প্রকাশিত: ১৯ অক্টোবর, ২০২৫ ২৩:০৯
বিশ্বম্ভরপুর মডেল উচ্চ বিদ্যালয়
শিক্ষাবর্ষের দশ মাস পেরিয়ে গেলেও জেলার বিশ্বম্ভরপুর মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ৫৪ জন শিক্ষার্থী এখনও একটি পাঠ্যবই (বাংলা) পায়নি। এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস একে অপরের উপর দায় চাপিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করছে। জানা যায়, শিক্ষার্থীরা বাংলা বই ছাড়াই অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা দিয়েছে। বার্ষিক পরীক্ষাও দোরগোড়ায়, বই না পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
রবিবার সকালে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বললে তারা জানায়, আমরা কেউই বাংলা বই এখনো পাইনি। বছরের শুরু থেকেই ম্যাডাম এবং স্যারকে বারবার বলার পরেও কোনো কাজ হয় নি। বই ছাড়াই আমরা অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা দিয়েছি।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক চন্দ্র শেখর সরকার জানান, সপ্তম শ্রেণীর শুধু বাংলা বইটিই বাকি ছিল। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে বইটি দেওয়ার কথা থাকলেও তারা ‘দেই-দিচ্ছি’ বলে কালক্ষেপণ করেছে। বাকি সকল শ্রেণির বই আমরা বিতরণ করেছি।
তবে প্রধান শিক্ষকের এই দাবিকে নাকচ করে দিয়ে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর আলম বললেন, এই বিষয়টি আমি এইমাত্র শুনলাম। স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাদের কোনো অভিযোগ বা চাহিদার কথা জানায়নি। তাদের কথাগুলো দায়সারা এবং অপরিপক্ক। জানুয়ারিতেই সারা উপজেলায় বই পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের স্কুলেই বইয়ের গুদাম রয়েছে। সবাই বই পেলে তারা কেন পাবে না? প্রয়োজন হলে আমরা বই ফটোকপি করে ছাপিয়ে দিতাম।
এদিকে কর্তৃপক্ষের এই দায়িত্বহীনতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল। জেলা বিএনপি'র আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও উপজেলা বিএনপি'র সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সুস্পষ্ট প্রচেষ্টার অভাবেই বছরের প্রায় শেষ পর্যায়েও শিক্ষার্থীরা এখন পর্যন্ত বই পায়নি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।
জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ও উপজেলার নতুনপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, মাস খানেক পরেই বার্ষিক পরীক্ষা, অথচ শিক্ষার্থীরা এখনো বই পায় নি। এটি সম্পূর্ণ অব্যবস্থাপনা, দায়িত্বহীনতা ও জ্ঞানহীনতার পরিচায়ক। এর দায় স্কুল কর্তৃপক্ষ কিংবা শিক্ষা অফিস কেউই এড়াতে পারে না।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন