প্রকাশিত: ১৭ আগস্ট, ২০২৬ ২২:০০
‘২—৩ দিনের মধ্যে গেম হবে’
লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধপথে গ্রিস যাওয়ার সময় দিরাই উপজেলার দুই যুবক নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে তাড়ল ইউনিয়নের ধলচান্দপুর গ্রামের লোহানী মিয়ার(২২) সন্ধান পাওয়া গেলেও ঘাগটিয়া গ্রামের সানোয়ার রহমান(২৬) এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি।
নিখোঁজ সানোয়ার রহমান দিরাই পৌরসভার ঘাগটিয়া গ্রামের রফিক উল্লার ছেলে। পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ আগস্ট লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর হয়ে গ্রিসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন সানোয়ার। এরপর থেকে তাঁর সঙ্গে পরিবারের আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।
সানোয়ারের বাবা রফিক উল্লা সোমবার বিকালে জানান, প্রায় ২০ দিন আগে ছেলের সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয়েছিল। তখন সানোয়ার জানিয়েছিলেন, ২—৩ দিনের মধ্যে গেম হবে। এরপর থেকেই তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ এবং পরিবারের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। অনেক চেষ্টা করেও তাঁরা সানোয়ারের কোনো সন্ধান পাচ্ছেন না।
অন্যদিকে একই দিনে লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিস যাওয়ার সময় নিখোঁজ হওয়া তাড়ল ইউনিয়নের ধলচান্দপুর গ্রামের লোহানী মিয়ার সন্ধান পাওয়া গেছে। তিনি বর্তমানে মিসরে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর চাচা মুহিত মিয়া।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানা যায়, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার আশায় দালালদের মাধ্যমে ওই দুই যুবক লিবিয়ায় গিয়েছিলেন। পরে ৩ আগস্ট সমুদ্রপথে গ্রিসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন তাঁরা। যাত্রার পর তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে দুই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দেয়।
লোহানী মিয়ার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ায় তাঁর পরিবারের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও সানোয়ার রহমানের পরিবারের উৎকণ্ঠা কাটেনি। ছেলের সন্ধানে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন।
সানোয়ারের বাবা রফিক উল্লা বলেন, আমার ছেলে কোথায় আছে, কেমন আছে—কিছুই জানি না। শেষবার কথা বলার পর থেকে তার কোনো খবর পাচ্ছি না। আমরা সবাই খুব দুশ্চিন্তায় আছি। ছেলেকে জীবিত অবস্থায় ফিরে পেতে সবার সহযোগিতা চাই।
পরিবারের সদস্যরা সানোয়ার রহমানের সন্ধান পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি ও সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।
দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে এখনো কেউ থানায় কোনো তথ্য জানায়নি। তবে বিষয়টি জানার পর আমরা তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছি।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন