প্রকাশিত: ২৫ জুলাই, ২০২৬ ২০:২৩
ছাতকে জব্দ এক্সকেভেটর, হুইল লোডার
সু.খবর ছবি
ছাতকে ইজারা বহির্ভূত নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪ থেকে ৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ইউনিয়ন ভূমি উপ—সহকারী কর্মকর্তা রেবুল কুমার দাস বাদী হয়ে গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ছাতক থানায় এজাহার দাখিল করেন। পরে পুলিশ বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০—এর ১৫(১) ধারা অনুযায়ী মামলাটি রুজু করে।
এজাহারে উল্লেখ আছে, গত ২২ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোজাহিদুল ইসলাম ছাতক থানা পুলিশ ও নৌ—পুলিশের সহযোগিতায় ইসলামপুর ইউনিয়নের রহমতপুর উত্তরপাড়া সংলগ্ন ইজারা বহির্ভূত নদীপথে অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানকালে অবৈধ বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত একটি এক্সকেভেটর ও একটি হুইল লোডার জব্দ করা হয়।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, জব্দকৃত যন্ত্রপাতির কোনো বৈধ মালিক বা দাবিদার ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা সম্ভব হয় নি। পরে জব্দকৃত আলামত ব্যবহারকারীদের পরিচয় শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়।
এজাহার অনুযায়ী, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে ইজারা বহির্ভূত নদীপথ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে এলাকার ভূ—প্রকৃতি ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতিসাধন করে আসছিলেন। মামলার আসামিরা হলো— রহমতপুর গ্রামের ছালিম উদ্দিনের ছেলে আমির আলী (৩৮) ও জমির আলী (৩৫), একই গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে আবুল বশর (৬০), আলমপুর গ্রামের আলতাবুর রহমানের ছেলে আতাউর (৪০), সোনাফর আলীর ছেলে চমক আলী (৬০) ও নজির আলী (৫৫), দোয়ারাবাজার উপজেলার সোনাপুর গ্রামের সুনু মিয়ার ছেলে ধন মিয়া (৬২), কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কাঁঠালবাড়ি গ্রামের জিয়াদ আলীর ছেলে মোহাম্মদ আলী (৫২), গাংপাড় নোয়াকুট গ্রামের সোনা মিয়ার ছেলে কামরুল (৩৮), বৈশাকান্দি (বাহাদুরপুর) গ্রামের আব্দুল হাসিমের ছেলে রফিক (৫৫) ও জয়নাল (৪৬), একই গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে এবাদুল্লাহ (৫৪) ও জাইদুল (৪২), দোয়ারাবাজার উপজেলার শারফিন পাড়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে আতাউর (৪৮), কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চাটিবহর গ্রামের তৈমুজ আলীর ছেলে সুজন (৪৬) সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪ থেকে ৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বাদী রেবুল কুমার দাস বলেন, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়। জব্দকৃত আলামত ও প্রাপ্ত তথ্য—উপাত্তের ভিত্তিতে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরিবেশ ও নদী রক্ষায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হবে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ছাতক থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) ঝলক মোহন্ত বলেন, মামলাটি রুজু করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত করবে নৌ পুলিশ। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন