প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:৪০
দিরাই উপজেলার রজনীগঞ্জ ইউনিয়নের টানাখালি এলাকায় কালনী নদী থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত নারীর মরদেহের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। নিহত নারী শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের সলফ গ্রামে গৃহকর্মী হিসেবে কর্মরত লাকি বেগম (৪০)। তাঁর বাড়ি দিরাই উপজেলার জগদল গ্রামে। নিহতের স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন।
পুলিশ ও নিহতের স্বজন সূত্রে জানা যায়, লাকি বেগম গত প্রায় ১১ মাস ধরে শান্তিগঞ্জ উপজেলার সলফ গ্রামের কামাল মিয়ার বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতেন। কামাল মিয়ার শ্বশুর বাড়ি দিরাই উপজেলার জগদল গ্রামে। বিবাহবিচ্ছেদের পর তিনি স্বজনদের আশ্রয়ে বসবাস করতেন। তাঁর বাবা—মা ও একমাত্র ভাই আগেই মারা গেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টানাখালি বাজারের পাশে পুরাতন সুরমা নদীতে সোমবার সকালে ভাসমান অবস্থায় এক নারীর মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। খবর পেয়ে নিহতের স্বজনরা ঘটনাস্থলে এসে লাশটি লাকি বেগমের বলে শনাক্ত করেন।
এদিকে লাকি বেগম নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় গৃহকর্তা কামাল মিয়া শান্তিগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। জিডিতে উল্লেখ করা হয়, গেল ২১ আগস্ট সকাল ৮টার দিকে লাকি প্রতিদিনের মতো নাস্তা তৈরি করেন। সকাল ৯টার দিকে তাকে ডাকাডাকি করে বাড়িতে পাওয়া যায় নি। পরে আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান মেলে নি।
জিডিতে আরও উল্লেখ করা হয়, লাকির থাকার ঘরে টাকা রাখার স্টিলের বাক্স/সুটকেস, বাড়ির প্রধান ফটকের চাবি, তাঁর কাপড়ের ব্যাগ এবং পরিবারের ব্যবহৃত একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন পাওয়া যায় নি। পরে পরিবারের সদস্য ও পরিচিতজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তাঁর সন্ধান পাওয়া যায় নি বলে জিডিতে উল্লেখ করেন কামাল মিয়া।
তবে লাকি বেগমের মৃত্যুকে স্বাভাবিক বলে মানতে নারাজ তাঁর স্বজনরা। তাঁদের দাবি, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং হত্যার পর মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। নিহতের ছোট চাচা দবির মিয়া অভিযোগ করে বলেন, আমার এতিম ভাতিজিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।
এ ঘটনায় গৃহকর্তা কামাল মিয়ার বক্তব্য জানতে তাঁর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।
দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং পরে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন