প্রকাশিত: ০৬ মে, ২০২৬ ২৩:৫৫
জেলার হাওরাঞ্চলে বৈশাখ মানেই অন্যরকম এক উৎসব। বিস্তীর্ণ হাওরের বুকজুড়ে সোনালি ধান কাটার মৌসুমে খলাগুলো জমে উঠত প্রাণচাঞ্চল্যে। কৃষকের ব্যস্ততা, শ্রমিকদের হাঁকডাক, বেপারিদের আনাগোনা আর বাহারি খাবারের দোকানে মুখর থাকত হাওরের খলা। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসত শুধু এই মৌসুমকে কেন্দ্র করে ব্যবসা করতে। কিন্তু এ বছর সেই চিরচেনা দৃশ্য যেন হারিয়ে গেছে। বৈশাখের আনন্দকে ম্লান করে দিয়েছে অতিবৃষ্টি আর জলাবদ্ধতা। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা, সরকারি হিসাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমির ধান। ফলে কৃষকের মুখে নেই হাসি, খলাগুলোতেও নেই আগের মতো উৎসবের আমেজ।
যেখানে অন্যান্য বছর খলাগুলোতে সারি সারি অস্থায়ী দোকান বসত, হকাররা নিয়ে আসতেন নানা ধরনের খাবার, ফলমূল, চা-নাশতা, আঙুল বাজা, রসগোল্লা, জিলাপিসহ অন্যান সামগ্রী- সেখানে এবার অনেক খলাই প্রায় ফাঁকা। কৃষকের হাতে নগদ অর্থের সংকট, ফসল নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং বৃষ্টির কারণে ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন বিপাকে।
বুধবার জাওয়ার হাওরের কালীপুরের খলায় সরেজমিনে দেখা যায়, নেত্রকোনার চল্লিশকাইন্না বেপারীপাড়া থেকে পরিবার নিয়ে সুনামগঞ্জ এসেছেন রাকিবুল ইসলাম। প্রতি বছর বৈশাখে খলাকে কেন্দ্র করে ব্যবসা করেন তিনি, তবে এবার এসে হতাশ।
রাকিবুল ইসলাম বলেন, বৈশাখে খলাতে বেচাকেনা করার জন্য আসছিলাম। কিন্তু হাওরের খলাতেও তো বিক্রি হচ্ছে না, বাড়িঘরেও নিয়ে যাচ্ছি কোথাও বিক্রি হচ্ছে না। আগের বছরগুলোতে দৈনিক ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা লাভ করা যেত। কিন্তু এবার ২০০ থেকে ৩০০ টাকাও লাভ হচ্ছে না। হাওরে কোনো ব্যবসাই হচ্ছে না। চাষীদের মধ্যে আনন্দ নেই, তাই আমাদেরও বিক্রি হচ্ছে না। এবার সুনামগঞ্জে এসে লসের মুখে পড়লাম।
শুধু রাকিবুল নন, এমন দুরবস্থার কথা জানিয়েছেন আরও অনেক মৌসুমী ব্যবসায়ী। কেউ চা বিক্রি করেন, কেউ মুড়ি-চানাচুর, কেউ আবার আইসক্রিম নিয়ে আসতেন। কৃষকের ধান কাটা মৌসুমকে ঘিরেই তাদের বছরের বড় একটি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়। কিন্তু এ বছর বৃষ্টি সেই আশায়ও পানি ঢেলে দিয়েছে।
হাওরাঞ্চলের কৃষকরাও রয়েছেন চরম দুশ্চিন্তায়। একদিকে পানিতে ডুবে আছে কাটা না হওয়া ধান, অন্যদিকে কষ্ট করে কেটে আনা ধান শুকাতে না পেরে নষ্ট হওয়ার শঙ্কা। ফলে কৃষকের ঘরে যেমন স্বস্তি নেই, তেমনি খলার অর্থনীতিও থমকে গেছে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন