প্রকাশিত: ০৬ আগস্ট, ২০২৬ ১২:২৯
সংগৃহীত ছবি
প্রতিদিন সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমানোর পরও যদি সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগে, তবে এর পেছনে শুধু ঘুমের ঘাটতি নয়, অন্য কোনো শারীরিক সমস্যাও দায়ী হতে পারে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের মতে, স্থূলতা অনেকের দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তির অন্যতম কারণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, অতিরিক্ত ওজন শুধু চলাফেরা বা বাহ্যিক গঠনের ওপর প্রভাব ফেলে না, এটি ঘুমের মান, শক্তির মাত্রা এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাদের মতে, অনেকেই পর্যাপ্ত সময় ঘুমালেও ঘুমের মান ভালো না হওয়ায় পরদিনও অবসন্ন অনুভব করেন।
স্থূলতার কারণে গলার চারপাশে চর্বি জমে শ্বাসনালি সংকুচিত হতে পারে। এতে ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’ নামের সমস্যা দেখা দেয়, যেখানে ঘুমের সময় বারবার শ্বাসপ্রশ্বাসে বাধা সৃষ্টি হয়। ফলে দীর্ঘ সময় বিছানায় থাকলেও গভীর ও আরামদায়ক ঘুম হয় না এবং সকালে ঘুম ভাঙার পরও ক্লান্তি থেকে যায়।
এ ছাড়া স্থূলতার সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ বা ক্রনিক ইনফ্ল্যামেশন ও ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের সম্পর্ক রয়েছে, যা শরীরের শক্তি কমিয়ে দিতে পারে। ফলে সারাদিন অবসন্নতা ও কর্মক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে।
এই সমস্যা কমাতে জীবনযাপনে পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার, পূর্ণ শস্য, ফল ও শাকসবজি খাওয়ার পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত খাবার ও অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলার কথা বলেছেন। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শরীরচর্চা, যেমন দ্রুত হাঁটা, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং ঘুমের মান উন্নত করতে সহায়ক হতে পারে।
এ ছাড়া নিয়মিত একই সময়ে ঘুমানো ও জাগার অভ্যাস গড়ে তোলা, ঘুমানোর আগে স্ক্রিন ব্যবহার কমানো এবং জোরে নাক ডাকা বা ঘুমের সময় শ্বাসকষ্ট হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করালে স্লিপ অ্যাপনিয়া, ডায়াবেটিস বা থাইরয়েডের সমস্যার মতো রোগও দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞের সতর্কবার্তা, দীর্ঘদিনের ক্লান্তিকে অবহেলা করা উচিত নয়। চিকিৎসা না হলে উচ্চ রক্তচাপ, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, স্ট্রোক, মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও বিষণ্নতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই পর্যাপ্ত ঘুমের পরও যদি ক্লান্তি না কমে এবং এর সঙ্গে জোরে নাক ডাকা, সকালে মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা অস্বাভাবিক ওজন বৃদ্ধি দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।
সূত্র: যুগান্তর .কম
এমডি
বিশেষ সংখ্যা থেকে আরো পড়ুন