প্রকাশিত: ০৬ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:২২
তাহিরপুরে সরকারি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির প্রলোভন দেখিয়ে ২৬ জন গ্রামবাসীর কাছ থেকে ৭৮ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে বাবা—ছেলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের বিন্নাকুলী গ্রামের বাসিন্দা খুর্শিদ মিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেছেন, প্রায় তিন মাস আগে একই ইউনিয়নের লামাশ্রম গ্রামের ইয়াহিয়া ও তার বাবা ফুল বক্স বিন্নাকুলী গ্রামে গিয়ে সরকারি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা করে ২৬ জনের কাছ থেকে মোট ৭৮ হাজার টাকা আদায় করেন। পরে ভুক্তভোগীরা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে যোগাযোগ করলে জানতে পারেন, ফ্যামিলি কার্ড প্রদান বা তালিকাভুক্তির জন্য কোনো ধরনের ফি নেওয়া হয় না।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, পহেলা আগস্ট সকালে ভুক্তভোগীরা অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে টাকা ফেরত চাইলে তাদের অশ্রাব্য ভাষায় গালি গালাজ করা হয় এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।
বাদাঘাট ইউনিয়ন বিএনপি নেতা চাঁন মিয়া মাষ্টার বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। ফ্যামেলি কার্ডের কথা বলে টাকা হাতিয়ে নেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। ঘটনাটি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
ভুক্তভোগী অভিযোগকারী খুর্শিদ মিয়া বলেন, আমরা গরীব ও মুর্খ মানুষ। আমার স্ত্রী সহ ২৬ জনের কাছ থেকে সরকারি ফ্যামেলি কার্ড দিবে বলে জনপ্রতি তিন হাজার করে টাকা নিয়েছে তারা বাপ ও পুত। এখন টাকা ফেরত চাইলে উল্টো হুমকি দিচ্ছে। আমরা প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই।
অভিযুক্ত ইয়াহিয়ার বাবা ফুল বক্স বলেন, বিষয়টি তিনি অবগত না, কেউ হয়তো তাকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান মানিক বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে তাহিরপুর থানাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তাহিরপুর থানার ওসি ফারুক আহমদ বলেন, অভিযোগটি হাতে পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন