খবরনামা

সচেতনতা ও কঠোর নজরদারিতেই রক্ষা পাবে টাঙ্গুয়া

প্রকাশিত: ২৫ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:৩৫

ছবি-সু.খবর

টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে। তবে নিয়মিত অভিযান ও জরিমানার পরও পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য ফেলার মতো পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড। সম্প্রতি হাউসবোট থেকে বর্জ্য ফেলায় একটি হাউসবোটকে ৩৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের নিয়মিত বিশেষ আয়োজন ‘খবরনামা’য় টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ দূষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের উদ্যোগ নিয়ে কথা বলেছেন পরিবেশ অধিদপ্তর সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাইমিনুল হক। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন স্টাফ রিপোর্টার জাকারিয়া আহমদ। সাক্ষাৎকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিচে তুলে ধরা হলো—


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: নিয়মিত অভিযান ও জরিমানার পরও টাঙ্গুয়ার হাওরে পরিবেশ দূষণের ঘটনা কেন পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না?


মোহাইমিনুল হক: পরিবেশ অধিদপ্তর, সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনার পাশাপাশি মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। তবে শুধু জরিমানা বা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করলেই রাতারাতি সব ধরনের দূষণ বন্ধ হয়ে যাবে—এটা বাস্তবসম্মত নয়। সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত ও কার্যকর নজরদারি। আমরা সে লক্ষ্যেই কাজ করছি। ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকেই টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ রক্ষায় নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। গত এক বছরের ধারাবাহিক অভিযান, মনিটরিং ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের ফলে আগের তুলনায় হাওরের দূষণ কিছুটা কমেছে বলে আমরা মনে করি। তবে এখানেই কাজ শেষ নয়। জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পরিবেশ সংগঠন এবং গণমাধ্যমসহ সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। তাহলেই দূষণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: পানি কমে যাওয়ার পর হাওরের বিভিন্ন স্থানে কাচের বোতল ও প্লাস্টিকের বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখা যায়। এতে কৃষকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ বিষয়ে কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে?

 


মোহাইমিনুল হক: হাওরে সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক, চিপসের প্যাকেট, কাচের বোতলসহ কোনো ধরনের বর্জ্য যাতে ফেলা না হয়, সে বিষয়ে নিয়মিত প্রচারণা চালানো হচ্ছে। পর্যটক ও হাউসবোট পরিচালনাকারীদের সচেতন করতে লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া টেকেরঘাট, গোলাবাড়ী ওয়াচ টাওয়ারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। মধ্যনগর ঘাট থেকে যেসব হাউসবোট টাঙ্গুয়ার হাওরের উদ্দেশে ছেড়ে যায়, সেখানেও সচেতনতামূলক বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি হাওরের সংরক্ষিত এলাকায় নৌযান প্রবেশ ও বর্জ্য ফেলা বন্ধে বিভিন্ন স্থানে লাল নিশানা টানানো হয়েছে। হাওরে ফেলে দেওয়া কাচের বোতল ও প্লাস্টিকের কারণে কৃষকদের নানা সমস্যায় পড়তে হয়। বোরো ফসল সংগ্রহ বা আমন ধান রোপণের সময় এসব বর্জ্যের কারণে কৃষকরা আহতও হতে পারেন। কৃষিকাজেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আমরা নিয়মিত মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছি।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: দূষণ বন্ধে হাউসবোট মালিক ও পর্যটকদের ওপর নজরদারি এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আরও কঠোর করার কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি?

 


মোহাইমিনুল হক: টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ রক্ষায় জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর, পুলিশ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সম্মিলিত উদ্যোগে শিগগিরই একটি পরিষ্কার—পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে পর্যটক, হাউসবোট মালিক ও স্থানীয় জনগণকে সচেতন করা হবে, যাতে কেউ প্লাস্টিক, পলিথিন, কাচের বোতল বা অন্য কোনো বর্জ্য হাওরে না ফেলেন। আমরা চাই, সবাই এই কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করুক। তবে কেউ নিয়ম ভঙ্গ করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সম্প্রতি একটি হাউসবোট থেকে পলিথিনসহ বিভিন্ন বর্জ্য হাওরে ফেলার বিষয়টি গণমাধ্যমে উঠে আসার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ে শুনানির মাধ্যমে ওই হাউসবোটকে ৩৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। চলতি পর্যটন মৌসুমে জুন থেকে এ পর্যন্ত মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে প্রায় ২১টি মামলা করা হয়েছে এবং প্রায় ৪৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

 


মোহাইমিনুল হক বলেন, শুধু জরিমানা করাই পরিবেশ অধিদপ্তরের উদ্দেশ্য নয়। হাউসবোট মালিক ও পর্যটকদের সচেতন করাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি পর্যটকবাহী হাউসবোটে বর্জ্য রাখার জন্য বিন থাকতে হবে এবং বর্জ্য সংরক্ষণ ও যথাযথ ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। টাঙ্গুয়ার হাওর রক্ষায় শুধু প্রশাসনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। হাউসবোট মালিক সমিতি, পর্যটক, স্থানীয় জনগণ, পরিবেশ সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সম্মিলিত সচেতনতা ও কার্যকর তদারকির মাধ্যমেই টাঙ্গুয়ার হাওরের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব বলে মনে করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার