প্রকাশিত: ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ২১:৪৬
বসন্তের আগাম বারতা
ঋতুরাজ বসন্তের আগমনী সুরে ধীরে ধীরে রঙিন হয়ে উঠছে প্রকৃতি। আর কয়েকদিন পরই রক্তরাঙা শিমুল ফুলে সেজে উঠবে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের মানিগাঁও গ্রামে অবস্থিত এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ শিমুল বাগান।
বাগানের হাজার হাজার শিমুল গাছে ইতোমধ্যে দেখা দিয়েছে ছোট ছোট কলি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যেই এসব কলি থেকে ফুটে বেরোবে উজ্জ্বল লাল শিমুল ফুল। তখন পুরো বাগান যেন লাল গালিচায় মোড়া এক অনন্য দৃশ্যে রূপ নেবে।
পাহাড়ি নদী জাদুকাটার তীর ঘেঁষে অবস্থিত এই শিমুল বাগানটি পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র। একদিকে ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশ, মাঝখানে স্বচ্ছ জাদুকাটা নদী আর নদীর পাশে সারি সারি শিমুল গাছ এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মেলবন্ধন দেশের অন্য কোথাও সহজে চোখে পড়ে না।
প্রতি বছর ফাগুনের শুরুতেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার পর্যটক ভিড় জমান শিমুল বাগানে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এবারও নির্ধারিত সময়েই কলি এসেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ফেব্রুয়ারির শুরুতেই পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠবে পুরো এলাকা।
.jpg)
শিমুল বাগানে ছবি তুলতে আসা ওয়াহিদুর রহমান বলেন, এখন গাছে কলি এসেছে। আমাদের ধারণা, আর ১৫ দিনের মধ্যেই ফুল ফুটবে। বর্তমানে পর্যটক তুলনামূলক কম, তবে ফেব্রুয়ারিতে ফুল ফুটলে দর্শনার্থীর সংখ্যা অনেক বেড়ে যাবে।
পর্যটক বাবুল মিয়া বলেন, এখন পুরো বাগান সবুজ। গাছে গাছে কলি দেখা যাচ্ছে। আর কিছুদিন পর ফুল ফুটলে দৃশ্যটা একেবারেই ভিন্ন রকম হবে।
এদিকে দর্শনার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্য বাড়াতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন বাগান কর্তৃপক্ষ। শিমুল বাগানের প্রতিষ্ঠাতা জয়নাল আবেদিনের ছেলে রাকাব উদ্দিন জানান, গত মৌসুমে দর্শনার্থীদের জন্য দোলনা ও চেয়ার বসানো হয়েছিল। এবারও নানা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। চেঞ্জিং রুমের কাজ চলছে, দ্রুত শেষ হবে আশা করছি। পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিকিউরিটি ব্যবস্থাও আরও জোরদার করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে বসন্তের আগমনী বার্তা নিয়ে রক্তরাঙা শিমুল ফুলে আবারও নতুন রূপে ধরা দিতে প্রস্তুত তাহিরপুরের শিমুল বাগান।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন