প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:৫৫
শিল্প রক্ষা ও নিয়মনীতির মধ্যে আনার আশ্বাস
ছাতকে পরিবেশের ছাড়পত্র ও অননুমোদিত ক্ষুদ্র চুন শিল্প কারখানার ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহি উদ্দিনের সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ মোজাহিদুল ইসলাম, পরিবেশ অধিদপ্তর সুনামগঞ্জের সহকারী পরিচালক মোহাইমিনুল ইসলাম, ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান এবং বন বিভাগের বিট কর্মকর্তা কেবি এম ফেরদৌস।
স্থানীয় ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি ও শিল্প সংশ্লিষ্টদের পক্ষে বক্তব্য দেন ছাতক পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহিদ মজনু, সাবেক কাউন্সিলর জসিম উদ্দিন সুমেন, ক্ষুদ্র চুন শিল্প সমিতির সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর ছালেক মিয়া, ব্যবসায়ী লিজন মিয়া তালুকদার, আশরাফুল হক খেলন, সাজ্জাদুর রহমান, সাংবাদিক সৈয়দ হারুন অর রশিদ, আব্দুল আলিম ও খালেদ মিয়া প্রমুখ।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, ছাতকে চুন উৎপাদন প্রায় ৫০০ বছরের পুরনো একটি ঐতিহ্যবাহী ব্যবসা। একসময় এই অঞ্চলের চুন দিয়ে সারা দেশের চাহিদা মেটানো হতো এবং বিদেশেও রপ্তানি করা হতো। ঐতিহ্যগতভাবে বন—খাগড়া ও লাকড়ি দিয়ে চুন পোড়ানো হলেও পরবর্তীতে কিছু কারখানায় গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমানে গ্যাস সংকটের কারণে ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে পুনরায় পুরনো পদ্ধতিতে চুন উৎপাদন করছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ও বন কর্মকর্তা তাঁদের বক্তব্যে পরিবেশ সংরক্ষণ ও জ্বালানি কাঠের ব্যবহারের বিষয়টি তুলে ধরেন। কর্মকর্তারা জানান, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার আলোকে চুন শিল্পের ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণ করা হবে। তবে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ব্যবসায়ী এবং প্রায় ১ হাজার ৮০০ শ্রমিকের কর্মসংস্থানের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে শিল্পটিকে রক্ষার চেষ্টা করা হবে। বর্তমানে ছাতকে ৫২টি ক্ষুদ্র চুন উৎপাদন কারখানা রয়েছে।
এদিকে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, তাঁরা পরিবেশের ছাড়পত্র ও ট্রেড লাইসেন্সসহ যাবতীয় সরকারি নিয়ম ও রাজস্ব প্রদান করে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে আগ্রহী। এ বিষয়ে তাঁরা প্রশাসন, বন বিভাগ এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।
মতবিনিময় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. শাহ আলম, ছাতক পাথর ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি সামছু মিয়া, ব্যবসায়ী মমিন চৌধুরী, মিজানুর রহমান জাবেদ, রুহুল আমিন, কয়েছ আহমদ, জাকারিয়া, সাহাব উদ্দিন, ইউসুফ আলী, সুহেল আহমদ, আমির হোসেন, প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন