গাছ কাটার সংখ্যায় কারসাজি

প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট, ২০২৬ ২২:৩৬

সুনামগঞ্জ—সাচনা সড়কে কতগুলো গাছ কাটা হয়েছে, এ নিয়েও ধূম্রজাল তৈরি রয়েছে। স্থানীয় লোকজন দাবি করেছেন, আট থেকে নয়শ গাছ কাটা হয়েছে, অন্যদিকে বন বিভাগের দায়িত্বশীলরা বলেছেন গাছ কাটা হয়েছে ৬৮০টি। জানা গেছে. বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ও এই সড়কে গাছ কাটার বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে। সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় লাগানো এই গাছে টেন্ডার দেবার সময়ও ‘লুটের কারসাজি’ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

 


সিলেট বন বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, বন ও পরিবেশ মন্ত্রীর নির্দেশে সুনামগঞ্জ—সাচনা সড়কে কতগুলো গাছ কাটা হয়েছে, এর ভিডিও ধারণ করে এবং সংখ্যা নিরূপন করে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 


সুনামগঞ্জ জেলা বন কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন জানালেন, সোমবার ওই সড়কে টুকের বাজারের কাছাকাছি প্রথম কাটা গাছ থেকে সাচনাবাজারমুখী সড়কের যেটুকু পর্যন্ত গাছ কাটা হয়েছে সংখ্যা গণনা করে ভিডিও ফুটেজ নিয়েছেন তারা। তাদের হিসেবে গাছ কাটা হয়েছে ৬৮০ টি। এই হিসাব এবং ভিডিও ফুটেজ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

 


তবে সড়কের পাশের গৌরারং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শওকত আলী বললেন, গাছ কাটা হয়েছে আটশ থেকে নয়শ। গাছ লাগানোর সময় এলাকায় ১০০ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি হয়েছিল। এই কমিটি গাছ লালন—পালন করেছে। এখন তারা লভ্যাংশ পাবে কী না, এই নিয়েও দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে। তিনি বললেন, গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়া দরপত্র অনুযায়ী চার হাজার চারশ ৬৮ টি গাছে ৮৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়েছে ঠিকাদার। তাতে প্রতি গাছের মূল্য পড়েছে এক হাজার ৮৯৭ টাকা। তার মতে এই মূল্য নির্ধারণের বিষয়টিও হাস্যকর। এই সড়কে যেসব গাছ কাটা হয়েছে, এর অনেকগুলোরই মূল্য ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পাওয়া যাবে। ছোট গাছগুলোও ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা মূল্যের। গড়ে প্রতি গাছের মূল্য এক হাজার আটশ ৯৭ টাকা নির্ধারণ করায় যে কেউ বুঝবে এটা ‘লুটপাটের কারসাজি’। তিনি দাবি করলেন, গাছের ডালের মূল্যও এর চেয়ে বেশি হবে।

 


প্রসঙ্গত, ‘সাড়ে চার হাজার গাছে পড়েছে লোভের কুড়াল’ দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে রবিবার এই সংবাদ ছাপা হবার পর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান এই সড়কে গাছ কাটা বন্ধের নির্দেশ দেন। কেন এই গাছগুলো কাটা হয়েছে এটি উদঘাটনের জন্য তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিও করে দেন। জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিক গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, সওজ—এর নির্বাহী প্রকৌশলী স্পষ্ট করেছেন, যে সেখানে সড়ক প্রশস্থকরণের কোনো প্রকল্প বা নির্দেশনা তাদের নেই। ফলে গাছ কাটার বিষয়টি স্থগিত রাখা হয়েছে এবং কেন অনুমতি ছাড়া গাছ কাটার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটিকে দ্রুত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

 


২০০৪ সালে সামাজিক বনায়নের আওতায় এই সড়কে প্রায় ২০ হাজার গাছ লাগানো হয়। পরিবেশকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ছায়াবৃক্ষগুলো পরিবেশ ও মানুষের জীবন রক্ষায় জরুরি ছিল।  সোমবার হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন জেলা প্রশাসকের বরাবরে দেওয়া স্মারকলিপিতে ‘সামাজিক বনায়নের গাছ কাটার অনিয়ম দূর করা, বন বিভাগের অস্বচ্ছতা দূরীকরণ এবং পরিবেশবান্ধব ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে’ গাছ কাটার বিষয়ে ব্যবস্থা নেবার দাবি জানিয়েছে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার