শসা চাষে লাভবান কৃষকরা

প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর, ২০২৫ ২৩:২১

‘স্মার্ট বয়’ জাতের শসায় ফলন ভালো

সুনামগঞ্জ জেলা একসময় শুধু হাওর ও ধান নির্ভর এলাকা হিসেবে পরিচিত ছিল। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এখন দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। জেলার বিভিন্ন স্থানে ধানের পাশাপাশি কৃষকরা এখন চাষ করছেন নানা জাতের সবজি। বিশেষ করে শসা চাষে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে, যা কৃষকদের মুখে এনেছে হাসি।

 


কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ৩০৭ হেক্টর জমিতে শসা চাষ হয়েছে। এসব জমি থেকে উৎপাদিত হবে প্রায় ৫ হাজার ৩৭২ মেট্রিক টন শসা। যার বাজার মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকা। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, তুলনামূলক কম সময়ে ফলন ও ভালো বাজারদরের কারণে কৃষকরা এখন শসা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বাদেরটেক মধ্যপাড়ার কৃষক ইউনুস আলী বলেন, আমি এ বছর ৩ কেয়ার জমিতে হাইব্রিড জাতের শসা চাষ করেছি। এর মধ্যে রয়েছে স্মার্ট বয়, গ্রীন মাস্টার, গ্রীন স্কেট, গ্রীন বিউটি ও সুরমা-২ জাত। এর মধ্যে ‘স্মার্ট বয়’ জাতের ফলন সবচেয়ে ভালো হয়েছে। বর্তমানে দেড় কেয়ার জমির শসা সংগ্রহ করছি, আর বাকি দেড় কেয়ার নতুন করে রোপণ করা হয়েছে। প্রতি কেয়ার জমি থেকে প্রায় ১ লক্ষ ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকার শসা বিক্রি করা যায়। আমরা প্রতি মণ শসা ১,১৫০ থেকে ১,২০০ টাকায় বিক্রি করছি।

 


একই গ্রামের কৃষক নরুল হক বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে শিম চাষ করতাম, তবে এ বছর প্রথমবারের মতো শসা চাষ করেছি। ১ কেয়ার জমিতে শসা আবাদ করেছি, ইতোমধ্যে তিন দফা ফলন তুলেছি এবং প্রায় ৬০ হাজার টাকার শসা বিক্রি করতে পেরেছি। আশা করছি , মৌসুম শেষে মোট বিক্রয় হবে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা। এক কেয়ার জমিতে শসা চাষ করতে প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।

 


শসা চাষে বিপ্লব ঘটার সম্ভাবনা থাকলেও আছে নানা সংকট। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সুলেকাবাদ ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের কৃষক জয়নাল আবেদিন বলেন, আমি গত ১৫ বছর ধরে শসা চাষ করছি। এ বছর দশ বিঘা জমিতে শসা আবাদ করেছি। শসা চাষে ধানের তুলনায় অনেক বেশি লাভবান হওয়া যায়। তবে শসার একটি মারাত্মক সমস্যা হলো ‘মরক রোগ’। এই রোগে গাছ আক্রান্ত হলে শুকিয়ে যায়, তখন ওষুধ দিলেও তেমন কোনো কাজ হয় না। আমার এক বিঘা জমির ফসল এই রোগে নষ্ট হয়েছে- ওখান থেকে শুধু খরচ উঠানোর মতো ফলনই পেয়েছি।
আরেক কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, ১ কেয়ার জমিতে শসা চাষ করতে প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়। আমরা যারা ছোট কৃষক, আমাদের জন্য একসাথে এত টাকা যোগান দেওয়া বেশ কষ্টকর হয়ে পড়ে। অনেক সময় ধার–দেনা করে চাষ করতে হয়।

 


শসা চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়ার কথা জানিয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, শসা যেন সঠিকভাবে পুষ্ট হয় এবং মাছি-পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পায়, সে লক্ষ্যে আমাদের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠপর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন। আমরা কৃষকদেরকে ফেরোমন ফাঁদসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারে উৎসাহিত করছি, যাতে বালাইনাশক বা কীটনাশক ছাড়াই নিরাপদভাবে শসা উৎপাদন সম্ভব হয়। বর্তমানে শসার বাজার চাহিদা ও দাম ভালো থাকায় কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। ফলে আগামী দিনে শসা চাষ আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার