদের সবার দোয়া ও সহযোগিতায় সে ভালো একটি পজিশনে যেতে পারবে এবং আরও ভালো পারফরম্যান্স উপহার দিতে সক্ষম হবে। যদি কোনো ভালো ক্লাবে সুযোগ পায়, তবে জীবনের সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে প্রমাণ করবে যে সে সত্যিকার অর্থেই একজন মেধাবী ও যোগ্য খেলোয়াড়।
মোজাম্মেল হোসেনের এই অসাধারণ প্রতিভা সম্প্রতি নজরে আসে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। তাঁর নির্দেশে বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জে আসেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক গোলরক্ষক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক আমিনুল হক। তিনি মোজাম্মেল হোসেন ও একই উপজেলার আরেক প্রতিভাবান ক্ষুদে ফুটবলার ইয়াসিন আমিনের বাড়িতে গিয়ে তাদের হাতে তুলে দেন ক্রীড়া সামগ্রী ও উপহার।
সাবেক জাতীয় দলের গোলরক্ষক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্রীড়া সম্পাদক আমিনুল হক বলেন, আমাদের দলের মাননীয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ নামে একটি নতুন কর্মসূচি হাতে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় আমরা বেশ কিছুদিন ধরে দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান ফুটবলার, ক্রিকেটার, দাবাড়ু এবং অন্যান্য ক্রীড়াবিদদের সন্ধান করছি। যখন এসব প্রতিভাবানদের ফুটেজ আমাদের নজরে আসে, আমরা সেসব এলাকায় সরাসরি যাই ও তাঁদের সঙ্গে দেখা করি, তাদের উৎসাহ দেই। সুনামগঞ্জে এসেছি দুই প্রতিভাবান ফুটবলার মোজাম্মেল ও ইয়াসিনের খোঁজে।
আমিনুল আরও বলেন, আমি নিজে একজন সাবেক গোলরক্ষক হিসেবে মোজাম্মেলের খেলা দেখে সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি। তার স্বপ্ন, সে একদিন আর্জেন্টিনার বিশ্বখ্যাত গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের মতো হতে চায়। একই এলাকার ইয়াসিন আমিনও একজন অসাধারণ মেধাবী খেলোয়াড়। ইয়াসিন আমিনের বাড়ি একই উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের আলাগদী গ্রামে। দুই শিশুর পরিবারই দরিদ্র। ইয়াসিন আমিন দশম শ্রেণিতে পড়ে। বাবা রুহুল আমিন মারা গেছেন দুই বছর আগে। দুই ভাই এক বোন আর মা ফিরোজা বেগমকে নিয়ে তাদের সংসার। মা দর্জির কাজ করে সংসার চালান। গ্রামের লোকজনও তাদের সহযোগিতা করেন। এই দুই শিশুর পাশেই দাঁড়াতে চান আমাদের নেতা তারেক রহমান।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন