প্রকাশিত: ২২ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:৩৮
সু.খবর ছবি
সুনামগঞ্জ—সাচনাবাজার সড়কে ৪ হাজার ৫শত বৃক্ষনিধনের প্রতিবাদে ‘হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন’ নামে একটি সামাজিক সংগঠনের বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশ থেকে আগামী ২৪ ঘন্টার ভিতরে গাছ কাটা বন্ধ না হলে হাওর এলাকার সর্বস্তরের জনগণকে সাথে নিয়ে বন বিভাগের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের আল্টিমেটাম দেয়া হয়।
শনিবার সকালে সাচনা জামালগঞ্জ সড়কে বিক্ষোভ সমাবেশে অনুষ্ঠিত হয়। হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি মো. রাজু আহমেদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোঃ ওবায়দুল হক মিলনের সঞ্চালনায় ঘন্টাব্যাপি চলা সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহ সভাপতি মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম মজনু, ওবায়দুল মুন্সী, মিডিয়া বিষয়ক সম্পাদক এম ডি জাকারিয়া, ছাতক উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব সুজন তালুকদার, দোয়ারাবাজার উপজেলার সদস্য মোফাজ্জল হাসান এবং এলাকার স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ।
বক্তারা বলেন, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে উক্ত সড়কে বর্তমানে সম্প্রসারণ বা উন্নয়নের কোনো কাজ নেই। অথচ বন বিভাগ উন্নয়ন প্রকল্পের দোহাই দিয়ে ইতিমধ্যে ১ হাজারের অধিক ফলদ, বনজ ও ঔষধী গাছ কেটে উজাড় করছে। সওজ—এর বক্তব্য এবং বন বিভাগের কর্মকাণ্ডের এই সুস্পষ্ট বৈপরীত্য প্রমাণ করে যে, এটি উন্নয়নমূলক কোনো প্রয়োজন নয় বরং বন বিভাগের একটি অসাধু চক্র বা সিন্ডিকেট নিজেদের স্বার্থ হাসিলে এই গণ বৃক্ষনিধনে মেতে উঠেছে।
বক্তাগণ, অযৌক্তিকভাবে ৪ হাজার ৫শত টি বৃক্ষ নিধনের সাথে জড়িত বন বিভাগের সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। সমাবেশ থেকে সুনামগঞ্জ—সাচনাবাজার সড়কে গাছ কাটার চলমান সব কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করা, সামাজিক বনায়নের সুবিধাভোগী দের লভ্যাংশ যথাযথভাবে বুঝিয়ে দেয়া, গাছ কাটার নেপথ্যে বন বিভাগ, সুবিধাভোগী জনগোষ্ঠী, স্থানীয় প্রশাসন ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চক্রের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত পূর্বক শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং অবৈধভাবে গাছ বিক্রির পরিকল্পনা ও বৃক্ষনিধনে জড়িত বন বিভাগের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেটের সদস্যদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসককে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানান। তাছাড়াও ইতিমধ্যে কেটে ফেলা গাছের ক্ষতিপূরণ হিসেবে উক্ত রুটে নতুন করে দ্বিগুণ সামাজিক বনায়ন নিশ্চিত করারও দাবী জানান তারা।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন