প্রকাশিত: ২৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:৪৭
বিয়ের মাত্র দেড় মাসের মাথায় স্বামীর ঘর থেকে টাকা ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার নিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক নববধূর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্ত্রী ও তাঁর কথিত প্রেমিকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী স্বামী নাজমুল হক।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সুনামগঞ্জ সদর আমলগ্রহণকারী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার আসামিরা হলেন— সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের ভৈষবেড় গ্রামের মোছা. মার্জানা বেগম ও তার প্রেমিক কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচড় উপজেলার রামদী ইউনিয়নের রামদী বড়চড় গ্রামের আলহাজ মিয়ার ছেলে মিনহাজুল ইসলাম স্বপন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জুলাই ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক নাজমুল হকের সঙ্গে মার্জানা বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই মার্জানা সংসারের প্রতি উদাসীন হয়ে পড়েন এবং আসামি স্বপনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। স্বামী নাজমুল বারবার সতর্ক করলেও তিনি তা উপেক্ষা করেন।
গত ২১ আগস্ট বিকেলে নাজমুল ব্যবসায়িক কাজে বাজারে যান। এই সুযোগে মার্জানা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ফোনে প্রেমিক স্বপনকে বাড়িতে ডেকে আনেন। পরবর্তীতে ঘরে রক্ষিত ব্যবসার ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং প্রায় চার ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে স্বপনের সঙ্গে পালিয়ে যান তিনি।
নাজমুল বাড়ি ফিরে স্ত্রীকে না পেয়ে তাঁর ফোনে কল দিলে অপর প্রান্ত থেকে স্বপন ফোন ধরে জানান যে, মার্জানা তাঁর সাথে চলে এসেছে এবং তাঁরা একসঙ্গে সংসার করবে। ঘটনার পর নাজমুল তাৎক্ষণিকভাবে সুনামগঞ্জ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
ভুক্তভোগী স্বামী নাজমুল হক বলেন, বিয়ের পর সংসার ভালোই চলছিল। হঠাৎ কোনো কারণ ছাড়াই স্ত্রী টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে গেছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. মনির হোসেন বলেন,আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদনসহ আদালতে নালিশি মামলা করা হয়েছে। আদালত মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
অভিযুক্ত মার্জানা বেগম ও মিনহাজুল ইসলাম স্বপনের ফোন বন্ধ থাকায় তাঁদের কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ রতন শেখ বলেন, ঘটনার পর ভুক্তভোগী স্বামী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। বিষযটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে পুলিশ।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন