প্রকাশিত: ১০ জুলাই, ২০২৬ ২৩:১৪
প্রত্যন্ত হাওরাঞ্চলের কয়েকটি গ্রামের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিক শিক্ষার একমাত্র ভরসা মহিবুর রহমান মানিক সোনালী নূর উচ্চ বিদ্যালয়। তবে বিদ্যালয়টি মাধ্যমিক পর্যন্ত হওয়ায় এসএসসি পাসের পর উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের। দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থা, নিকটবর্তী কলেজের অভাব এবং আর্থিক সংকটের কারণে অনেক শিক্ষার্থী— বিশেষ করে মেয়েরা মাধ্যমিকের পরই ঝরে পড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ অবস্থায় বিদ্যালয়টিকে কলেজে উন্নীত করার জোর দাবি তুলেছেন এলাকাবাসী।
দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের কাংলার হাওরের পূর্ব পাড়ে অবস্থিত এ বিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশই মেয়ে শিক্ষার্থী। বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করার পর উচ্চমাধ্যমিকে পড়তে যেতে হয় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার দূরের কলেজে। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর জন্য নেই কোনো সরাসরি সড়ক যোগাযোগ। ফলে অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
.jpg)
স্থানীয়দের দাবি, হাওরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষা নিশ্চিত করতে এবং নারী শিক্ষার প্রসারে মহিবুর রহমান মানিক সোনালীনূর উচ্চ বিদ্যালয়কে দ্রুত কলেজে উন্নীত করা প্রয়োজন। এতে নূরপুর, আলিপুর, বৈঠখাই, হাসন বাহারসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের শত শত শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার সুযোগ মিলবে।
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মৌমিতা জাহান মিতা বলেন, আগামী বছর এসএসসি পরীক্ষা। পরীক্ষার পর কোথায় পড়ব তা নিয়ে এখন থেকেই দুশ্চিন্তায় আছি। আশপাশে কোনো কলেজ নেই। দূরের কলেজে যাতায়াতের সুবিধা না থাকায় পরিবার আমাকে পড়তে পাঠাবে কি না, সেটিও অনিশ্চিত। অনেক মেয়েই এই কারণে এসএসসির পর পড়াশোনা বন্ধ করে দেয়। বিদ্যালয়টি কলেজে উন্নীত হলে আমাদের মতো শিক্ষার্থীরা এখানেই উচ্চমাধ্যমিক শেষ করতে পারব।
একই শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রমিতা আক্তার বলেন, কলেজ না থাকায় নূরপুর, আলিপুর, বৈঠখাই, হাসন বাহারসহ আশপাশের গ্রামের শিক্ষার্থীদের অনেক দূরে যেতে হয়। আর্থিক সংকট ও যাতায়াত সমস্যার কারণে অনেক অভিভাবক সন্তানদের কলেজে ভর্তি করাতে পারেন না। বিশেষ করে মেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। বিদ্যালয়টি কলেজে উন্নীত হলে এই সমস্যার সমাধান হবে।
শিক্ষার্থী মোবারক হোসেন বলেন, ভালো ফল করে কলেজে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন থাকলেও দূরের কারণে অনেকেই ভর্তি হতে পারে না। আবার ভর্তি হলেও নিয়মিত যাতায়াত করতে না পেরে পড়াশোনা ছেড়ে দেয়। তাই বিদ্যালটিকে কলেজে রুপান্তর করা হলে শিক্ষার্থীরা সহজেই উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করতে পারবে।
স্থানীয় বাসিন্দা আশিস রহমান বলেন, প্রত্যন্ত হাওরাঞ্চলের কয়েকটি গ্রামের একমাত্র মাধ্যমিক বিদ্যালয় এটি। আশপাশে কোনো কলেজ নেই, পাকা সড়কও নেই। ফলে উচ্চশিক্ষা অনেকটা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিদ্যালয়টিকে কলেজে উন্নীত করা হলে এলাকার শিক্ষার্থীরা বড় উপকার পাবে।
বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. রেজাউল করিম বলেন, দুর্গম অবস্থানের কারণে এসএসসি পাসের পর অধিকাংশ শিক্ষার্থী উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি হতে পারে না। অভাব—অনটন ও সচেতনতার ঘাটতির কারণে অনেক পরিবার সন্তানদের দূরে পড়তে পাঠাতে চায় না। বিদ্যালয়টি কলেজে উন্নীত হলে হাওরাঞ্চলের অসংখ্য শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম জানান, ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিবছর ভালো ফলাফল করলেও কলেজ না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী মাধ্যমিকের পর ঝরে পড়ছে। তিনি বলেন, বিদ্যালয়টিকে উচ্চমাধ্যমিকে উন্নীত করা হলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছেলে—মেয়েরা অন্তত এইচএসসি পর্যন্ত পড়ার সুযোগ পাবে এবং উচ্চশিক্ষার পথ আরও সহজ হবে।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জুলফিকার হোসেন বলেন, বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে দেখেছি সেখানে প্রায় ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে এবং বহুতল ভবনসহ পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা আছে। উচ্চমাধ্যমিক চালুর জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুবিধাও রয়েছে। তিনি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছেন এবং জেলা শিক্ষা অফিস থেকেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন