এলএনজি টার্মিনালে কাজ করছেন ইঞ্জিনিয়াররা, দিন গোনা ছাড়া উপায় নেই: বিদ্যুৎমন্ত্রী

প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:১৯

সংগৃহীত ছবি 

ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) মেরামতের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা ছাড়া সরকারের সামনে আপাতত কোনো বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সংকটের সময়ে তার হাতে করার মতো তেমন কিছু নেই। এফএসআরইউ ছাড়া গ্যাস নামানোর সুযোগ নেই। তাই প্রকৌশলীরা টার্মিনালটি সচল করার কাজ করছেন এবং তাদের কাজ শেষ হওয়ার অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

 

তিনি বলেন, এইটুকুই বলতে চাই, উই আর ওয়ার্কিং। এই ক্রাইসিসের সময় আসলে এখন আমার কিছু করার নাই। কারণ, এখন আমি গ্যাসও উত্তোলন করতে পারব না বা উইদাউট এফএসআরইউ, আমার যে গ্যাস আছে, সেটাও নামাতে পারব না। এখন শুধু আমাকে দিন গোনা ছাড়া আর ওই যে ইঞ্জিনিয়াররা কাজ করছে এফএসআরইউতে, এটা করা ছাড়া আমার কিছু নাই। আর কিছু ম্যানেজমেন্ট করা, যাতে কম লোডশেডিং হয়। যাতে আমি ইন্ডাস্ট্রিকে গ্যাসটা দিতে পারি, এই ম্যানেজমেন্টটা করা।

 

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, কিছু কিছু জিনিস তো বুঝতে হবে, এটা আমাদের নিজের হাতের মধ্যে নেই। এখন এফএসআরইউ খারাপ হয়ে গেছে, আমি তো জোরজবরদস্তি করে বলতে পারব না যে সারিয়ে দাও। ইঞ্জিনিয়াররা যেভাবে আমাদেরকে বলবে, সেভাবেই কাজ করতে হবে।

 

মেরামতের জন্য বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় তার বা সরঞ্জাম দেশে আসার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সাইটে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। এফএসআরইউ মেরামতের মূল দায়িত্ব এর মালিকানাধীন মার্কিন কোম্পানিটির। এ কাজে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও দিনরাত ২৪ ঘণ্টা কাজ করছেন। দ্রুত এর সুফল পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

 

এফএসআরইউ অচল থাকলেও এলএনজি কেনা বন্ধ নেই বলে জানান জ্বালানিমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগের দিনও চারটি কার্গো কেনা হয়েছে। এফএসআরইউ সচল হওয়ার পর কার্গোগুলো আসার সঙ্গে সঙ্গে যদি আমরা আনলোড করতে পারি, তাহলে সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে।

 

এর পাশাপাশি কম লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে শিল্পকারখানাগুলোয় যেন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়েও সরকার ব্যবস্থাপনা করার চেষ্টা করছে বলে জানান তিনি।

 

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে ২০২৯ সালের মধ্যে দেশে আরও তিনটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। এর মধ্যে একটি টার্মিনালের কার্যাদেশ ইতিমধ্যে দেওয়া হয়েছে। বাকি দুটির কার্যাদেশও আগামী দুই মাসের মধ্যে দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।

 

মন্ত্রী বলেন, দেশের বর্তমান সব এফএসআরইউ চট্টগ্রাম অঞ্চলে রয়েছে। ফলে খুলনা অঞ্চলের দিকে নতুন টার্মিনাল স্থাপনের প্রয়োজন রয়েছে। এ জন্য পায়রা, মোংলা ও হিরণ পয়েন্টের সম্ভাব্য স্থান নিয়ে সমীক্ষা চলছে। আমরা বিনিয়োগকারীদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। যুক্তরাষ্ট্র থেকে একটি বড় দল এসেছে, যারা এফএসআরইউতে বিনিয়োগ করতে চায়। তারা আগ্রহ প্রকাশ করলে দ্রুত চিঠি দিতে বলেছি, যাতে আমরা তাদের কাজ দিতে পারি।

 

দেশের গ্যাসের চাহিদা পূরণে আমদানি করতেই হবে বলে মন্তব্য করেন জ্বালানিমন্ত্রী। তবে আমদানি করা গ্যাস মানুষের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছাতে শুধু এফএসআরইউ স্থাপন করলেই হবে না, পাইপলাইনের সীমাবদ্ধতাও দূর করতে হবে।

 

চট্টগ্রাম থেকে বাখরাবাদ পর্যন্ত গ্যাস পরিবহন লাইনে ঘাটতি রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ সমস্যা সমাধানে নতুন পাইপলাইন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভোলা থেকে গ্যাস এনে ব্যবহারের বিষয়েও মালয়েশিয়ার সঙ্গে আলোচনা চলছে।

 

আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, গত ১৭ বছরে দেশে গ্যাস অনুসন্ধান না করে শুধু আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা তৈরি করা হয়েছে। আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও যথেষ্ট করা হয়নি। দুটি এফএসআরইউয়ের পরিবর্তে চারটি স্থাপন করা হলে বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন সমস্যায় পড়তে হতো না।

বর্তমান সরকার বাপেক্সকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, দ্রুত কূপ খননের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ জন্য আরও দুটি রিগ বা খননযন্ত্র কেনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গুজব ছড়িয়ে জ্বালানি তেলের সংকট তৈরি করা হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, তেল সংগ্রহের ক্ষেত্রে ‘সিঙ্গেল বায়ার সিস্টেম’ থাকায় জ্বালানি নিরাপত্তা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে তিনি কিছু অংশ বেসরকারি খাতের জন্য উন্মুক্ত করার অনুরোধ করেছিলেন।

 

মন্ত্রী বলেন, যেটা নিয়ে এখনো কোনো পলিসিই (নীতিমালা) হয়নি, সেটা নিয়ে এমন প্রচার। পলিসি হওয়ার আগেই অমুককে দিয়ে দিয়েছি, তমুককে দিয়ে দিয়েছি এমন প্রচার হলে সরকারের তো নতুন কিছু করার উৎসাহ বা উদ্যোগই থাকবে না।

 

নতুন কোনো নীতিমালা প্রণয়নের আগে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

সূত্র: সমকাল.কম 

জাতীয় থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার