প্রকাশিত: ২৫ জুলাই, ২০২৬ ২০:১৯
সু.খবর ছবি
সিলেটের শিক্ষা ক্ষেত্রে বিদ্যমান ঘাটতি দূর করতে সরকারি—বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, এমপি। তিনি বলেন, সিলেটে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে যে ঘাটতি রয়েছে তা পূরণে এখনও আমাদের অনেক দূর যেতে হবে। শনিবার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘রাইজ’ এবং ‘ইউরো কিডস’ স্কুলের বার্ষিক গ্রাজুয়েশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সিলেটে শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি বড় গ্যাপ ছিল, যা পুরোপুরি মিটে গেছে তা বলা যাবে না। তবে এই শূন্যতা পূরণে এগিয়ে আসার জন্য উদ্যোক্তা মিজানুর রহমান চৌধুরী ও ফয়সল চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানাই। তারা রাইজ’ এবং ‘ইউরোকিডস’ স্কুল—এর মতো মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে যে উদ্যোগ নিয়েছেন তা প্রশংসনীয়।
শিক্ষা ব্যবস্থার নানা কাঠামোগত দুর্বলতা ও বৈষম্যের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম ও মাদ্রাসা শিক্ষা—এই ভিন্ন ভিন্ন ধারায় আমরা শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলছি। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে যদি সঠিক শিক্ষার মান ও প্রয়োজনীয় বিষয় নিশ্চিত করা না যায়, তবে পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
একই দেশের অভ্যন্তরে শিক্ষা ব্যবস্থার কারণে যাতে বিভিন্ন যোগ্যতার ও ভিন্ন প্রকৃতির জনগোষ্ঠী তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক করে মন্ত্রী সকল শিক্ষা মাধ্যমের কারিকুলামে সামঞ্জস্য আনার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাংলা বা ইংরেজি মাধ্যম যা—ই হোক না কেন, শিক্ষার মানদণ্ডে একটি কাছাকাছি বা সমান মান ধরে রাখতে হবে। পাশাপাশি আধুনিক সময়ের চাহিদা অনুযায়ী সকল মাধ্যমে আইটি শিক্ষা ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণকে মৌলিক বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।
অতিথির বক্তব্যে রয়েল এডুকেয়ার লিমিটেডের চেয়ারম্যান ফয়সল আহমদ চৌধুরী বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা যাতে বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে লেখা পড়া করতে পাড়ে সেজন্য সব ধরনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে আমাদের এই দুটি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানে লেখা পড়া করে আমাদের অনেক শিক্ষার্থী বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নামি—দামি বিশ্ববিদ্যালয়ে সুনামের সাথে লেখাপড়া করছে।
অনুষ্ঠানে র্যায়ল এডুকেয়ার লিমিটেডের ভাইস চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, আজকের ছোট্ট ছোট্ট শিক্ষার্থীরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ, আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিনির্মাণে, আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যে স্বপ্ন সেই স্বপ্ন এই শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে বলে আশা করি। ইউরো কিডসের এসিস্ট্যান্ট হেড সাবরিনা আক্তার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সেন্ট্রাল হেড ইউরো কিডস রুশিনা আহমদ চৌধুরী ও অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ হেড রাইজ জিনাত মোস্তফা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. খাইরুল ইসলাম, সিলেট উন্নয়ন কতৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামিম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এসএমপি) মো. এনামুল হক, সিলেট এর পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. জাবের সাদেক, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেইন চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম, মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি মাহবুব কাদির শাহি প্রমুখ। এছাড়া অনুষ্ঠানে ঐতিহ্যবাহী ফ্যাশন শো, বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত ঐতিহ্য, ব্যান্ড সংগীতের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি, ‘দ্য হ্যান্ডস দ্যাট বিল্ট বাংলাদেশ’ শীর্ষক পরিবেশনা, গ্র্যান্ড মিউজিক্যাল এবং ম্যাশআপ অনুষ্ঠিত হয়। গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীদের সনদ প্রদান, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং কৃতী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদানের মধ্য দিয়ে জমকালো আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।
জনগণের ভোগান্তি কমাতে সরকার কাজ করছে
বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, জনগণের ভোগান্তি কমাতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সিলেট শহরের যানজট নিরসনে আম্বরখানা থেকে লাক্কাতুরা পর্যন্ত সড়ক নির্মাণের নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, যা সিলেটবাসীর জন্য আশীর্বাদস্বরূপ হবে।
তিনি শনিবার সিলেট সার্কিট হাউসে সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত যৌথ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
সড়ক নির্মাণকাজের অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত হয়ে মন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে প্রধান সড়কগুলোর নির্মাণকাজ এবং চলমান প্রকল্পসমূহ পরিকল্পনা অনুযায়ী দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।
মন্ত্রী বলেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের আওতায় ৪২টি ওয়ার্ড রয়েছে। এসব ওয়ার্ডের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে একাধিক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সিলেট শহর আরও আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল নগরীতে পরিণত হবে। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং সড়ক অবকাঠামো সংক্রান্ত প্রধান সমস্যাগুলোরও সমাধান হবে।
তিনি আরও বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে শহরের ছড়াগুলো সংরক্ষণ করতে হবে। পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে এবং বর্ষাকালে বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত খাল খনন ও রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি। পানির উৎস থেকে নদী পর্যন্ত প্রাকৃতিক প্রবাহের সুষ্ঠু পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব।
সভায় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. নুরের জামান চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার, সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সিলেটের সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ চলমান রয়েছে। সিলেট থেকে ফেঞ্চুগঞ্জ হয়ে মৌলভীবাজারগামী সড়কটি আরও প্রশস্ত করা হবে। একইভাবে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লাক্কাতুরা এবং লাক্কাতুরা থেকে টিবি গেট পর্যন্ত একটি বিকল্প সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।
সিলেট থেকে আরো পড়ুন