প্রকাশিত: ২০ এপ্রিল, ২০২৬ ২৩:৩৯
সারাদেশে হামের প্রকোপের প্রভাব হাওরের জেলা সুনামগঞ্জেও পড়তে শুরু করেছে। জেলায় এখন পর্যন্ত মোট ৩২১ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এরমধ্যে নিশ্চিতভাবে আক্রান্ত হয়েছেন ১৪ জন। এছাড়া সন্দেহজনকভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে দুইজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
সোমবার সকালে সুনামগঞ্জ সদর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডে বর্তমানে ১৬ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, আক্রান্ত শিশুরা চিকিৎসা নিয়ে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন।
.jpg)
হাসপাতালে ভর্তি তাহিরপুর উপজেলার আনোয়ারপুর গ্রামের বাসিন্দা মোফাজ্জল হোসেন জানান, তার ভাই কয়েকদিন ধরে অসুস্থ থাকলেও প্রথমে বিষয়টি ধরা পড়েনি। পরে হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসকরা হাম শনাক্ত করে তাকে হাম ওয়ার্ডে ভর্তি দেন।
দিরাই উপজেলার টাইলা গ্রামের নীলিমা আক্তার বলেন, প্রথমে তার শিশুকে নিউমোনিয়া হিসেবে ভর্তি দেওয়া হয়। পরে পরীক্ষার পর হাম ধরা পড়লে তাকে হাম ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়।
তিনি আরও বলেন, তার সন্তানের জ্বর ওঠানামা করছে। কাশি বেশি এবং মাঝে মাঝে বমিও হচ্ছে। তবে হাসপাতালে চিকিৎসা ভালোভাবে চলছে, যদিও কিছু ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে।
একই উপজেলার সুইফা বেগম তার ছয় মাস বয়সী শিশুকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তিনি বলেন, প্রথমে নিউমোনিয়া হিসেবে ভর্তি দেওয়া হলেও পরে হাম শনাক্ত হয়। বর্তমানে শিশুর অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে।
হাসপাতালে ভর্তি শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া দুর্গাপুরের বাসিন্দা আলিমুন বলেন, বড় সন্তান হাম থেকে সুস্থ হওয়ার পরপরই ছোট সন্তান আক্রান্ত হয়েছে, যা পরিবারে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাহবুবুর রহমান স্বপন বলেন, হামের লক্ষণ নিয়ে প্রতিদিনই রোগী ভর্তি হচ্ছেন। সন্দেহজনক রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। বর্তমানে ভর্তি রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়া হচ্ছে এবং অধিকাংশই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। এখন পর্যন্ত কাউকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বাইরে রেফার করা হয়নি।
সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. জসিম উদ্দিন জানান, জেলায় হামের প্রকোপ তুলনামূলক কম। আক্রান্ত ১৪ জনই ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। সন্দেহজনক দুইজনের মৃত্যুর বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়, রিপোর্টের অপেক্ষা চলছে।
তিনি আরও জানান, হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সোমবার থেকে জেলাজুড়ে টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী প্রায় ৩ লাখ ৩৫ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন