প্রকাশিত: ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২৩:২৫
ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ জেলার লাখো কৃষকের সারা বছরের ভাগ্য নির্ধারণ করে বোর ফসল। এই সোনালি ফসলকে আগাম বন্যার হাত থেকে রক্ষা করতে প্রতি বছর সরকার কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। ‘কাবিটা নীতিমালা-২০২৩’ অনুযায়ী, ১৫ ডিসেম্বর বাঁধের কাজ শুরু এবং ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও, এই লক্ষে কর্মতৎপরতা কম এবার। প্রশাসনের সকল স্তরের কর্মকর্তারা নির্বাচনী কাজে যুক্ত হওয়ায়, ফসল রক্ষা বাঁধের কাজের তদারকিতে ঘাটতি পড়েছে।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার নয় থেকে ১৩ নম্বর পিআইসি ঘুরে দেখা যায়- ফুলবড়ি, কাটাখালি গ্রাম সংলগ্ন পিআইসি, হরিমইন্না বাঁধ ও বেকাবাঁধে চলছে এখনো মাটির কাজ। ক্লোজারগুলোতে বাঁশের আড়, দুরমুজ, ঘাস লাগানো এসব কাজ এখনো শুরু হয় নি। স্থানীয়দের মতে, কাজে এমন ধীরগতি থাকলে, আগামী একমাসেও শেষ হবে না ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ।
ফুলবড়ি-কাটাখালি গ্রামের কৃষক তাহির আলী বললেন, কাজ করতেছে না, জায়গায় জায়গায় এখনো অনেক কাজ বাকি রয়েছে। দুদিন পরে বৃষ্টি নামলে তখন আর কিভাবে কাজ করবে। ঘাস লাগাতে পারবে না, মাটিও আনতে পারবে না। কোন দিন তাহলে এই কাজগুলো শেষ করবে। নদীতে যদি ঢল আসে তাহলে তো বিপদ হাওরের। কাজ শেষ করতে এক মাসের কমে পারবে না, একটা জায়গাতেও এখনো ঘাস লাগানো ও ফিনিশিংয়ের কাজ করা হয় নি, মাটির কাজও জায়গায় জায়গায় বাকি রয়ে গেছে।
ফুলবড়ি গ্রামের কৃষক সুমন বনিক বলেন, ‘কিছু কিছু জায়গাতে এখনো মাটি ফেলার কাজ বাকি রয়েছে, এরপর ফিনিশিং, ঘাস লাগানো এসব কাজ বাকি। তারা যেভাবে কাজ করতেছে চৈত (চৈত্র) মাসের ১৫ থেকে ২০ তারিখে গিয়ে গড়াবে। আমরা চাই, মেঘ বৃষ্টি আসার আগে যেন এই কাজগুলো শেষ হয়, ফসল যেন নিরাপদ থাকে।’
একই গ্রামের আরেক কৃষক আবু তাহের বলেন, কাজের যে অগ্রগতি এইভাবে ২৮ তারিখের মধ্যে কোনোভাবেই শেষ করা সম্ভব নয়। আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজটা শেষ দেখতে চাই। অনেক কাজ এখনো বাকি রয়ে গেছে, ঘাস লাগানো, দুরমুজ দেওয়া, ফিনিশিং করা, মাটির কাজ চলছে। কোন ভাবেই মনে হচ্ছে না যে, ২৮ তারিখের মধ্যে কাজ শেষ হবে। দায়িত্বশীলদের কাছে আমাদের দাবি যেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ কমপ্লিট করা হয়। ফেব্রুয়ারির পরে কাজ করায় ঝুঁকি আছে, মেঘ-বৃষ্টি পড়লে কাজ করা সম্ভব নয়।
আরেক কৃষক কবির হোসেন বললেন, মাটির কাজ শেষ করে সাথে সাথে ঘাস লাগানো হলে, ঘাস শিকড় ছড়াতে পারতো। কিন্তু তারা মাটির কাজই এখনো শেষ করে নি, পরে খরার মধ্যে ঘাস লাগাবে, তখন ঘাসগুলো টিকবে না, মরে যাবে।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার নয় নম্বর পিআইসি’র সভাপতি রতিন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘আমরা ঠিক মতো বিল পাচ্ছি না, আমাদের টাকা জোগাড় করতে করতেই কাজের গতি কমে আসছে, চেষ্টা করছি সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করার।
হাওর রক্ষা ও নদী রক্ষা আন্দোলন জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. ওবায়দুল হক মিলন বলেন, কৃষকদের নিরুৎসাহিত করতেই এই তালবাহানা করা হচ্ছে। কৃষকরা যেন পরবর্তীতে আর পিআইসি নিতে না চায় এবং তাদের কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায়- সেই সুযোগ তৈরি করতে ব্যস্ত পাউবো (পানি উন্নয়ন বোর্ড)। এর মাধ্যমে পিআইসি প্রথা বিলুপ্ত করে পুনরায় ঠিকাদারি প্রথায় ফিরিয়ে আনাই তাদের উদ্দেশ্য।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার জানালেন, এ বছর ৭১০ টি পিআইসির মাধ্যমে ৬০১ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ ও মেরামতের কাজ চলছে। সার্বিক অগ্রগতি ৬৫ শতাংশ, ক্লোজারের (ভাঙন অংশ) অগ্রগতি ৭৩ শতাংশ।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন