প্রকাশিত: ২১ জুলাই, ২০২৬ ২০:১২
শাবিপ্রবিতে শিক্ষার্থী মারধর
সু.খবর ছবি
হলের খাবারের মান নিয়ে মন্তব্য করার জেরে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় জড়িত ছাত্রদলের (সদ্য বহিষ্কৃত) দুই নেতার শাস্তির দাবিতে তৃতীয় দিনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সমাবেশে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন। এসময় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ক্লাস—পরীক্ষা বর্জনসহ আরও কঠোর কর্মসূচির দিকে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে একাডেমিক ভবন ‘ডি’ এক্সটেনশন প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবন—১—এর সামনে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।
এ সময় শিক্ষার্থীদের ‘খাইরুলের ওপর হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘সাস্টিয়ান সাস্টিয়ান, এক হও এক হও’, ‘অ্যাকশন অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘জাস্টিস, জাস্টিস, উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘জাস্টিস ফর খাইরুল’, ‘লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে’, এবং ‘সন্ত্রাসীর দুই গালে, জুতা মারো তালে তালে’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে শোনা যায়।
সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেসুর রহমান উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন। শিক্ষার্থীরা প্রক্টরকে বলেন, গতকাল রাত থেকেই অভিযুক্ত তারেক রহমানের বিভাগের পক্ষ থেকে হামলার ঘটনাকে স্বাভাবিক হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করে বিভিন্ন বিবৃতি দেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া তারেক রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহানুভূতি অর্জনের উদ্দেশ্যে ক্ষমা চেয়ে পোস্ট করছেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, এসব কর্মকাণ্ড যেন তদন্ত কমিটিকে কোনোভাবেই প্রভাবিত না করে। তারা হামলার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও ভুক্তভোগীর ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
প্রক্টর শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, তদন্ত কমিটি কাজ করছে। আজকে প্রতিবেদন জমা দিবেন। আগামীকাল সিন্ডিকেট ডেকে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কারো কোন কার্যক্রমে তদন্ত প্রতিবেদন প্রভাবিত হবে না।তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলামকে একাধিকবার কল দিলেও সাড়া মিলনি।
এর আগে, ভোর আনুমানিক চারটার সময় তার ব্যাচের পক্ষ থেকে এক বিবৃতি দেওয়া হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করলে তার শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে উল্লেখ্য করে বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানানো হয়।
সিলেট থেকে আরো পড়ুন