প্রকাশিত: ০৫ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০৭:০০
শনির হাওরের স্লুইসগেট খোলা থাকার কারণে হাওরের পানি দ্রুত সরে যাচ্ছে। এই অবস্থায় হাওরের কৃষকরা বোর ধান রোপন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
জেলার সর্ববৃহৎ বোর ফসলি ধানের হাওর তাহিরপুর উপজেলার শনির হাওরের স্লুইসগেট খোলা থাকার কারণে হাওরের পানি দ্রুত সরে যাচ্ছে। এই অবস্থায় হাওরের কৃষকরা বোর ধান রোপন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। হাওরপাড়ের কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বছর বোর ধান রোপন মৌসুমে (নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে) স্লুইস গেটের সব ফলবোর্ড লাগানো থাকতো। এ বছর গেটের সকল ফলবোর্ড উঠিয়ে দেয়ার কারণে হাওরের পানি দ্রুত নেমে যাচ্ছে। কৃষকদের একটি পক্ষ চাইছেন স্লুইসগেটের সকল ফলবোর্ড খোলা রাখতে। তবে হাওরের ৮০ ভাগ কৃষকদের মতামত হচ্ছে হাওরের স্লুইসগেটের সকল ফলবোর্ড লাগিয়ে রাখা।
শনির হাওর পাড়ের উজান তাহিরপুর গ্রামের কৃষক হাফিজ উদ্দিন বলেন, শনির হাওরের পানি দ্রুত কমে যাচ্ছে। এভাবে হাওরের পানি কমতে থাকলে কৃষকরা তাদের বোর ধান রোপনের সময় পানির জন্য মারাত্মক দুর্ভোগে পড়বে। তিনি আরও বলেন, তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন ও শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের কৃষকদের জমি রয়েছে শনির হাওরে। এসব এলাকার ৮০ ভাগ কৃষকই চান স্লুইস গেটের সকল ফলবোর্ড লাগানো থাকার জন্য।
ভাটি তাহিরপুর গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলাম বলেন, বোর ধান রোপন মৌসুমে হাওরের পানি সংরক্ষণ রাখতে হয়। শুনেছি শনির হাওরের স্লুইস গেটের সকল ফল বোর্ড এখনো লাগানো হয়নি। দ্রুত সময়ের মধ্যে গেটের ফলবোর্ডগুলো লাগানো না হলে হাওরের পানি দ্রুত সরে যাবে। এতে করে কৃষকরা পানির মারাত্মক দুর্ভোগে পড়বে।
শনির হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে নিয়োজিত বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী মনির হোসেন বলেন, শনির হাওরের স্লুইসগেটের ফলবোর্ড লাগানোর জন্য গত বৃহস্পতিবার সেখানে গিয়ে দেখি শতাধিক কৃষক দাঁড়িয়ে আছে। আমি যাওয়া মাত্র তারা জানতে চায় আমি কে। তখন আমি যদি তাদেরকে আমার পরিচয় দিয়ে বলি, আমি স্লুইস গেটের ফলবোর্ড লাগাতে এসেছি। কিন্তু পরিস্থিতি অনুকূল না থাকায় আমি সেখান থেকে চলে এসে বিষয়টি ইউএনও স্যারকে অবহিত করেছি।
শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলী আহমদ মুরাদ বলেন, স্লুইস গেটের ফলবোর্ড খোলা নিয়ে শনির হাওরে দু’টি পক্ষ হয়েছে। হাওরের উপরের অংশ (তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন) চান গেটের সকল ফলবোর্ড লাগিয়ে দিতে। নীচের অংশ (শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন) এর কিছু অংশ চান স্লুইস গেটের সকল ফলবোর্ড খুলে দিতে। এ অবস্থা সমাধানে দ্রুত আলোচনা করে সমাধান করা জরুরী বলে তিনি মনে করেন। স্লুইস গেটের ফলবোর্ড লাগাতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী মনির হোসেন এখানে আসার পর শতাধিক কৃষক মারমুখী অবস্থান নিয়েছে। এ অবস্থায় তিনি ফলবোর্ড না লাগিয়ে ওখান থেকে চলে যান।
শনির হাওর জলমহালের ইজারাদার তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদ সাবেক চেয়ারম্যান শামীম আখঞ্জি বলেন, শনির হাওরের পানি এখনই সংরক্ষণ করা না হলে জমি রোপন নিয়ে হাওরের কৃষকরা দুর্বিপাকে পড়বেন। তিনি আরও বলেন, উপজেলা প্রশাসন থেকে আমাকে দায়িত্ব দেয়া হলে সাথে সাথেই স্লুইস গেটের ফলবোর্ড লাগিয়ে দিবেন বলে তিনি জানান।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুপ্রভাত চাকমা বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলীকে বলে দিয়েছি দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্লুইসগেটের সকল ফলবোর্ডগুলো লাগিয়ে দিতে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন