প্রকাশিত: ০১ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:৪২
বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ। বেতন নিচ্ছেন শিক্ষক-কর্মচারী
ধর্মপাশায় একজন এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও দুজন কর্মচারী নীতিমালা লঙ্ঘন করে কলকাকলী বিদ্যাপীঠ নামে একটি কিন্ডারগার্টেন পরিচালনা করে যাচ্ছেন। ওই কিন্ডার গার্টেন থেকে তারা নিয়মিত বেতন ভাতাও উত্তোলন করছেন। বিষয়টি নিয়ে অনলাইন ও অফলাইনে ব্যাপক আলোচনা—সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ২৫ জুলাই দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে ওই কিন্ডারগার্টেনে দেওয়া টিআর বরাদ্দের প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা নিয়ে ‘গায়েরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অর্থ বরাদ্দ, উত্তোলন!’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি সামনে আসে। এরপর থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষক—কর্মচারী, কলেজ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নানা মহলে সমালোচনা শুরু হয়। অভিযুক্তরা উপজেলার বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজে কর্মরত। এরমধ্যে ইসলামিক স্টাডিস বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক বশির আহম্মদ ওই কিন্ডারগার্টেনের অধ্যক্ষ এবং সহকারী লাইব্রেরিয়ান মো. রোকনুজ্জামান ও অফিস সহকারী আকমল হোসেন সহকারী শিক্ষক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন।
বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ ক্যাম্পাসের উত্তরপাশে কলেজের একটি টিনশ্যাড ঘরে কলেজ কর্তৃপক্ষের সম্মতিতে দীর্ঘ বছর ধরে ওই কিন্ডারগার্টেনটি পরিচালিত হয়ে আসছে। এতে বশির আহম্মদ, রোকনুজ্জামান ও আকমল হোসেনসহ ৬ জন শিক্ষক রয়েছেন। ক্লাস রুটিন অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত পাঠদান চলে ওই কিন্ডারগার্টেনে। কিন্তু বশির আহম্মদ দাবি করেছেন সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত পাঠদান করা হয়। পরে তারা কলেজের কাজে যোগ দেন।
কিন্তু বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা—২০২৫—এর ১১.১৭ (ক) ধারা অনুযায়ী এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক বা কর্মচারী একই সঙ্গে একাধিক পদে বা চাকরিতে কিংবা কোনো আর্থিক লাভজনক পদে (সরকারি বা বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান, সংস্থা, বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান, সাংবাদিকতা কিংবা আইন পেশা) নিয়োজিত থাকার সুযোগ নেই। যদি কারও বিরুদ্ধে তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হয় তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির এমপিও বাতিলসহ তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে।
ওই কিন্ডারগার্টেন থেকে তারা তিনজনই বেতন ভাতা নেন জানিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক বশির আহম্মদ বলেন, অবশ্যই (কিন্ডারগার্টেনে) কাজ করতে পারি। নীতিমালায় এমনটি বলা নেই যে কলেজ টাইমের বাইরে অন্য কোথাও কাজ করতে পারবো না। এমনটি অনেকেই করছে। গত (২০২৫) এমপিও নীতিমালা অনুমোদন হয়নি, বাতিল হয়ে গেছে। কবে বাতিল হয়েছে?— জানতে চাইলে তিনি তা জানাতে পারেন নি।
কিন্ডারগার্টেনে কাজ করার সুযোগ আছে জানিয়ে আরেক অভিযুক্ত মো. রোকনুজ্জামান বলেন, এই নীতিমালা (এমপিও নীতিমালা ২০২৫) আমরা পাইনি। আপনি কোথায় পেলেন? ২০ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি (কলকাকলী বিদ্যাপীঠ) কলেজের অভ্যন্তরে পরিচালিত হচ্ছে। এর অনুমোদন ও রেজুলেশন সবই আছে। আপনারা এই কিন্ডারগার্টেন নিয়ে লেগেছেন কেন?
বিষয়টি নীতিমালা পরিপন্থী কিনা জানেন না দাবি করে বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ তপন কান্তি তালুকদার বলেন, ১০টার মধ্যে তারা (ওই শিক্ষক—কর্মচারী) কলেজে চলে আসেন। এতে করে কলেজের পাঠদান বা অন্যান্য কাজে ব্যঘাত ঘে টনা। বিষয়টি যদি এমপিও নীতিমালা পরিপন্থী হয় তাহলে প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতির সাথে পরামর্শক্রমে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা কার্যালয়ের আঞ্চলিক উপ—পরিচালক আবু সাঈদ মো. আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, ২০২৫ সালের এমপিও নীতিমালা এখনও বলবৎ আছে। দুই জায়গায় বেতন নিয়ে তারা (শিক্ষক—কর্মচারী) এটি করতে পারেন না। এমনটি হয়ে থাকলে বধি অনুযায়ী গভর্নিং বডি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতির দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনি রায় বলেন, এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে কলেজ ক্যাম্পাসে আরেকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চলতে পারে কি না, ওই ব্যাপারে কোনো সদুত্তর দেননি তিনি।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন