ক্ষোভে ফুঁসছেন গ্রাহকরা

প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট, ২০২৬ ২২:২২

দোয়ারায় বিদ্যুতের ‘লুকোচুরি’

প্রতীকী ছবি।

সবার মুখে মুখে প্রশ্ন একটাই  বিদ্যুৎ আছে - নাকি নেই?। দোয়ারাবাজার উপজেলার দুইটি সংস্থা বিদ্যুৎ সরবরাহের কাজ করে। পল্লিবিদ্যুৎ ও বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের সার্ভিসের আওতায় উপজেলা সবকয়টি গ্রামের উপকারভোগীরা বিদ্যুৎ সেবা নিয়ে থাকেন।  তীব্র গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎহীনতায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে উপজেলার জনজীবন। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৫-৬ ঘণ্টার মতো বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে; বাকি প্রায় ১৯ ঘণ্টাই কাটছে বিদ্যুৎহীনতায়।


কখনযে বিদ্যুৎ যাবে- আর কখনযে আসবে তার কোনো নির্দিষ্ট সময় সীমা নেই। একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও বিদ্যুতের দেখা মিলছে না। গরম ও অন্ধকার দুই যন্ত্রণার মাঝেই অসহ্য জনজীবন।

 


ঘরে ফ্যান বন্ধ, পানির পাম্প বন্ধ , ফ্রিজে থাকা সবজি, তরি তরকারি, মাছ, মাংস,ব্যাবসায়ীদের গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটছে। থেমে যাচ্ছে অফিস পাড়া ও ব্যাবসায়ীদের অনলাইন কার্যক্রম ও ব্যবসা-বাণিজ্য। গরমে শিশুদের কান্না, বয়স্কদের অস্বস্তি আর অসহায় মানুষের আগেকার আমলের হাতপাখার বাতাস, বিদ্যুৎহীন দোয়ারাবাজার উপজেলাবাসীর বারান্দার  এমন চিত্র এখন অনেকটা নিত্যদিনের হয়ে ওঠেছে।

 


বিদ্যুৎ যেন ‘অতিথির মত’ কখন আসবে, তার ইচ্ছায় যাবে।
স্থানীয় বাসিন্দা রুস্তম আলী, রফিক মিয়া, মুরাদপুর গ্রামের গার্মেন্টস ব্যাবসায়ী মখলিছ আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দোয়ারাবাজারের বিদ্যুৎ এখন অতিথির মতো হয়ে গেছে। কখন আসে আর কখন চলে যায় কেউ জানে না। একবার গেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও বিদ্যুতের দেখা মেলে না, বেশী হলে আধাঘন্টা দিয়ে আবার দুই ঘন্টার জন্য বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়।
গ্রাহকদের প্রশ্ন, বিদ্যুতের বিল দিতে কোনো দেরি নেই, তাহলে বিদ্যুৎ পাওয়ার বেলায় এত অনিশ্চয়তা কেন?

 


সামান্য বাতাস, মেঘ কিংবা বৃষ্টির আভাস পেলেই বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে বিদ্যুৎ বিতরণ শাখা ছাতক অফিসের বিরুদ্ধে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে এর সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা না পাওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

 


রাতে বিদ্যুৎ না থাকলে শিশুদের ঘুম ভেঙে যাচ্ছে অতিরিক্ত গরমে। কোমলমতি শিশু ও বয়স্করা গরমে অস্বস্তিতে ছটফট করছেন। গত কয়দিনে দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর জায়গা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অনেকে জানালা-দরজা খুলে বসে থাকছেন, কেউ হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছেন। সামর্থ্যবানরা আইপিএস’এর ওপর নির্ভর করলেও দীর্ঘ লোডশেডিংয়ে সেগুলোও অনেক সময় পরিপূর্ণ চার্জ না হওয়ায় আইপিএস ও বেশী সময় টিকছে না।

 


বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রভাব পড়েছে বছরের শেষ দিকের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাতেও। দিনের প্রচণ্ড গরমের পর রাতে বিদ্যুৎহীনতায় অনেক শিক্ষার্থীকে মোমবাতি, চার্জার লাইট কিংবা মোবাইলের আলোয় পড়তে হচ্ছে। এই অবস্থা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।


দোয়ারাবাজারবাসীর  প্রশ্ন ২৪ ঘণ্টায় যদি মাত্র ছয় ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যায়, তাহলে এটিকে কি স্বাভাবিক লোডশেডিং বলা যায়। গত মাস থেকে এমাসের বিদ্যুৎ বিল গ্রাহকের ঘাড়ে দিগুণ চাপিয়ে দেয়া হয়েছে।

 


ছাতক বিদ্যুৎ অফিসের একজন অফিসার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদন নাই বললেই চলে। কোন মতে আমরা টিকে আছি, সারাদিন লাইন পরিবর্তন করায় ব্যাস্ত সময় কাটাতে হচ্ছে।

 


সঞ্চালন, বিতরণ নাকি স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় সমস্যা কোথায় আসল সংকট নাকি এসব কৃত্রিম সংকট দেখানো হচ্ছে, কে জানে।
ছাতক দোয়ারাবাজার- ছাতকে জোনাল অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী নুর মোহাম্মদ তারেক বলেন, বিদ্যুতে ঘাটতি সমস্যা ১০/১২ দিন ধরে। বিদ্যুতের ঘটতি থাকার কারণে আমরা প্রতিটা এলাকায় একঘন্টা করে লোডশেডিং দিচ্ছি।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার