প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:৪২
সুনামগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ নতুন বাস টার্মিনালে প্রতিদিন হাজারো যাত্রীর যাতায়াত। অথচ যাত্রীদের বসার ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানি, পরিচ্ছন্নতা, টয়লেট, পর্যাপ্ত আলোসহ প্রয়োজনীয় নানা সেবার অভাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে অভিযোগ। এই সংকটের মধ্যেই টার্মিনালটিকে আধুনিক ও যাত্রীবান্ধব করতে বড় ধরনের প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে জেলা পরিষদ।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের নিয়মিত বিশেষ আয়োজন ‘খবরনামা’য় সুনামগঞ্জ বাস টার্মিনালের বর্তমান অবস্থা, যাত্রীদের দুর্ভোগ এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সমর কুমার পাল। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের সহকারী সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম। সাক্ষাৎকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিচে তুলে ধরা হলো—
প্রশ্ন: নতুন বাস টার্মিনালে যাত্রীসেবার নানা সংকটের কথা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তাৎক্ষণিকভাবে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে কোনো উদ্যোগ রয়েছে কি?
সমর কুমার পাল: নতুন বাস টার্মিনালটি প্রায় ছয় একর জায়গাজুড়ে অবস্থিত। কয়েক বছর আগে আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণের লক্ষ্যে এখানকার পুকুর ভরাটের কাজ শুরু হলেও তা এখনো পুরোপুরি শেষ হয় নি। গত বছর প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে প্রাথমিকভাবে সোলিংয়ের কাজ করা হয়েছে, যাতে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বাসগুলো টার্মিনালের ভেতরে রাখা যায়। তবে বর্তমানে সুনামগঞ্জে যাতায়াতকারী বাসের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এই ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়।
তিনি বলেন, যাত্রীদের সব ধরনের সুবিধাসহ একটি পূর্ণাঙ্গ আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর নকশার কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে এবং ডিপিপি তৈরির প্রক্রিয়া চলছে। পরে স্থানীয় সরকার বিভাগের কাছে প্রকল্পটি পাঠানো হবে।
প্রশ্ন: টার্মিনালে আলো ও অন্যান্য মৌলিক সুবিধার অভাবে যাত্রীদের দুর্ভোগের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এ বিষয়ে কী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে?
সমর কুমার পাল: জেলা পরিষদের প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হয়। তাই তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের অবকাঠামোগত কাজ করা সব সময় সম্ভব হয় না। তবে বাস টার্মিনালকে ঘিরে একটি ব্যাপক উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদের নিজস্ব রাজস্ব দিয়ে এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তাই স্থানীয় সরকার বিভাগের সহযোগিতায় পূর্ণাঙ্গ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রশ্ন: পুরোনো ও নতুন বাস টার্মিনাল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এক ধরনের দ্বৈত পরিস্থিতি রয়েছে। নতুন টার্মিনালে বাস চলাচল পুরোপুরি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না কেন?
সমর কুমার পাল: নতুন টার্মিনালে পর্যাপ্ত সুযোগ—সুবিধা নিশ্চিত না করে কাউকে সেখানে বাস রাখতে বাধ্য করা কঠিন। বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে। বর্তমানে যে অংশে সোলিং করা হয়েছে, সেখানে বাস রাখা সম্ভব। তবে সোলিংয়ের বাইরের অংশ কাঁচা ও কাদাযুক্ত হওয়ায় সেখানে বাসের চাকা দেবে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই পুরো জায়গাটি উপযোগী না হওয়া পর্যন্ত সব বাস সেখানে স্থানান্তর করা সম্ভব নয়।
প্রশ্ন: আধুনিকায়নের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নতুন বাস টার্মিনালে কী কী সুবিধা যুক্ত হবে?
সমর কুমার পাল: সিলেটের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালকে রেফারেন্স হিসেবে নিয়ে সুনামগঞ্জে আধুনিক মানের একটি বাস টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পরিকল্পনায় প্রায় ১৮০টি বাস পার্কিংয়ের ব্যবস্থা, ১৫টি বাস বে, যাত্রীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ—সুবিধা, রেস্টুরেন্ট, দোকানপাট, হোটেল এবং মাল্টিপারপাস কনভেনশন সেন্টার রাখার চিন্তা রয়েছে।
তিনি বলেন, দূর—দূরান্ত থেকে আসা যাত্রী ও পর্যটকদের কথা বিবেচনায় নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ কমপ্লেক্স গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। ছয় একর জায়গার সর্বোচ্চ ব্যবহার করে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা গেলে এটি সুনামগঞ্জবাসীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সেবাকেন্দ্রে পরিণত হবে।
প্রশ্ন: কবে নাগাদ এই আধুনিক বাস টার্মিনালের কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যেতে পারে?
সমর কুমার পাল: নকশা প্রণয়ন, বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা এবং সয়েল টেস্টসহ ডিপিপি তৈরির আগের বিভিন্ন কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। ডিপিপি চূড়ান্ত হওয়ার পর মূল চ্যালেঞ্জ হবে প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেটের সংস্থান করা। স্থানীয় সরকার বিভাগের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে সুনামগঞ্জবাসীর জন্য একটি আধুনিক ও যাত্রীবান্ধব বাস টার্মিনাল নির্মাণ করা সম্ভব হবে।
সুনামগঞ্জের নতুন বাস টার্মিনাল এখনো পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। প্রতিদিন যাত্রীরা নানা সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে টার্মিনাল ব্যবহার করছেন। তবে জেলা পরিষদের বড় উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বদলে যেতে পারে এই চিত্র।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন