প্রকাশিত: ১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১৬:৩৯
জেলা পরিষদ বরাবর আবেদন
ছবি-সু.খবর
সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণাধীন চারটি খেয়াঘাটে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি টাকা আদায় করা এবং দৈনিক লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘাটে নির্ধারিত ৪ টাকা ভাড়ার পরিবর্তে জনপ্রতি ১০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে বলে জেলা পরিষদের প্রশাসকের কাছে এক আবেদনপত্রে জানানো হয়েছে।
সোমবার তাহিরপুর উপজেলার রতনশ্রী গ্রামের বাসিন্দা সাইমন আখঞ্জী জেলা পরিষদ প্রশাসকের কার্যালয়ে আবেদনপত্র দাখিল করেন।
আবেদনপত্রে বলা হয়, সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের অধীনস্থ মিয়ারচর, বিন্নাকুলি, লাউড়েরগড় এবং বড়গোপটিলাগাঁও খেয়াঘাট দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৩০ হাজার সাধারণ মানুষ যাতায়াত করেন। স্থানীয়দের যাতায়াতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই চার ঘাটে সরকার বা জেলা পরিষদ কর্তৃক নির্ধারিত জনপ্রতি খেয়া পারাপার ভাড়া ৪ টাকা। কিন্তু দীর্ঘ দিন ধরে ইজারাদার বা দায়িত্বপ্রাপ্তরা যাত্রীপ্রতি ১০ টাকা করে আদায় করছেন, যা নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ৬ টাকা।
হিসাব অনুযায়ী, চারটি ঘাট থেকে প্রতিদিন আনুমানিক ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে, যা মাস শেষে বিপুল অংকের টাকায় দাঁড়ায়। যাত্রীদের প্রশ্ন— এই অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বৈধতা কী এবং আদায়কৃত এই বিপুল পরিমাণ অর্থ কোথায় যাচ্ছে?
আবেদনে উত্থাপিত ৭ দফা দাবিসমূহ হলো—
চারটি খেয়াঘাটে অবিলম্বে সরকার/জেলা পরিষদ কর্তৃক নির্ধারিত জনপ্রতি ৪ টাকা ভাড়া কার্যকর করতে হবে। যাত্রী সাধারণের অবগতির জন্য প্রতিটি ঘাটে দৃশ্যমান স্থানে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা টাঙাতে হবে এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। বিগত বছরগুলোতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। তদন্তের মাধ্যমে ঘাটগুলোতে দৈনিক কতজন যাত্রী পারাপার হয়েছেন এবং মোট কত টাকা আদায় করা হয়েছে তার বাস্তব হিসাব যাচাই করতে হবে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও ইজারা শর্ত অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। জেলা পরিষদের ইজারা চুক্তির শর্ত ও অতিরিক্ত টাকা আদায়ের আইনগত বিধান সংক্রান্ত বিষয় জনসম্মুখে পরিষ্কার করতে হবে। ভবিষ্যতে যাত্রীরা যেন কোনো ধরনের হয়রানি বা অতিরিক্ত টাকা না দিয়ে নির্ধারিত ভাড়ায় পারাপার হতে পারেন, সে জন্য মনিটরিং ও অভিযোগ জানানোর মাধ্যম চালু করতে হবে। আবেদনের অনুলিপি তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছেও পাঠানো হয়েছে। আবেদনে সাধারণ জনগণের ওপর এই অন্যায্য আর্থিক বোঝা চাপানো বন্ধে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি জানানো হয়।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সমর কুমার পাল আবেদন প্রাপ্তির কথা স্বীকার করে জানান, জেলা পরিষদের প্রশাসক মহোদয়ের সাথে আলাপ ও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন