প্রকাশিত: ৩০ জুন, ২০২৬ ২৩:২৫
রশি টেনে নৌকায় পারাপার, এভাবেই প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হচ্ছেন কয়েক গ্রামের হাজারো মানুষ। বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থী, রোগী কিংবা জরুরি সেবা প্রত্যাশী, সবার চলাচলের একমাত্র ভরসা যেন সেই পুরোনো রশি। যেনো এই রশি সবাই আটকে রেখেছে পুরনো যুগে। যুগের পর যুগ ধরে খাসিয়ামারা নদী পারাপারের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মেলেনি দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের।
আলীপুর—টেংরাটিলার মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া খাসিয়ামারা নদী শান্ত থাকলেও পাহাড়ি ঢলে মুহূর্তেই ভয়ংকর রূপ ধারণ করে। তখন নৌকায় নদী পারাপার আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। নুরপুর, আলীপুর, সুনাপুর, বৈঠাখাই ও হাসনবাহার গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি একটি সেতু।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় ৫০ বছর ধরে তারা এভাবেই রশি টেনে নদী পারাপার হচ্ছেন। তবে ২০২২ সালে খাসিয়ামারা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় তাদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছিল। কিন্তু নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো শেষ হয়নি সেতুর কাজ।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) মাধ্যমে ৫০০ মিটার চেইনেজে ৭৫ মিটার পিসি গার্ডার খাসিয়ামারা সেতু নির্মাণের জন্য বরাদ্দ ধরা হয় ৪ কোটি ২৬ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। ২০২২ সালে আলীপুর—টেংরাটিলা খেয়াঘাটে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু হয়।
আলীপুর গ্রামের বাসিন্দা রুমন মিয়া বলেন, ব্রিজের কাজ শেষ হলে আমাদের সন্তানদের স্কুলে যাতায়াত ও রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া সহজ হতো। কিন্তু পাঁচ বছর ধরে ব্রিজটি এভাবেই পড়ে আছে। ঠিকমতো কাজ হচ্ছে না। ইচ্ছা হলে শ্রমিক আসে, না হলে আসে না। এভাবে চললে আরও পাঁচ বছরেও কাজ শেষ হবে কিনা সন্দেহ আছে। আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি জানাই।
স্থানীয় মোটরসাইকেল চালক বিল্লাল হুসেন বলেন, এক বছর কাজ হয়, আরেক বছর বন্ধ থাকে। শ্রমিকরা কাজ করতে আসলে তাদের ঠিকমতো টাকা দেওয়া হয় না, এজন্য তারা কাজ ছেড়ে চলে যায়। মৌসুমে যখন নদীতে পানি বেশি হয় তখন নৌকা দিয়ে পারাপার হওয়া অনেক জটিল হয়ে দাঁড়ায়। স্কুল—কলেজের শিক্ষার্থীরা যাওয়া আসা করতে পারে না।
আলীপুর—টেংরাটিলা খেয়াঘাটের মাঝি আম্বর আলী বলেন, চার—পাঁচ বছর ধরে ব্রিজের কাজ কখনো চলে, কখনো বন্ধ থাকে। তাই যাত্রীদের অনেক কষ্ট হয়। ব্রিজের কাজটা হয়ে গেলে কয়েক গ্রামের মানুষ গাড়ি নিয়ে চলাচল করতে পারবে। অনেক মানুষ আফসোস করতে করতে মারা গেছেন, তারা জীবদ্দশায় ব্রিজ দেখে যেতে পারবেন কি না সেই অপেক্ষায় ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, রাতে ১/২ টায় বিপদে পরে অনেক সময় মানুষ আমাকে ফোন দিয়ে ঘুম থেকে তুলে, নদী পার করে দেওয়ার। খেয়া না থাকলে রোগীসহ মানুষ বিপদে পড়ে যায়।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, খাসিয়ামারা নদীর ওপর ৭২ মিটার ব্রিজটির প্রায় সব কাজ শেষ হয়েছে। শুধু একটি স্লাবের কাজ বাকি রয়েছে। দুই পাশের অ্যাপ্রোচের মধ্যে এক পাশের কাজও শেষ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য মৌখিকভাবে তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। এখন এমন একটি পর্যায়ে আছি, চাইলেও কাজ বাতিল করে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া সম্ভব নয়। এতে আরও সময় লাগবে। তাই আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত বাকি কাজ শেষ করতে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন