প্রকাশিত: ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ২২:৪৬
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-ইসরাইল সংঘাতের প্রভাবে সারা দেশের মতো সুনামগঞ্জেও দেখা দিয়েছে জ্বালানি তেলের সংকট। জেলার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। তবে ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও পেট্রোল ও অকটেন রেশনিং পদ্ধতিতে সীমিত আকারে দেওয়া হচ্ছে।
এই সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে জেলার পরিবহন খাতে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। জ্বালানি তেলের জন্য জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে দেখা যাচ্ছে চালকদের।
বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের ছফেদা ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন ফিলিং স্টেশন থেকে বিদ্যুৎ অফিস পর্যন্ত বিস্তৃত। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অধিকাংশই তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর ও জামালগঞ্জ রুটে ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালক।
বাদাঘাট এলাকার মোটরসাইকেল চালক নুর আলম বলেন, আমরা ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। কিন্তু তেলের জন্য তিন-চার ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। সুনামগঞ্জে চারটি পাম্প থাকলেও সচল থাকে মাত্র একটি। আমাদের এলাকায় যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম মোটরসাইকেল, অথচ কোন পাম্প নেই।
কলাগাঁও এলাকার চালক মুজিবুর রহমান বলেন, তাহিরপুর থেকে যাত্রী নিয়ে সুনামগঞ্জে আসি। কিন্তু তেল সংগ্রহের জন্য অনেক কষ্ট করতে হচ্ছে। রাস্তাঘাট খারাপ, তার ওপর ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হয়। আমরা দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চাই।
ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির কর্মী মো. সুমন রানা বলেন, আমাদের কাজের বেশিরভাগ সময়ই মোটরসাইকেলে চলতে হয়। সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, কিন্তু দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৩০০ টাকার তেল, এতে কাজ চালানো সম্ভব নয়।
আরেক চালক ওমর ফারুক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সারাদিন লাইনে দাঁড়িয়ে ৩০০ টাকার তেল পাই, যা দিয়ে একটি ট্রিপও দেওয়া যায় না। এতে আয় করা কঠিন হয়ে পড়েছে, সংসার চালানো যাচ্ছে না।
ছফেদা ফিলিং স্টেশনের সহকারী ম্যানাজার অমৃত রায় জানান, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকার জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় মাঝেমধ্যেই পাম্পে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন