প্রকাশিত: ২৪ নভেম্বর, ২০২৩ ০৭:৪৭
তাহিরপুরে এমএ জাহের উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী হাজী এমএজাহের উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আক্তারুজ্জামান খান তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এমএ জাহের উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের লক্ষ্যে বুধবার বিদ্যালয়ে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শেষে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফলাফল সিটে স্বাক্ষর না করায় তাঁকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে আটকে রেখে বিক্ষোভ করছিল একদল যুবক। এ অবস্থায় নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল সিটে স্বাক্ষর না করেই চলে আসেন তাহিরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান।
নিয়োগ কমিটির সদস্য সুনামগঞ্জ এসসি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বলেন, নিয়োগ পরীক্ষায় ডিজি মহোদয়ের প্রতিনিধি হিসাবে সুনামগঞ্জ এসসি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উপস্থিত থাকার কথা ছিল। প্রধান শিক্ষক অসুস্থ থাকার কারণে তিনি নিয়োগ পরীক্ষায় প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
প্রতিনিধির বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আপনাকে কোন চিঠি দিয়েছেন কি না জানতে চাইলে আমিনুল ইসলাম বলেন, আমাকে কোন চিঠি দেয়া হয়নি। প্রধান শিক্ষকের মৌখিক নির্দেশনাতেই আমি নিয়োগ পরীক্ষাতে উপস্থিত হয়েছি।এমএ জাহের উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী মো. হারিস মিয়া বলেন, সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল সিটে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মহোদয় স্বাক্ষর না করায় নিয়োগ পরীক্ষা শেষে ৩ ঘন্টা অফিস কক্ষে আটকে রেখেছিলেন নিয়োগ কমিটির লোকজন। এ সময় একদল যুবক শ্লোগান দিচ্ছিল ‘স্বাক্ষর চাই, স্বাক্ষর চাই’। শেষে স্বাক্ষর না দিয়েই তিনি তাহিরপুরে চলে যান।
এমএ জাহের উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রুহুল আমিন বলেন, পরীক্ষার খাতায় পরীক্ষার্থীর কয়েকটি অঙ্কে সামান্য ভুল থাকায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অঙ্কগুলো কেটে দেন। এ নিয়ে তার সাথে আমাদের কমিটির লোকজনের সাথে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। পরে বিষয়টি নিস্পত্তি হয়েছে।
সুনামগঞ্জ জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তাহিরপুরে এমএ জাহের উচ্চ বিদ্যালয়ের নিয়োগ সংক্রান্তের অনিয়মের বিষয়ে তিনি শুনেছেন। তিনি আরও বলেন, তাহিরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বলে দিয়েছেন নিয়োগ সংক্রান্ত কোন কাগজপত্রে স্বাক্ষর না দিতে।
তাহিরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি একমত না হওয়ায় কোন কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেননি।তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুপ্রভাত চাকমা বলেন, এমএ জাহের উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় একটি অনিয়মের অভিযোগ তিনি শুনেছেন। বর্তমানে তিনি সিলেটে অবস্থান করছেন। এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন